মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজারে তাবিল প্লাজায় প্রতিষ্ঠিত দারুস সালাম নূরানী মডেল মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে নাজেরার সবক প্রদান ও বিভিন্ন ক্লাসের কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আজ বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ওই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত চলার পর যুহর নামাজের বিরতি হয়। নামাজ আদায়ান্তে নূরানী সম্পন্ন করনেওয়ালা ১৬ জন শিক্ষার্থীকে নাজেরার সবক প্রদান করা হয়। সবক প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইত্তেফাকুল উলামা হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার সহসভাপতি ধারা কুরআনিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম পীরে কামিল মাওলানা ফরিদ আহমাদ দামাত বারাকাতুহুম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হাফেজ আব্দুল আজিজ দামাত বারাকাতুহুম। দারুস সালাম নূরানী মডেল মাদরাসার পরিচালক ইত্তেফাকুল উলামা ধারা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী নেতা হাফেজ মাওলানা ফয়জুর রহমান রাসেলের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন,

ইত্তেফাকুল উলামা ধারা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জামিয়া হুসাইনিয়া দারুল উলূম মাঝিয়াইল মাদরাসার সিনিয়র উস্তাদ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, ধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি সাইদুর রহমান রাজু,

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম মিশু, কয়রাহাটির কৃতি আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হাদী, পূর্ব ধারার মাওলানা মারফত, মাদরাসার উস্তাদ হাফেজ মাসুূম বিল্লাহ, শিক্ষক ফজলে রাব্বী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম, অভিভাবক দেলোয়ার হোসেন, সুমন, উবায়দুল, মহিলা অভিভাবক শারমিন আক্তার, দারুল ইহসান (এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড) মাদরাসার পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম নীতি ঠিক রেখে আদর্শ, আল্লাহওয়ালা ও সুযোগ্য উস্তাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালালে প্রতিষ্ঠান এলাকায় যতই বেশি হোক না কেন চলবে। উস্তাদদেরকে নামাজী, তাহাজ্জুদগুজার হতে হবে। ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। নামাজ মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সাথে আদায় করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরে নয় বরং শিক্ষককে আগেই ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকেও প্রতিষ্ঠানের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। হাফেজ বা আলেমের বাবা-মা হতে হলে নামাজী হতে হবে। সুন্নাতের পাবন্দ করতে হবে। ঘরে টেলিভিশন রাখা যাবে না। মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উস্তাদ ও আলেমদের মহব্বত করতে হবে। বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় শাসনের জন্য রাগ না করে বরং উস্তাদকে অনুরোধ করতে হবে। সবক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ইলম পেতে হলে তিন জিনিসকে মহব্বত করতে হবে। আর তা হলো, কিতাব, উস্তাদ ও মাদরাসা। কিতাবের পাতা ছেঁড়া যাবে না। কাগজ, কলম বা কিতাব রাখার শেলফসহ এগুলোকে মহব্বত করতে হবে। উস্তাদের মনমত নিজেকে চালাতে হবে। উস্তাদ ও তার সন্তানাদিসহ আত্মীয় স্বজনকে মহব্বত করতে হবে। মাদরাসার কোন জিনিস নষ্ট করা যাবে না। মাদরাসার দুর্নাম হয় এমন কোন কিছু করা বা বলা যাবে না। সবশেষে মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফরিদ আহমাদ দামাত বারাকাতুহুম।