• বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসার সভা ৮ জানুয়ারি, আল্লামা মামুনুল হকসহ আসছেন দেশি-বিদেশি শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় হিফজুল কুরআন ও আজান প্রতিযোগিতা ফুলপুরে জামিয়া দারুল আরকাম মহিলা মাদরাসায় খতমে বুখারী উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ সাদেক পরিবারের খোঁজ খবর নেওয়া ও হাদিয়া পেশ

Reporter Name / ১৪৮ Time View
Update : শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪

লাবীব আব্দুল্লাহ :

জুমাবার। সকালে বের হলাম ধৌবাউড়ার পথে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মাওলানা সাদেকুর রহমানের বাড়ি ঘোষগাঁওয়ে যেতে হবে। সাইলেন্ট হ্যান্ড সাপোর্ট সোসাইটির প্রিয় শরীফ ভাই বলেছেন, আমি যেন সরাসারি যাই এবং তার পরিবারের খবর নিয়ে হাদিয়া পৌঁছে দেই। মাওলানা সাদেক জুলাই গণঅভ্যত্থানে ৫ আগস্ট সাভারে গুলিবিদ্ধ হন এবং ৭ আগস্ট শহীদ হন। তিনি সাভারের একটি মসজিদের  মসজিদের ইমাম ও খতীব ছিলেন।

কমিটি বা চাকুরির তোয়াক্কা না করে সাদেক ছাত্র আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন লাল সবুজের পতাকা হাতে। তিনি কওমী মাদরাসা থেকে তাকমীল (মাস্টার্স সমমান) সনদধারী কিন্তু এই সনদ পতিত স্বৈরচারের দেয়া সনদ। এই সনদ পেয়ে “কওমী জননী” উপাধী দিয়েও আজ তক কেউ সরকারি চাকুরির আবেদনও করতে পারেনি এবং এম ফিল ও পিএইচডি করারও কোন আবেদন করতে পারেনি কেউ।

এটি  একটি প্রতারণামূলক সনদ; যা কওমী কান্ডারীগণ গ্রহণ করেছেন। এই বিষয়টি মাওলানা সাদেক মনে হয় জানতেন।  তিনি জানতেন তার তাকমীল সনদে সরকারি চাকুরি পাবেন না। তিনি কোটা বিরোধী বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন ছাত্র জনতার সঙ্গে বিপ্লবের চেতনায়। তাঁর জীবনসাথী আলেমা। তিনিও তাকমীল সনদধারী। তিনি মিছিলে যেতে বারণ করেছিলেন যুহরের আগে। জীবনসাথীকে না বলে তিনি বাদ যুহর ছাত্র জনতার মিছিলে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। বুকে গুলি মিছিলেই এবং শাহাদত বরণ দু দিন পর।
মাওলানার দুটি মেয়ে। পাঁচ বছর ও তিন বছর বয়সের।  মুহতারাম শরীফ ভাই বললেন, এক মেয়ের পুরো পড়ালেখার খরচের দায়িত্ব তিনি নিবেন। নগদ টাকাও পাঠালেন। পরিমাণ  আরও বেশী হতো কিন্তু সাইলেন্ট হ্যান্ডের টিম ফেনী, কুমিল্লার বন্যার্তদের সেবায় নিয়োজিত বন্যার প্রথম প্রহর থেকেই।  পিত়স্নেহ বঞ্চিত সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নেবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমার সুপারিশের বাস্তবায়নে আমি গিয়েছিলাম সরাসরি।
আমার আব্বু ইন্তেকাল করেছেন আমি যখন বারো তেরো বছরের। ছোট ছোট আরও চার বোন এক ভাই ছিলো আমার পরিবারে। আম্মু আমাদের পড়ালেখার চিন্তায় যা করেছেন তা আমি জানি। জানি একজন বিধবা মেয়ের কষ্টের কথা। কেউ আমাকে এই জাতীয় সেবার কথা বললে আমি না করি না।  আমার ব্যস্ততার পরও আমি সময় দেই। গতকাল বৃহস্পতিবার  সফরে আমার ১২ ঘণ্টা ব্যয় হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ধোবাউড়ার ঘোষগাঁয়ের কাছে কালিকাবাড়ি যাতায়াতে। গারো পাহাড়ের পাদদেশে, নিতাই নদীর তীরে। ওপারে ভারতের মেঘালয়।

