মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ‘ফুলপুর প্রেসক্লাব’ দুই গ্রুপে বিভক্ত। দুই গ্রুপের দুইজন সভাপতি, দুইজন সাধারণ সম্পাদক। এভাবে পদপদবি বহন কর হচ্ছে। অপরিচিত কেউ শুনলে নিশ্চয়ই খটকা লাগবে যে, শুনলাম ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমুক। আবার শুনতেছি অমুক। আসলে কোনটা সঠিক? বিষয়টি পীড়াদায়ক। এই দুইটি প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ছাড়া আরও কিছু সাংবাদিক রয়েছেন যারা অন্য নামে সংগঠন করছেন। কেউবা কোন সংগঠনেই নেই। বিচ্ছিন্নভাবে চলছেন নানা তিক্ততার শিকার হয়ে। এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় অপমান অপদস্তও হতে হয় কিছু কিছু জায়গায়। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও হচ্ছে না কারো। সাংবাদিকরা নিজেরা উন্নয়ন বঞ্চিত এবং ফুলপুরের মানুষও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে উন্নয়নটা সম্ভব ছিল তা হচ্ছে না। তাই সকল গ্রুপের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে এ অধম প্রতিবেদক কাজ করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। সকল গ্রুপের নেতাদের সাথে দফায় দফায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তারা আমাকে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। উদ্যোগ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছি। পত্রিকায় লিখেও ঐক্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। বিশেষ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ৫ আগস্টের পর দুই দুইবার প্রেসক্লাবকে সংস্কার করাসহ ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমি উদ্যোগ নিয়েছি এবং আলোচনা সভা আহ্বান করেছিলাম।

দিন তারিখ ঠিক করে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কিন্তু তেমন কোন সাড়া মেলেনি। এরপরও নিরাশ হইনি। চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। কিভাবে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ করা যায় এ নিয়ে বার বার ফিকির করেছি। কাকে কোন পদে রাখা যায় এরকম একটা ছক নিজে নিজে এঁকেছি। আমার খেয়াল আমি পেশ করেছি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে আমি আমার খেয়াল পেশ করেছি। আমার খেয়াল দেওয়ার পর বলেছি, এখন আপনারা আপনাদের খেয়াল পেশ করুন।

যা নিচের লেখাটি পড়লেই পরিষ্কার বুঝা যাবে। আমার খেয়ালটা আমি একটি কাগজে লিখে জানিয়েছি। কেউ কেউ মনে করেছেন যে, এটা আমি কমিটি বানিয়ে ফেলেছি। আসলে তা নয়। এটা ছিল আমার প্রস্তাব। কাউকে কোন পদে প্রস্তাব করলেই কি তিনি সেই পদ পেয়ে যান বা কমিটি হয়ে যায়? সমর্থন লাগবে না কি? সমর্থনের জন্য উহা ওপেন করা হয়েছে। যেহেতু সবাই কোন না কোন ব্যস্ততায় থাকেন, একত্রিত করা বা হওয়া একটু কষ্টকর। তাই বিষয়টি সহজ করণের লক্ষ্যে ঘরে বসে মতামত দেওয়ার জন্য আমি উহা ফেইসবুকে দিয়েছি।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের আগে লেখাটি পোস্ট করা হয়। পরে আমার প্রস্তাবিত পদপদবি কারো পছন্দ না হওয়ায় বা কারো নাম এতে না থাকায় অথবা বিষয়টি মনমত না হওয়ায় তারা এটাকে প্রত্যাহার করেছেন। লেখাতে আমিই বলে দিয়েছি যে, আপনার পছন্দ না হলে প্রত্যাহার করুন। আপনার নিজস্ব মতামত তুলে ধরুন কিন্তু গালিগালাজ করবেন না। মতামত পেশ করার স্বাধীনতা তো সবারই থাকতেই পারে। এজন্য কি কেউ কাউকে গালিগালাজ করতে পারেন? এরপরও আমার এ লেখার মর্ম উপলব্ধি না করে ফেইসবুকে আমাকে পাগল, ফুলপুরের কেউ না, হালুয়াঘাট থেকে এসেছে, সে কমিটি সাজানোর কে? এরে পিটালেই কি হবে? এরে সাংবাদিক বানাইছে কে? দুইটি প্রেসক্লাবে ২৭ বছর কোষাধ্যক্ষ পদে থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, দুম্বার গোশত খেয়েছে, সরকারি কম্বল নিয়েছে। এগুলোর হিসাব না দিয়ে এখন আবার নাজিম উদ্দিনকে চাটতে চাইছে। এছাড়া আমার ইসলামিক লেবাসের সমালোচনা করাসহ নানা মন্দ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমি সরল মনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করেছি। ফুলপুরের উন্নয়নসহ সকলের উন্নয়নের চিন্তা করেছি। এটা কি আমার অপরাধ? এর জন্য কি আমি গালি পাওয়ার উপযুক্ত? তবু আমাকে গালিগালাজ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে একদিকে সীমাহীন আনন্দ দিয়েছে। অন্য দিক দিয়ে কিছু কষ্টও পেয়েছি। আমি যাদের ভাল চাইলাম তারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলো না বলে। যাক, যে লেখাটির কারণে আমাকে গালমন্দ করা হয়েছে উহা একটি স্মরণীয় লেখা। এটি আমার পত্রিকায় পাবলিশ করে রাখা উচিৎ বলে মনে করছি। তাই আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় পাবলিশ করা হলো। লেখাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো :
আসসালামু আলাইকুম।
সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আপনারা জানেন, ফুলপুর প্রেসক্লাবকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। ফলাফল তেমন না আসলেও আমি ভেঙে পড়িনি। আমি আত্মবিশ্বাসী আমার ভাইয়েরা ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে হলেও একসময় আমার কথায় বা ডাকে সাড়া দিবেন এবং ঐক্যবদ্ধ হবেন। আমার কথায় কেহ কোন কষ্ট নিবেন না। কষ্ট পেয়ে থাকলে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। সম্প্রতি ফুলপুরে সাংবাদিক অনেক বেড়েছে। মনে হয় ৪০ জনের কম হবে না। এতগুলো সাংবাদিককে পারফেক্ট করে গড়ে তুলতে, তাদের ফায়দা দিতে বা তাদের থেকে জাতিকে ফায়দা নিতে হলে তাদেরকে কিন্তু ট্রেনিং দেওয়াতে হবে। যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের একটু বসার একটা জায়গা করতে হবে। এজন্য সিনিয়রদের এগিয়ে আসতে হবে।
জুনিয়রদের প্রতি যে দায়-দায়িত্ব রয়েছে তা পালনে এগিয়ে আসতে হবে। অন্য কেউ সংস্কার করুক বা না করুক আমাদের সংস্কার দরকার। পুরান বা ভাঙা সোফা বা খাটে জোড়াতালি দিয়ে বার্ণিশ করলে, সংস্কার করলে উহা নতুন হয়ে যায়। পরে ব্যবহারে আরাম হয়। ঠিক এমনিভাবে আমাদের সাংবাদিক অঙ্গণেও সংস্কার হওয়া উচিৎ। তাহলে আরাম হবে। দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য, মনের দূরত্ব কুটিলতা জটিলতা ও জঞ্জাল দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস। সংস্কার না থাকায় একেকজন বিচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা করছেন। কারো ফায়দা হচ্ছে না। ফুলপুরকে জেলা করার দাবি উঠছিল। জেলা করলে আরও কতকিছু দরকার। এসব বিষয়কে এগিয়ে নিবে কে? সাংবাদিকরাই সাজিয়ে গুছিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট তুলে ধরবেন। সবাই মিলে একটা দাবি উত্থাপন করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিবেন এবং উহা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ না থাকায় দেখা যায়, একজন সাংবাদিক কোন একটা বিষয়ে নিউজ করলে গ্রুপিংয়ের কারণে আরেকজন এটার বিরোধিতা করছেন। এতে শুধু সাংবাদিক নয় বরং দেশ ও জাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতি গঠনে বৃহত্তর লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। সকলের অংশগ্রহণমূলক প্রেসক্লাব দাঁড় করাতে পারলে এটা সম্ভব। এজন্য কারো না কারো ছাড় দিতে হবে। সবাই একই পদকে টার্গেট করে অনড় হয়ে বসে থাকলে আগানো যাবে না। নিজের হক দাবিয়ে অন্য ভাইকে আমার চেয়ে যোগ্য ও ভাল ধারণা করে তার জন্য পদটি ছাড় দিয়ে দিলে ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবটি করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত আইডিয়া থেকে একটি প্রস্তাবনা কমিটি দাঁড় করেছিলাম। এটা বাস্তবায়ন করতে হলে পদপদবি বাড়াতে হবে এবং প্রেসক্লাবের আগের যে গঠনতন্ত্র আছে উহা সংশোধন করতে হবে। দেখলাম, ২১টি পদ সৃষ্টি করা যায়। ওই ২১ পদে ২৯ জনের নাম দিয়ে আমি একটি খসড়া তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে খসড়াটি সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিককে মেসেঞ্জারে দেখানো হয়েছে। ফিড ব্যাক হিসেবে কেউ মন্তব্য করেছেন আবার কেউ কোন মন্তব্যই করেননি। শুধু চোখ বুলিয়ে দেখেছেন। আমার প্রস্তাবিত কমিটি কোন চূড়ান্ত কিছু না। জাস্ট একটা ধারণা দিলাম যে, এভাবে করা যেতে পারে। বিষয়টিতে আপনাদের মতামত যাচাই বাছাইয়ের জন্য এটি ফেইসবুকে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করতেছি। তাই দিলাম। আপনারা খেয়াল পেশ করুন, এটা ঠিক আছে নাকি ঠিক নেই। না থাকলে কিভাবে করা যায়? ভোটিংয়ের মাধ্যমে নাকি সিলেকশনে? আপনি আপনার মতামত তুলে ধরুন। আমার মতে, সভাপতির উপযুক্ত কয়েকজন কিন্তু কয়েকজনকে তো সভাপতি বানানো যাবে না। এমনিভাবে সেক্রেটারির উপযুক্তও কয়েকজন কিন্তু কয়েকজনকে কি সেক্রেটারি বানানো যাবে? যাবে না। তাহলে কি করা? ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব চাইলে আমাদেরকে কিছু ছাড় দিতে হবে। আমার পদ বা নাম কোন জায়গায় গেল তা গুরুত্ব না দিয়ে, নিজেকে দাবিয়ে অন্যের হককে উঁচু করে তুলে ধরি। আমার ভাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করি। সেই মনমানসিকতা থেকে আমি একটি কমিটি দাঁড় করেছি। এটা একান্ত আমার ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে করা। আমি আবারও বলছি, এটা কোন ফাইনাল ডিসিশন নয় বরং আপনারা আপনাদের খেয়াল পেশ করে, আলোচনা করে এটাকে কার্যকর করতে পারেন অথবা আরও মডিফাই করে একটি উন্নত কমিটি উপহার দিন। আমার এ প্রস্তাবনা কমিটি নিয়ে কেউ কোন রাগ গোস্বা করবেন না, প্লীজ। মনমত না হলে প্রত্যাখ্যান করুন। নতুন আরেকটি খাড়া করুন। এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।