আজ
|| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
তোফাজ্জল চেয়ারম্যান অসুস্থ, দোয়ার দরখাস্ত
প্রকাশের তারিখঃ ৬ অক্টোবর, ২০২৪
মো. আব্দুল মান্নান :
ফুলপুরের বিশিষ্ট মুরুব্বি ৬নং পয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম তোফাজ্জল হক চেয়ারম্যান সাহেব অসুস্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম, তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শুনে মনে মনে কষ্ট পাচ্ছি। এই মুরুব্বির কাছে আমি নানাভাবে ঋণী। উনার জামাতা মরহুম আব্দুল মতিন মতি ভাই যিনি ফুলপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, উনার কাছেও আমি ঋণী। ঋণী বলতে টাকা পয়সায় না, আদর স্নেহ ভালবাসা দিয়ে ঋণী করেছেন উনারা আমাকে।

২০০৯ সনে এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসা কলেজ রোডে উদ্বোধন করার সময় এমপি ছিলেন হায়াতোর রহমান খান বেলাল সাহেব। উনাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল কিন্তু আসতে পারেননি। কারণ, উদ্বোধনের ২-৩ দিন আগে উনার ছোট ভাই ইন্তেকাল করেছিলেন। এজন্য তিনি বেশ কয়েকদিন ঘর থেকে কোথাও বের হননি। মতি ভাই উপস্থিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে একদিন সাবেক এমপি বেলাল খান মহিলা মাদরাসা থেকে একটি অনুষ্ঠানশেষে ফেরার পথে আমাদের মাদরাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্ররা সালাম দিলে তিনি জায়গাতেই গাড়ি থামিয়ে ছাত্রদের সাথে মুসাফাহা করেন ও ভেতরে তাশরীফ নিয়েছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মতি ভাই তখন উনার সাথে ছিলেন। ভেতরে ঢুকে মাদরাসার পরিবেশ ও সবার এক কালার পোশাক (ইউনিফর্ম পরিহিত) দেখে মুগ্ধ হয়ে যান এমপি সাহেব এবং বলেন, বাহ, কী সুন্দর মাদরাসা! এটা কবে হলো? আমি তো জানি না। তুমি জান, মতি? মতি ভাই তখন সঙ্গে সঙ্গে বলছিলেন, জি, স্যার। আমি জানি। আমাকে জানাইছে। সেই সময়টাতে মাদরাসা গড়ে ওঠা মানে কেউ কেউ জঙ্গি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মত মনে করতো। এমপি সাহেবকে প্রধান অতিথি করে উনার বাড়িতে গিয়ে ভিআইপি কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দিয়ে আসলেও তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন। এমপি সাহেব স্বাভাবিকভাবেই বলছিলেন তারপরও বিষয়টি তিনি 'জানেন না' শুনতে কেমন যেন শোনায়! তখনকার সিচুয়েশনে এটা আমার জন্য বিব্রতকর ছিল। সেই সময়টাতে একদম নিঃসঙ্কোচে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতি ভাই সাথে সাথে বলছিলেন জি, স্যার, আমি জানি। আমাকে জানাইছে। বিষয়টি আমাকে এত মুগ্ধ করেছিল যে, আমি উনাকে ভুলতে পারি না। উনার মৃত্যুর সময় আমার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল শুধু ওই দিনের স্মৃতিটুকু মনে করে। তার জন্য আমার অন্তর থেকে দোয়া আসে। পরবর্তীতে আমাদের মাদরাসার পরিবেশ এবং লেখাপড়ার মান দেখে নিজের ছেলেকে এক্সিলেন্টে ভর্তি করার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন মতি ভাই। উনার বড় ছেলে তখন ছোট ছিল। যে কারণে তিনি নিজে ভর্তি করে যেতে পারেননি। হায়াত শেষ হয়ে যায়। উনার ইন্তেকালের পরে ছেলে একটু বড় হওয়ার পর উনার শ্বশুর এই তোফাজ্জল চেয়ারম্যান সাহেব উনার নাতিকে আমাদের মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন। মতি ভাইয়ের মত একই রকম ভালবাসা দেখিয়েছেন উনার শ্বশুর তোফাজ্জল চেয়ারম্যান সাহেব। তিনি একজন কবিও বটে। লেখালেখিতে উনার যথেষ্ট যশ রয়েছে। 'স্মৃতি' নামে উনার লেখা একটি কবিতার বই তিনি আমাকে হাদিয়া দিয়েছিলেন। উনার ভাই ফুলপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ফজলুল হক দুদু মিয়ার স্মৃতিচারণ করা হয়েছে বইটিতে। এছাড়া উনার আব্বা আম্মাকেও স্মরণ করে কবিতা লিখেছেন তিনি। আমি কলেজ রোডে থাকাকালীন বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে আমার প্রায় প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে তিনি আমাকে ধন্য করেছেন। পথেঘাটে দেখা হলে এত সম্মান তিনি আমাকে করেন, আসলে আমি উনার নিকট এতটা সম্মান কোনদিন আশা করিনি এবং আমি এর উপযুক্তও না কিন্তু সেটাই তিনি আমাকে দিতেন। এভাবে জনে জনে তারা আমাকে ঋণী করে রেখেছেন। উনার ছোট ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম সিরাজুল হক সাহেবকে নিয়ে লেখলে লেখার কলেবর আরও অনেক বড় হয়ে যাবে। উনার নিকট থেকেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সহযোগিতা নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বলতে গেলে ওই এলাকাটাতে থাকাকালীন উনাদের সবারই সহযোগিতা ছিল আমার পাশে। এজন্য উনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি তাদের ভুলতে পারি না। আমি ছোট মানুষ হিসেবে সবাইকে বলবো, আপনারা চেয়ারম্যান সাহেবের জন্য দোয়া করবেন। আমি নিজেও কুরআন তিলাওয়াত করে উনার জন্য দোয়া করবো। আমাদের মসজিদে মুসল্লীদের নিয়ে উনার জন্য দোয়া করবো, ইনশাআল্লাহ। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের C.B.M.C হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.