• রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোট রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে তারাকান্দায় বিশাল মিছিল ফুলপুরে হাফেজ নাজমুল ইসলাম আর নেই আগে যেভাবে নির্বাচন করতেন সে কথা ভুলে যান– জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেন জমিয়তের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ ফুলপুরে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ অভিযান, জরিমানা আদায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করলেন হাতপাখার প্রার্থী মুফতী গোলাম মাওলা ভূঁইয়া ফুলপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পেলেন রুবেল মিয়া নির্বাচনি আচরণ বিধি সম্পর্কে ফুলপুরে অবহিতকরণ সভা সুজন ও মতির প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় প্রার্থী মুফতী মোহাম্মদুল্লাহ চূড়ান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম ফুলপুরের কৃতি সন্তান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই

কষ্টে গাঁথা মফস্বল সাংবাদিকতা

Reporter Name / ৯৭ Time View
Update : বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
আগে মনে করতাম আমার মত এত কষ্ট মনে হয় আর কেউ পায়নি। সাংবাদিকতায় এসে আমি এত কষ্ট পেয়েছি! তবে বাংলাদেশের নির্যাতিত সাংবাদিকদের অভিভাবক শ্রদ্ধেয় সাইদুর রহমান রিমন ভাইয়ের পরিকল্পনায় পদ্মাপাড়ে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরে আয়োজিত সাংবাদিক মিলনমেলাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু ভাইয়ের সঞ্চালনায় প্রচারিত ‘নবীনগরের কথা’ টকশো থেকে যা জানলাম, সাংবাদিক নির্যাতনের যে চিত্র এতে উঠে এসেছে তা শুনে এছাড়া কক্সবাজারের নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক ভাইকে যে নির্যাতন করা হয়েছে এগুলো দেখে আর মনে হয় না যে আমি অনেক বেশি নির্যাতিত।
তারপরও আমার কিছু কষ্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এ পেশায় এসে অনেক কষ্ট পেয়েছি। বিনা অপরাধে বিভিন্ন সময় আমাকে অনেকে কষ্ট দিয়েছেন। কষ্টের ওই দিনগুলোতে পাশে পাইনি যাদের সাথে চলেছি সেসব সাংবাদিকদের। বরং তাদের একটি অংশ এতে তেল ঢেলেছেন। আমাকে পাগল বলা হয়েছে। আমি কি পাগল? হালুয়াঘাট থেকে ২০০৯ সনে এসে পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলা সদরে একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছি। এতে ফুলপুরের বেশ কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমার অধীনে তারা কাজ করেছেন। অথচ আমাকে বলা হয়েছে বাউইল্যা। আমি কি বাউইল্যা? আনাকে পেটানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেন?
আমার জন্ম ১৯৭৩-এ। অথচ আমাকে বলা হয়েছে রাজাকার। আমাকে জামাত, শিবির, বিএনপির লোক বলা হয়েছে। অথচ জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন দলই আমি করিনি। আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করা একজন সাংবাদিক অনিয়মভাবে করা তার সংগঠনকে আমি সমর্থন না করায় তিনি প্রকাশ্যে জনসমক্ষে আমাকে গালিগালাজ করেছেন। পথচারীরা রিকশা থামিয়ে শুনেছেন। ভয়ে উপস্থিত কেউ প্রতিবাদ করেননি। আমি ইমামতি কেমনে করি তা তিনি দেখবেন। আমার চাকরি খেয়ে ফেলবেন। আমাকে ছাত্র লীগ দিয়ে পেটাবেন। না পেটাতে পারলে তিনি নূরুল আমিনের পুত না। এমনকি আওয়ামী লীগের যে সকল সিনিয়র ও উচ্চ পদস্থ নেতা আমাকে সম্মান করে থাকেন তাদের নাম উচ্চারণ করে বলা হয় ওরা তরে বাঁচাতে পারবে না। আরও এমন সব ভাষা আমার উপর প্রয়োগ করা হয়েছে যা মুখে নিতে লজ্জা লাগে। এসব গালিগালাজের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেননি। বাইরের দুয়েকজন প্রতিবাদ করলেও যাদের সাথে প্রেসক্লাব করেছি তাদের বড় একটি অংশ চুপ থেকেছেন। মজা লুটেছেন।
একবার একটি দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর নিউজ করেছিলাম। তাদের দুটি গ্রুপ কর্মসূচি পালন করেছিল। আমি নিউজের সাথে দুই গ্রুপের দুটি ছবি পাঠিয়েছি কিন্তু একটি ছবি ছাপানো হয়। পরে যে গ্রুপের ছবি আসেনি ওরা আমাদেরই রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা সাংবাদিকের পরামর্শে আমাকে হেনস্তা করে। প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে একজন সাংবাদিকের দোকানে ডেকে নিয়ে শুধু শরীরে টাচ করেনি আর সবই করেছে। ওই সাংবাদিক তখন অনুপস্থিত ছিলেন। যারা আমাকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেছে ওরাই আমাদের সিনিয়রদের নাম ধরে বলেছে যে, কেন তাদের ছবি এলো না জিজ্ঞেস করতে চাই। পরে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা সাংবাদিকরা তাদেরকে বলে দিয়েছেন যে, তোমরা পারলে তাকে জিজ্ঞেস করগা। আরেকবার আমার এক সত্য নিউজ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাওয়ায় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা এক সাংবাদিক আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে উঠিয়ে আনতে যান। পরে আমি তাদের সাথে যেতে না চাইলে পরে ওই সাংবাদিক বলেন, পরে পোলাপান এসে ধরে নিয়ে গেলে আমাকে কিছু বলতে পারবেন না বলে ভয় দেখায়। এরপর ওই নেতার অফিসে নিয়ে যায়। পরে সেখানেও আমাকে অপমান করা হয়। ময়লা আবর্জনার নিউজ করায় আওয়ামী লীগের এক মেয়র আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে সকল কাউন্সিলর কর্মচারীদের সামনে থ্রেড দিয়েছেন। একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী একটি নিউজের জন্য আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন আপনি আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লেখলেন কেন? অথচ ওই নিউজে কোন চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার চেয়ারম্যান এতে জড়িত সন্দেহে সে আমাকে হুমকি দেয়।
