মো. আব্দুল মান্নান :
আমি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের সন্তান। ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী -এর ৮নং নড়াইল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। এলাকার সন্তান ও উলামায়ে কেরামের পক্ষ হতে অর্পিত দায়িত্ববোধ থেকে বলছি, এলাকার মাজারের খাদেমরা আমাদেরই বাপ-চাচা বা ভাই-ভাতিজা। তাদের প্রতি আমাদের যে দায়-দায়িত্ব বা কর্তব্য ছিল, আমরা তা সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি; ব্যর্থ হয়েছি। তারা গান বাজনা করে, গাঁজা খায়, নামাজ পড়ে না ইত্যাদি কারণে আমরা তাদের কাছে কম গিয়েছি। ওয়াজের মাহফিল থেকে তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হলেও তারা ওই মাহফিলে উপস্থিত না থাকায় তাদের নিকট যথাযথভাবে দাওয়াত পৌঁছেনি। যে কারণে তারা মসজিদমুখি হয়নি, আল্লাহমুখি হয়নি। কিন্তু কেন হলো না তা আমরা সঠিকভাবে যাচাই বাছাই না করে বরং রাগ হয়ে রয়েছি। শুধু আমরা সাধারণরা নয় বরং হক্কানি উলামায়ে কেরামও অভিমান করে তাদের কাছে তাদের আস্তানায় কম গিয়েছেন। হকের দাওয়াত নিয়ে বার বার না যাওয়ায় দিনে দিনে তারা বিপথগামী হয়েছেন। আল্লাহর ওলীদের মাজার অত্যন্ত পবিত্র জায়গা থাকলেও সেখানে হক্কানি উলামায়ে কেরামের যাতায়াতের অভাবে বেআমল ভাইরা তা দখল করে নিয়েছে এবং নাহক জিনিসের আলোচনা ও আমল চলতে চলতে তারা গোমরাহির পথে অনেকটা এগিয়ে গেছেন। আমি আমার আত্মসমালোচনা করে বলতেছি, আজ আমরা যারা মাজার পূজারী বলে আমাদের ভাইদেরকে গালিগালাজ করছি তারা গোমরাহির পথে এতটা এগিয়ে যাওয়ার পেছনে শুধু তারাই দায়ী নয় বরং আমিও দায়ী। এজন্য মাজারের খাদেম ভাইদের নিকট আমার ব্যক্তিগত ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। পাশাপাশি অনুরোধ জানাচ্ছি, চলে আসুন। আর কত! মরতে তো হবে। কবরের জন্য কি ভাউ করছেন? এইতা ঢোল ডাগর বাজনা হাদিয়া পেশ করলে আল্লাহ মানবো? মানতো না। লাগবো ভেজালমুক্ত ঈমান ও আমল। আমরা দুই চোখে যা কিছু দেখি সবই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারে না আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ তায়ালা সব করতে পারেন মাখলুক ছাড়া। দুনিয়াতে যত তরিকা আছে কোন তরিকায় শান্তি কামিয়াবি বা সফলতা নেই, একমাত্র নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া সুন্নাত তরিকাতেই রয়েছে শান্তি ও কামিয়াবি। আল্লাহর হুকুম নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত দান সাদকা ইবাদত বন্দেগি আমরা করবো কেমনে? আমাদের মনমত নয় বরং যেভাবে নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন ও সাহাবায়ে কেরামকে যেভাবে করতে শিক্ষা দিয়ে গেছেন সেভাবে।
আমরা লক্ষ্য করছি, ওলীদের মাজারে নীরব নিরিবিলি বসে ইবাদত না করে, নামাজ না পড়ে, মদ গাঁজা খাওয়া হচ্ছে। একটা শ্রেণি হৈচৈ করছেন, ঢাক ঢোল পিটিয়ে এলাকা গরম করে ফেলছেন। মহিলা মা বোনেরা পর্দা করছেন না। শালীনতা বজায় রাখছেন না। এটা কি নবীজীর তরিকা? নবীজীর সুন্নাত তরিকা আমরা শিখবো কার কাছ থেকে? হক্কানি উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে। মনগড়া আমল করলে আল্লাহ তায়ালা তা মেনে নিবেন না বা কবুল করবেন না। ধরুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন টেইলরের কাছে এক হাজার পিস জামার অর্ডার দিলেন। শর্ত হলো, জামার কাপড় সাদা হতে হবে, গোল গলা হতে হবে, টাখনু ও হাঁটুর মাঝামাঝি লম্বা হতে হবে ইত্যাদি। এর জন্য যে খরচ আসে আপনি তা পুরাপুরি দিতে রাজি কিন্তু টেইলার আপনার মনমত করে জামাটা বানালো না। সে তার মনমত বানালো। এতে আপনি কি উহা গ্রহণ করবেন? তাকে পুরাপুরি মজুরি বা মূল্য দিবেন? দিবেন না। তাহলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আমাকে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সব কিছু দিলেন। এর ভেতরে যেখানে যা লাগে দিলেন। যখন যা খাবার লাগে দিচ্ছেন এমনকি মরার পরে অনন্ত কালের জিন্দেগিতে গিয়ে কি খাবেন, কোথায় থাকবেন যা যা লাগবে সবকিছু তিনি ভাউ যোগাড় করে রেখেছেন। শর্ত হলো, উনার হুকুমগুলো নবীর তরিকা অনুযায়ী পুরা করতে হবে বা আমল করতে হবে। কিন্তু উনার দেওয়া অর্ডারটা উনার মনমত না করে আমাদের মনমত করলে তিনি তা মেনে নিবেন? নিবেন না। অতএব, আমাদের ইউনিয়নের মাজারের খাদেম ভাই বোনসহ যারা আমার এ লেখা পড়েছেন সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা আল্লাহর হুকুমগুলো নবীজীর সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী পালন করুন বা এর উপর আমল করুন। আর এগুলো কইরেন না। গান বাজনা বা অশ্লীল কাজে জড়িত হইয়েন না। কুরআনের ছায়াতলে চলে আসুন। উলামায়ে কেরামের সংস্পর্শে চলে আসুন। বিগত দিনের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন। আফসোস করুন। কেঁদে দেন। আশা করি আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন। আর আমরা যে নিয়মিত আপনাদের নিকট গিয়ে দীনের দাওয়াত দিতে পারিনি এজন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সহীহ পথে চলার তাওফীক দান করুক।