মো: আব্দুল মান্নান :
ফুলপুরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার নতুন ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। আজ বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে একটি কাজে থানায় গেলে আলাপচারিতায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন তিনি। জানা যায়, নতুন এই ওসি ফুলপুর থানার সাবেক ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাচমেট। তিনি পর্যায়ক্রমে সকল সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় করবেন। কথা বলে মনে হয়েছে তিনি একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও মেধাবী মানুষ। তার মধ্যে ক্রিয়েটিভ পাওয়ার আছে বলে মনে হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দেশের যে পট পরিবর্তন হয়েছে, বর্তমান যে সিচুয়েশন তৈয়ার হয়েছে, এর প্রেক্ষিতে মানুষ আসলে এখন কি চায়? মানুষের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে, মোভমেন্ট বুঝে ফুলপুরকে সেইভাবে সাজাতে ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন তিনি। এ ব্যাপারে বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট ও গুণীজনদের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে শীঘ্রই তিনি মতবিনিময় সভা করবেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, এর আগে তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ছিলেন। সেখানে যেসব কৌশল ব্যবহার করে উন্নতি করেছেন সেই রকম কিছু কৌশল এ থানায়ও তিনি কাজে লাগাবেন বলে আলাপ করে মনে হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর তিনি ফুলপুর থানায় যোগদান করেন। আর ওইদিনই আগের ওসি মাহবুবুর রহমান এখান থেকে বিদায় নিয়ে ময়মনসিংহে লাইন ও আর হিসেবে যোগদান করেন। নতুন ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান ইতোমধ্যে ফুলপুরের বিভিন্ন অলিগলি পরিদর্শন করা শুরু করেছেন। কোথায় কি সংযোগ করলে ফুলপুরবাসীর উন্নয়ন হবে, উপকার হবে, অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে সেসব বিষয় আবিষ্কারে ট্রাই করছেন তিনি।
জানা যায়, নতুন ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। ইসলামপুর উপজেলার লাউ দত্ত গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রফিকের পুত্র তিনি। তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেছেন। ২০০৫ সালে আউট সাইট ক্যাডেট-এ (এসআই) পদে ভর্তি হন তিনি। এর আগে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
নতুন এই ওসি বলেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মোড়ের যেসব সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে এগুলো শীঘ্রই প্রতিস্থাপন করা হবে। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে দ্রুত পুলিশিং সেবা পেতে পারেন সেজন্য বিট অফিসারদের নাম্বারসহ স্টিকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হবে। যাতে প্রয়োজন পড়লেই তারা পুলিশকে স্মরণ করতে পারেন। এসময় আমাদের সাংবাদিক মুরুব্বি হুমায়ুন কবীর মুকুল ও সেকান্দর আলী উপস্থিত ছিলেন।