আমি শহীদ সাদেকের বিধবা স্ত্রীর হাতে শরীফ ভাই প্রেরিত হাদিয়া তুলে দিয়ে বাচ্চা দুটির মাথায় হাত রেখে মনে প্রশান্তি অনুভব করলাম। নিষ্পাপ শিশু। প্রতি রাতে তাদের পিতাকে খোঁজে তারা। বলে, “আব্বু আব্বু” কিন্তু তার আব্বু কবরে। ঘর থেকে মসজিদের সামনে কবর দেখা যায়। সবুজঘেরা ধানসিঁড়িতে তাদের আব্বু চিরনিদ্রায়। সুখনিদ্রায়। জান্নাতে রুহ পাখি হয়ে উড়ছে আমার বিশ্বাস।

দুই.
মাওলানা সাদেকের আব্বুর সাথেও দেখা হলো ফেরার পথে।  তিনি গ্রামে ইমামতি করেন। মাওলানার বড় ভাই হিফজখানার উস্তায। তিনি আমাদেরকে সময় দিলেন। সকালে রুটি খেয়ে বের হয়েছিলাম। মাগরিের সময় ধোবাউড়ায় একটি খাবারের হোটেলে ভাত খেলাম। এটি “হাউন আংকেলের ভাতের হোটেল” নয়। টাকি মাছ ভর্তা ও গরুর গোশত। গরুর গোশত চার টুকরো ১৪০ টাকায়। এই মাসের দশ তারিখে আখাউড়ায় গোশত খেয়েছিলাম সেই ১৪০ টাকায় চার পিস। গরুর গোশত বড় নিয়ামত। এটি প্রতিবেশী দেশে সফর করলে উপলব্দি হয়। সফরের শুরুতে প্রিয় আব্দুল্লাহ আল মামুন সঙ্গ দিয়েছে। সে ত্রাণ কাজে ব্যস্ত। একটি কলেজে পড়ে। সে ও তার টিম বিশ লাখ টাকা ত্রাণ সংগ্রহ করে বিতরণ করছে বন্যার্তদের মাঝে।  সকালে তিন জন রুটি খেয়েছি ডিম ও ডালসহ ১৯০ টাকায়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সফল হওয়ায় কী কী পণ্য ও খাবারের দাম কমলো তা দেখছি। আমি গত ৪-৫ বছর থেকে প্রতিদিন বাজারের দর ও পণ্যমুল্য লিখে রাখি ডায়েরিতে।  মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি বুঝতে পারি এইসব দেখেও।
ফেরার পথে ঘোষগাঁও মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জিল্লুর রহমান সাহেব মেহমানদারি করলেন। তিনি পীর সাহেব। শাইখুল হাদীসও। মাদরাসাটি বালক শাখায় ফযীলত। বালিকা শাখায় তাকমীল। হাজরের উপর ছাত্র- ছাত্রী। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার দেখালেন তিনি। বাদ মাগরিব ধোবাউড়া বাইতুল হামদে গেলাম এক চক্কর। তখন ইসলাহী মাহফিল হচ্ছিল। তালেবে ইলমে মুখরতি পরিবেশ। দায়িত্বপ্রাপ্ত মুদীর মাওলানা  রুহুল আমীন সাহেব সময় দিলেন এবং আপ্যায়ণ করলেন।  তিনি হাদীস, ইফতা ও আদবে তাখাসসুস করা আলেম। এই মাদরাসায় সমন্বিত শিক্ষা স্কুল ও মাদরাসার।
ময়মনসিংহের পথে রওনা ইশার সময়। পথে পথে মনে হলো শহীদ মাওলানা সাদেকুর রহমানের কথা। তিনি ওপারে। রাতে তার দুই কন্যা ও বিধবা স্ত্রী চোখ ভেজাবেন দুঃখে। আমি ভাবলাম এবং ছাত্র জনতার বিপ্লব বা অভ্যত্থানের ২১ উপদেষ্টার সংস্কার ভাবনা কী তা চিন্তা করলাম। মনে হলো, এই যোগ্য বা অযোগ্যদের মাথায় কি কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃত সনদের সংস্কারের চিন্তা কাজ করে? কওমী কান্ডারীরা কি সরাসরি মাস্টার্সের সনদ সংস্কারের কোনো প্রস্তাব দিয়ে হাজার হাজার মাওলানা সাদেকের স্বপ্নপূরণে অবদান রাখবেন নাকি  সেই আগের মতোই কওমী জননীর আশির্বাদে চলবে?
হাজার হাজার আহত ও শহীদ যারা বুকের তাজা খুনে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশ উপহার দিয়েছেন তাদের প্রতি শুকরিয়া। কৃতজ্ঞতা। দুআ।
শহীদদের পরিবারের খবর নিতে পারি আমরা যার যার সাধ্য অনুযায়ী।

লেখক :

পরিচালক, ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা