আজ
|| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
ভাঙা সড়ক সংস্কার ও নাগধরা নদীতে ব্রিজ নির্মাণে হালুয়াঘাটের কৃতি সন্তানদের দৃষ্টি আকর্ষণ
প্রকাশের তারিখঃ ১ নভেম্বর, ২০২৪
মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা আমার উপজেলা। ভারতীয় সীমান্ত এলাকা এটি। এই উপজেলাটি অনেক সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। সীমান্ত ঘেঁষে এতে রয়েছে ছোট বড় অনেক টিলা বা পাহাড়। ইতোমধ্যে গাবরাখালী পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। হতে পারে চা বাগানও। আর কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া কয়লার ডিপো তো আছেই। এছাড়াও আরও নানা ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এর জন্য দরকার সড়ক উন্নয়ন। ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ। দেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৫০ বছর ছাড়িয়ে গেছে কিন্তু আজও হালুয়াঘাটে রাস্তাঘাটের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। হয়নি আজও অনেক ব্রিজ নির্মাণ। এর ফলে আমরা কিন্তু এখনো সেই এনালগ আমলের মধ্যে রয়ে গেছি।

উপজেলার ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের পূর্ব নড়াইল দাখিল মাদরাসা থেকে উত্তর দিকে কালিয়ানিকান্দা হয়ে হালুয়াঘাট যাওয়ার পথে নাগধরা নদীতে একটি ব্রিজের দাবি আমরা বহুদিন ধরে করে আসছিলাম। এ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। এমপির ডিও লেটার নিয়ে সচিবালয়ে গিয়ে জমা দিয়ে এসেছি। এরপর দুই তিন দফা ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে লোকজন গিয়ে মাপ এনেছেন। অর্থাৎ ব্রিজ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।

এরই মাঝে আরেকদিন উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে শুনি, এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম সাবেক এমপি জুয়েল আরেংকে নিয়ে তারা আলাদা আরেকটি ডিও লেটার সাজিয়ে নিয়ে জমা দিয়েছেন সচিবালয়ে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি এটিকে পজিটিভলি নিয়েছি।
হয়তো আমি ছোট মানুষ বলে আমার দাখিল করা ডিও লেটারটি গুরুত্ব দেবে না সরকার। এজন্য তারা পৃথক আরেকটি ডিও লেটার জমা দিয়েছেন। এতে আমার কোন সমস্যা নেই। আমি এটিকে পজিটিভলি দেখেছি। আমার কথা হলো, আমার নামের দরকার নেই; কাম হলেই হলো। এলাকার উন্নয়ন হলেই হলো।

প্রথম যখন নাগধরা নদীতে ব্রিজের জন্য আবেদন নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম তখন তারা যাচাই বাছাই করে দেখছিলেন যে, এ বিষয়ে আগে আরও কেউ কোন আবেদন দাখিল করেছেন কি না কিন্তু পাওয়া যায়নি। অথচ তখনও কিন্তু আমাদের নড়াইলে বাঘা নেতা সাবেক এমপি এমদাদুল হক মুকুল ভাই ছিলেন। যিনি একটু ইশারা দিলেই কাজ হয়ে যেত। হয়তো এমন হতে পারে যে, বিষয়টি উনার জেহানে ছিল না। কেউ তাকে ধরিয়ে দিবেন সে রকমও দেয়নি। যে কারণে দীর্ঘদিনেও আমরা নাগধরা নদীতে ব্রিজ পাইনি।
আমরা একটু বড় হয়ে এ বিষয়ে ফিকির করেছি। যেহেতু পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করি তাই এ বিষয়ে অগ্রসর হলাম। সাধ্যানুযায়ী একটু দৌড়াদৌড়ি করলাম। বিষয়টি যখন এলাকায় এবং উপজেলায় সাড়া পড়ছিল তখন আমাদের সাবেক এমপি মুকুল ভাইয়ের একমাত্র ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পরবর্তীতে সাবেক এমপি মাহমুদুল হক সায়েম এ বিষয়ে মনোযোগ দেন এবং তিনি জুয়েল আরেংয়ের নিকট থেকে আলাদা ডিও লেটার নিয়ে জমা দেন। সাথে জুয়েল আরেংও ছিলেন। এবার দ্রুত হবে, ধারণা হয়েছিল।
এমনকি সায়েম যখন এমপি হলেন তখন আমরা শুনছিলাম যে, হালুয়াঘাটে নাগধরা নদীতে ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি ব্রিজ হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতনের পর এগুলোর আর কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে হ্যাঁ, আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন এলাকার ন্যায় আমাদের হালুয়াঘাটেও বেশ কিছু সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছিল। বর্তমানে অযত্ন অবহেলায় এগুলো বিনষ্ট হওয়ার পথে।
ভেঙে যাচ্ছে এসব রাস্তা বিভিন্ন জায়গায়। ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক হতে ইটাখোলা থেকে আলিশা বাজার যাওয়ার রাস্তায় বেশ কয়েক জায়গায় পাকা সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। একই অবস্থা নাগলা বাজার থেকে নাশুল্লা বাজার, ভাট্টা বাজার ও শাকুয়াই বাজার হয়ে কৈলাটি গোয়াতলা বাজারের রাস্তায়। ওই রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙন জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হলে অল্প টাকায় হয়ে যাবে। আর যদি দেরি করা হয় তাহলে এখন যেটা হাজার টাকা দিয়ে হয়ে যাবে সেটা কোটি টাকা লাগবে। কারণ ভাঙন বাড়লে তখন পুরো রাস্তা সংস্কার করতে হবে।
এগুলো আমাদের সম্পদ। কোন সরকার আইলো গেলো তা না দেখে আমাদের সম্পদ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। ভাঙনের এ চিত্র শুধু এই রাস্তার নয় বরং আমার মনে হয় পুরো উপজেলার চিত্র এটি। কাজেই বিষয়টি দেখার জন্য বিশেষ করে আমাদের নাগধরা নদীতে একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করার জন্য হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ভাই ও নাগলা বাজার এলাকার কৃতি সন্তান তথ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ হালুয়াঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান যে যেখানেই আছেন আপনাদের নিকট যথাযথ ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.