ফুলপুরে ঢিলেঢালা লকডাউন শিরোনামে নিউজ করায় তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে ওসি আমাকে ডেকে নিয়ে থ্রেড দেন। হালুয়াঘাটের এক বিএনপি নেতা বর্তমানে যিনি কেন্দ্রীয় নেতার সাথে উঠাবসা করেন। সাপ্তাহিক পারাপার পত্রিকার একটি নিউজে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে ফোন দিয়ে আমাকে বলছিলেন, তোর হাঁটুর নিচে থাইক্যা কাইট্যালবাম। তোরে ঠিক করবার লাইগ্যা দশ লাখ টাকা রাইখ্যা দিছি। পরে তিনি থানায় গিয়েছিলেন মামলা করার জন্য কিন্তু নিউজে এমন কোন কিছু পাননি যে ওসি মামলা নিতে পারেন। প্রিয় পাঠক, আপনারা হয়তো জানেন, আমার লেখালেখি শুরু নব্বই দশকে। ইনকিলাব উপহারে আমার প্রথম ফিচার ছাপা হয়েছিল। ‘মামু মোরে করেছে মহৎ’ ফিচার লিখে সেরা হয়েছিলাম। এরপর সময়ের সংবাদ, তথ্যধারা, নয়া দিগন্ত, আলোকিত বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ প্রতিদিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলাদেশের খবর, বাংলাদেশ বুলেটিন, প্রতিদিনের কাগজ, এমটি নিউজ ও দৈনিক বাংলাদেশ নিউজসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়েছে বা পাবলিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ নামে একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত আছি।
বিভিন্ন পত্রিকায় লেখলেও ফুলপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম কার্ড পেয়েছি ১২.১২.১২ তারিখে। এ সময় থেকে নিয়মিত উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। এগুলো করতে গিয়ে অনেকের পিছনে অনেক টাকাও খরচ করেছি। কার্ড নেওয়া, পত্রিকা চালানো ও বিজ্ঞাপনের চাপ সামলানোসহ অনেক কষ্টই করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় বসদেরও মন তুষ্ট রাখতে হয়েছে।
এক পত্রিকা অফিসের একজন বস একবার আমার নিকট দশ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক দিতে পারিনি। তিনদিন পর যোগাড় করে ফোন দিলে তিনি অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন, আর লাগবে না। এরপর তিনি আমাকে ওই পত্রিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করেন। প্রিন্ট ভার্সনে আমার মেইল ব্লক করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পত্রিকায় আমার নিউজ ছাপা হয়নি। শুধু অনলাইনে পাবলিশ হতো। পরবর্তীতে অনলাইন ভার্সনেও যাতে আমার নিউজ পাবলিশ না করা হয় সেজন্য তিনি অনলাইন ইনচার্জকে চাপ প্রয়োগ করেন। এক পর্যায়ে অনলাইনেও আমার নিউজ পাবলিশ করা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে আমার স্থলে আরেকজনকে নেওয়ার জন্য কথাবার্তা পাকা করেন অফিসের সেই বস। এরই মাঝে হঠাৎ উনার ডিমোশন হয়। উনার চেয়ারে বসেন আরেকজন। তিনি আমাকে মোবাইল করে অফিসে নেন এবং নিয়মিত লেখা পাঠাতে বলেন। পরে আবার অনলাইনসহ সব সেকশনে আমার লেখা আসতে থাকে।
সাংবাদিক হয়ে পড়েছি সাংবাদিকের রোষানলেও। কৌশলে আমার নিকট থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। আমি একটি পত্রিকায় ফুলপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। আমাকে যাতে এ থেকে বাদ দেওয়া হয় এজন্য বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অপচেষ্টা করেছেন। নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে ঘুরেছেন। অফিসে যিনি চাকরি করেন তার আত্মীয়কে নিয়ে গিয়ে সুপারিশ করেছেন কিন্তু সম্ভব হয়নি।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করেছেন। ছোটবেলা থেকে নিজেকে চেক দিয়ে চলি। কেউ যেন কোন বাজে মন্তব্য করতে না পারে সে চেষ্টা করি। এরপরও কেন এত বাজে মন্তব্য? এটাই আমার কষ্ট। কষ্ট প্রকাশ করার উদ্দেশ্য সবাইকে সতর্ক করা। কেননা, এগুলো অনেক সময় বড় অপরাধের দিকে ধাবিত করে। এজন্য এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সকলের দোয়া চাই। আর রিমন ভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এ সংগঠনের কাছে দাবি জানাই, যে সকল সাংবাদিক এ রকম বিনা অপরাধে মানুষকে কষ্ট দেয়, মানহানি করে এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা দুষ্ট প্রকৃতির চাঁদাবাজ, ষড়যন্ত্রকারী হলুদ সাংবাদিকদের মূলোৎপাটন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তাওফীক দান করুক।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা