মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে পুরাতন ডাকবাংলায় সরকারি মরা গাছ হঠাৎ মাথায় পড়ে সিদ্দিক ভূইয়া (৭০) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ গোদারিয়া গ্রাম থেকে তালতলা ও কাঁচা বাজার হয়ে বাসস্ট্যান্ড মসজিদে ইশার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুরাতন ডাকবাংলায় এ ঘটনা ঘটে।

সিদ্দিক ফুলপুর পৌরসভার দক্ষিণ গোদারিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী ভূইয়ার পুত্র। তিনি একজন ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষী ছিলেন। অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

তালতলা এলাকায় গলিতে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে থাকতেন। গত ১৪ জুলাই বুরহান ভাই ও ফুরকান ভাইয়ের সাথে তাবলীগে তিনদিন সময় লাগিয়েছিলেন তিনি। উনার স্ত্রী আগেই মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি ৩ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শুক্রবার বাদ জুমা ২টার দিকে সাহেব বাড়ি রাইস মিল প্রাঙ্গণে উনার নামাজে জানাজাশেষে তাকে কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আঞ্জুমান কবরস্থানে দাফন করা হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড কাঁচা বাজার হয়ে তালতলা যাওয়ার পথে পুরাতন ডাকবাংলায় ‘সি অ্যান্ড বি’র জায়গায় ছোট বড় অনেকগুলো গাছ আছে। এর মধ্যে একটি গাছ বছরখানে আগে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাথাভাঙা মরা ওই গাছটি তাৎক্ষণিক কেটে না নেওয়ায় এর মূল শিকড়সহ বডি পঁচে ধুন্দুল হয়ে গেছে। পরে মরা এই গাছটি হঠাৎ উনার মাথায় পড়ে যায়।

এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই উনার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আত্মীয় স্বজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে অনেক রক্ত ও উনার মাথার টুপি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কনিকা জুহানী নামে বয়স্ক একজন নারী বলেন, সি অ্যান্ড বি কর্তৃপক্ষের অবহেলা আছে। উনারা সময়মত এই গাছটি কেটে নিলে হয়তো এ ঘটনা ঘটতো না। এর পাশে আরেকটি বড় গাছ সম্ভবত ঝড় তুফানে মাটিতে পড়ে থাকতে থাকতে পঁচে গেছে। এর আগে এই বাগানের আরও বেশ কয়েকটি গাছ মরে গেলেও এগুলো সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। দুটি স্টিলের আলমিরা দীর্ঘদিন কচুক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সি অ্যান্ড বি’র সার্বিক বিষয়টি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’ অবস্থা বিরাজ করছে। দেখার যেন কেউ নেই। কিন্তু সিদ্দিক ভূইয়া মৃত্যুর দায় কে নেবে?