• শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

একজন অসহায় ভাইয়ের পাশে দাঁড়ালেন ফুলপুর পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান ফারুক

Reporter Name / ১১২ Time View
Update : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
মোজাহারুল ইসলাম নামে তিন চিল্লার সাথী একজন অসহায় ভাইয়ের পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌর প্রশাসক (সহকারী কমিশনার ভূমি ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার) মেহেদী হাসান ফারুক। তিনি সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে একটি টয়লেটের ব্যবস্থা করে দেন ও খুব শীঘ্রই একটি টিউবওয়েল দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
জানা যায়, ছোট বেলায় মোজাহারুলের আব্বা ওয়াহেদ আলী ও আম্মা আমিনা খাতুন দুজনই মারা যান। ভাইবোনদের আশ্রয়ে বড় হন এতিম মোজাহারুল। লেখাপড়া তেমন করতে পারেননি। দুলাভাইয়ের সহযোগিতায় একটি ফার্ণিচারের দোকানে কাজ নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ফার্ণিচার মিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রী হিসেবেই দক্ষতা অর্জন করেন। বর্তমানে ভাল একজন মিস্ত্রি তিনি। অনেক ভাল ভাল ফার্ণিচার বানাতে পারেন। কাকনী এলাকায় একটি ফার্ণিচারের দোকানে কাজ করছেন তিনি। এদিকে, তার বিয়ের বয়স হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে আলাপ আলোচনা চলমান। কিন্তু মা-বাপ ছাড়া সংসারে যা হয় আর কি! এটা বলে বা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু অনুভবের বিষয়। তবু সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয় বিয়ে করতে যা কিছু লাগে এর কিছুই নেই মোজাহারুলের। তিনি দুইবার একাধারে তিন চিল্লাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি চিল্লা লাগিয়েছেন। প্রতি বছর নেসাব আদায় করে থাকেন। এভাবে তার আয় রোজগারের টাকা পয়সা খরচ হয়ে বিয়ের সরঞ্জামাদি আজও যোগাড় করা হয়নি। কদিন আগে বেতনের টাকা উঠিয়ে গ্যাসের একটি চুলা ক্রয় করেছেন তিনি। আর তেমন কোন টাকা পয়সা তার হাতে নেই। যেখানে খাওয়া দাওয়া করেন সেখানে মাসিক একটা পরিমাণ পে করতে হয়। এছাড়া তাবলীগে সময় লাগালে এতেও খরচ হয়। ছোট খাটো চাকরি। সব খরচ বাদে তেমন টাকা পয়সা তার হাতে থাকে না। অথচ বিয়ের এই সময়টাতে তার আলাদা টয়লেট, টিউবওয়েল ও পর্দার ব্যবস্থা করা বিশেষ প্রয়োজন। বিষয়টি পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান ফারুককে অবগত করালে তিনি তাৎক্ষণিক ফোন দেন পৌরসভার প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম জুয়েলকে। জুয়েল জানান, এসব মালামাল মজুদ নেই এবং ডিসেম্বরের আগে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান ফারুকের মন মানছিল না। মোজাহারুলের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তিনি একটি টয়লেট ক্রয় করে তাকে ডেকে এনে দিয়ে দেন এবং বলেন টিউবওয়েলের ব্যবস্থাও শীঘ্রই করা হবে, ইনশাআল্লাহ। এসময় মজাক করে তিনি মোজাহারুলকে বলেন, বিয়েতে দাওয়াত দিবেন না, হুজুর? মোজাহারুল তখন হেসে সম্মতি প্রদান করেন।
এসময় ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এহসানুল হক, মহিলা কাউন্সিলর কমলা, কাউন্সিলর কৃষ্ণ কান্ত সাহা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, সাংবাদিক শাহ নাফিউল্লাহ সৈকত, মোজাহারুল ইসলামের ভাই রেজাউল করিম, প্রতিবেদক মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা