মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে আশরাফুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক মানসিকভাবে চরম নির্যাতিত হয়ে তার ফেইসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তার স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো :
ময়মনসিংহের ফুলপুর বিদ্যুৎ অফিসে আমার আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির ভয়াবহ চিত্র।
২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমার বিদ্যুতের মিটারে ভূতুড়ে বিল আসতে থাকলে বিষয়টি অফিসকে বার বার অবহিত করি কিন্তু কাজ না হওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে দেখা করে বিষয়টি জানাই। তিনি সার্ভিস খাতায় লেখান এবং ২ মাসের মধ্যে ঠিক হবে বলে আশ্বাস দেন।
২ মাসের মধ্যে ঠিক না হয়ে আরও বাড়তি বিল আসায় পুনরায় অভিযোগ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে দেখা করি। তিনি খাইরুল সাহেবকে দিয়ে হিসাব নিকাশ করিয়ে অভিযোগটি গ্রহণ করান এবং পরবর্তী ২ মাসের মধ্যেই ঠিক হবে বলে জানান। কিন্তু পরের ২ মাসেও ঠিক হয়নি। আবার বাড়তি বিল আসায় খাইরুল সাহেবের সাথে দেখা করি। এরপর তিনি অভিযোগ পাননি বলে জানান। এরপর তার নিজ হাতে রিসিভ করা কপি দেখালে তিনি আমাকে আরেকটা কপি দিতে বলেন। পরে আমি তাকে আরেকটি কপি দিয়ে চলে আসি। কিন্তু এর পরবর্তী মাসে বিল ঠিক তো হয়ইনি বরং বিলের সাথে লাল নোটিশ লাগিয়ে বলা হয়েছে বিল না দিলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এই নোটিশ পাওয়ার পরদিন সকালে আবার অভিযোগ নিয়ে অফিসে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাব করে আমাকে ১০ হাজার টাকা দিতে বলেন এবং সাথে কার্ড মিটারের খরচ। তাহলে আজকেই আগের হিসাব শেষ হয়ে যাবে এবং নতুন কার্ড মিটার লাগানো হবে। আমার হিসেবে ৫ হাজার টাকা আসে। কিন্তু এরপরও এ গাফলা থেকে মুক্তি পেতে গচ্ছা দিয়ে তাই করলাম। এর ২ মাস পর থেকে পুরাতন মিটারে আবার বিল আসা শুরু করে। কার্ড মিটার লক করে দেওয়া হয়। বিষয়টি অফিসে জানানোর পরও কাজ না হলে জুলাই মাসে আবারও অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যাই। গেলে ২ জন আমাকে পাশের রুমে নিয়ে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে আমি সব বলি এবং কাগজ দেখাই। তারা বলেন, এটা আমরা জানতাম না। ঠিক আছে, আমরা আপনার কার্ড মিটারের লক খুলে দিলাম এবং বিল বন্ধ করে দিব। এই বলে সব কিছু লিখে রাখে কিন্তু কিছুই হলো না। এই মাসে ১৭ হাজার টাকার বিল পাঠিয়েছে। এখন আমার কি করা উচিত? উপায় বল না, প্লীজ।