• বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসার সভা ৮ জানুয়ারি, আল্লামা মামুনুল হকসহ আসছেন দেশি-বিদেশি শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় হিফজুল কুরআন ও আজান প্রতিযোগিতা ফুলপুরে জামিয়া দারুল আরকাম মহিলা মাদরাসায় খতমে বুখারী উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল

পদ্মাপাড়ে প্রথম দিনে ২০৬ সাংবাদিকের মিলনমেলা

Reporter Name / ১০৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মৈনট ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মাপাড়ে দুইদিন ব্যাপী সাংবাদিক মিলনমেলার প্রথম দিনে ২০৬ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক ক্রাইম রিপোর্টার সাইদুর রহমান রিমনের আহ্বানে দেশের ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছুটে আসেন এসব সাংবাদিক। দূরের সাংবাদিকরা ঢাকার গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারে এসে জমা হন। এরপর সাংবাদিক মীর আলা উদ্দিন ও তার টিম তাদের রিসিভ করে একটি বাসে করে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন।

মৈনট ফেরিঘাটে অর্থাৎ পদ্মাপাড়ে অতিথি সাংবাদিকদের অভ্যর্থনা জানান যুবরাজ, নিয়াজ ও শহিদুল। এরপর অতিথিদের আসন গ্রহণ করান সাংবাদিক এম এ আজিজ। তারপর স্বাগতঃ ও মূল বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ১১ বার  স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন। এরপর অতিথিদের জুমার নামাজে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি মো. আব্দুল মান্নান, দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছির উদ্দিন পল্লব ও সাংবাদিক আফজাল হোসেন।

জুমার পর খাবারের টোকেন সংগ্রহ ও লঞ্চ ভ্রমণ। লঞ্চে বসে খাবার গ্রহণ করা হয়। আইটেম ছিল অত্যন্ত চমৎকার। সাদা ভাত, গরুর গোশত, খাসির গোশত, ছোট মাছের তরকারি, আলু ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা ও মশুর ডাল। লেবু, সালাদ, বিশুদ্ধ পানি তো ছিলই। সবমিলিয়ে সবই খুব সুস্বাদু হয়েছিল খাবার।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর পল্লব ও তার টিমের তত্ত্বাবধানে  কিছুক্ষণ নৌকা ভ্রমণ শেষে পুনরায় মিলনমেলা মঞ্চে ফিরে আসা হয়। এর আগে দুপুরের খাবারে দায়িত্ব পালন করেন সোহেল সর্দার, সোহাগ আরেফীন ও ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। তারপর দুদু মল্লিক ও আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে আসরের নামাজ আদায় করা হয়। আসরের পর সম্মিলিত উদ্যোগে পদ্মাপাড়ে কিছুক্ষণ আনন্দ ঘুরাঘুরি করা হয়।

এরপর মো. আব্দুল মান্নান ও আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়। মাগরিবের পর কিছুক্ষণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে নবীনগরের কথা টকশোর উপস্থাপক সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেব নাথ অপুর উপস্থাপনায় সাংবাদিক আত্মকথা পর্বে সংক্ষেপে বক্তব্য তুলে ধরা হয়। বক্তব্য রাখেন, সরাইলের মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহবুব খান বাবুল। এক এসআইয়ের দুর্নীতির নিউজ করায় উনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছিল। মামলা হয়েছিল। সাংবাদিকরা তার পাশে থাকেনি। সেই নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন তিনি। এরপর এলাকাবাসী তার পাশে দাঁড়ালে মুক্তি পান এই সাংবাদিক।

এরপর বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলোর সাংবাদিক আজহারুল হক। শাহেদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় তার নামেও মামলা হয়েছিল। তাকে ঢাকায় দিয়াবাড়ি এলাকায় ক্রস ফায়ারে নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে তার এতিম সন্তানের দোহাই দিয়ে  মুক্তি পান তিনি। তিনি বলেন, আমি শক্তের ভক্ত না বরং নরমের ভক্ত আর শক্তের জন্য শক্ত।

এরপর বক্তব্য রাখেন সোহাগ আরেফীন। তিনিও শাহেদের রোষানলে পড়ে বহু মামলা ও পেরেশানি ভোগ করেছেন। তার নামে নয় শুধু বরং তার যে সকল বোনের বিয়ে হয়ে গেছে দূরে তাদের নামেও মামলা করেছিল শাহেদ। এসব মামলায় পড়ে তিনি বহু বড় বড় সাংবাদিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীতে এসব মামলা একাই ফেইস করে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে কেউ না থাকলেও তিনি থাকবেন। সেই থেকে তিনি নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে থাকেন। পদ্মাপাড়ে যে সাংবাদিক সংগঠন গড়ে উঠবে এর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, আমি ওভার শিউর। আসলেই আমরা একটা কিছু দিব আপনাদেরকে।

এরপর বক্তব্য রাখেন সময় টিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি আলপনা বেগম। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা মানে অন্যায় ক্ষমতাধরদের বিরোধিতা করা। এ পেশায় এসেছি এদের বিরোধিতা করার জন্য।  তা করতে হবে। এমনকি বিরোধীদেরকে ধাক্কা দিতে হবে। দিলেই এরা সাংবাদিকদের স্যালুট করবে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠের লাকসাম প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান দুলাল ও এনটিভির ভোলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আফজাল হোসেন। আফজাল হোসেন বলেন, কি বলবো? আমি এখানে আসার পরও বার বার ফোন আসছে। আমার নামে মামলা হচ্ছে। এসময় তিনি তার জীবনের কষ্ট তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উনার বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। সাংবাদিকতা করেন ভোলায়। তার যশ খ্যাতি মেনে নিতে পারেন না স্থানীয় কিছু সাংবাদিক। বার বার তাকে অন্যায়ভাবে টর্চার করা হয়। তারপর সাংবাদিক নেতা রিমন বলেন, নির্যাতিত সাংবাদিক  আফজালকে দিয়েই শুরু করবো এ সংগঠনের সাংবাদিক বান্ধব কার্যক্রম।

এরপর মো. আব্দুল মান্নান ও দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ইশার নামাজ আদায় করা হয়। ইশার পর পুনরায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাতের খাবার ও সবশেষে ঘুমে যাওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা