আজ
|| ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
ফুলপুর প্রেসক্লাব নিয়ে আমার কিছু কথা
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৪
মোঃ আব্দুল মান্নান :
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ দেশের পট পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ডিপার্টমেন্টে যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার সময় এসেছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে, অনেক জায়গায় সংস্কার শুরু হয়েছে। অতএব, সবাইকে বলবো, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন। জুলুমবাজদের 'না' বলুন এবং যারা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখুন। তাহলে আগামী দিনে যত ঝড় তুফানই আসুক না কেন আশা করি কোন সমস্যা হবে না।
আমি মূলত: ফুলপুর প্রেসক্লাব নিয়ে সংক্ষেপে দুয়েকটি কথা বলতে চাই। ৫ আগস্টের পর বেশ কিছুদিন অতিক্রম হয়ে গেল প্রেসক্লাব নিয়ে আগামী দিনে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে কেহ মুখ খুলছেন না। তাই দুয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন অনুভব করছি। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব। ১৯৮৫ সনে এর যাত্রা শুরু। ২০০৯ সনে আমি ফুলপুরে এসেছি এবং ২০১২ সন থেকে ওতপ্রোতভাবে এর সাথে জড়িত আছি। এর সোনালী অতীত রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে সেই ঐতিহ্য আজ বিনষ্টের পথে। এটাকে আমাদের সুরক্ষা করতে হবে। এই প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য যারা গড়েছিলেন সেইসব হেভি ওয়েট শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক ভাইয়েরা আজও অনেকে বেঁচে আছেন। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, রাগ অভিমান ক্ষোভ সব ভুলে গিয়ে আপনাদের গড়া এ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় ও এটাকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে এগিয়ে আসুন। অন্যের সাথে অভিমান করে নিজের ক্ষতি করবেন না।
আমার মনে হয়, প্রেসক্লাবের বর্তমান চেহারা দেখে নিশ্চয়ই ওইসব ভাইদের মন কাঁদে, যারা তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় এই প্রেসক্লাবের উন্নয়নে কাজ করেছেন, শ্রম ঘাম ও অর্থ ব্যয় করেছেন। এতকিছু করেও তারা নিজেরা কিন্তু এর উপর ভর করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। আমার জানামতে অনেকেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। এমনকি নানা বৈষম্যৈর শিকার হয়ে তারা পরের জন্যেও আশানুরূপ কিছু করে যেতে পারেননি। এর পেছনে বড় কারণ হলো, অনৈক্য। এই অনৈক্য থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আর এর জন্য এখনই উপযুক্ত সুযোগ বলে আমি মনে করি। সাধারণ সাংবাদিকদের প্রাণের দাবি ফুলপুর প্রেসক্লাবকে প্রাণবন্ত করতে হবে। আমরা প্রেসক্লাবে বসবো, খোশ আলাপন করবো। কম্পিউটার থাকবে। নিউজ করবো। দেশের খবর নিব। দেশবাসীকে খবর দিব। এটা আমাদের মনে চায়। শুধু তাই নয়, দেশের সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী, গুণীজন এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরাও একটি আদর্শ প্রেসক্লাব প্রত্যাশা করেন। যার মাধ্যমে প্রত্যেকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ফুলপুরের সুনাম সুখ্যাতি বাড়বে, দূরীভূত হবে অন্যায় অবিচার, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায্য অধিকার। যেসব সাংবাদিক সঠিকভাবে সংবাদ উপস্থাপন করতে পারেন না, বানান ঠিক হয় না, বাক্য বিন্যাস সঠিক হয় না, এ পেশায় সময় দিতে পারেন না, বিভিন্ন মিটিং বা অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত হলেও পত্রিকায় তাদের সংবাদ পাওয়া যায় না, ওইসব ভাইদের বলবো, আপনারা এই সাইটগুলোতে কাজ করুন। এসব গ্যাপ পূরণ ও উন্নয়ন করুন। সম্পাদকমন্ডলীতে তাদের রেখে প্রেসক্লাব নয়। অর্থশালী প্রভাবশালীদের নিয়ে প্রেসক্লাব করাও যেন আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য না হয় বরং সাংবাদিকতা করেন, নিউজ লেখার যোগ্যতা আছে তাদের নিয়ে প্রেসক্লাব করলেই সবচেয়ে ভালো হয়। দেখা যায়, একই ব্যক্তি বার বার সুবিধা নেন, ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ আসলে আওয়ামী লীগ বনে যান, বিএনপির সময় বিএনপি বনে যান এ ধরনের রাজনৈতিক সাংবাদিকদের নিয়েও প্রেসক্লাব করতে আমার ব্যক্তিগত অনীহা রয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমরা সুনির্দিষ্ট কোন দলের লোক না। আমি কোন দল করি না। সাংবাদিক সবার অধিকার নিয়ে কথা বলবেন, নিউজ করবেন। কিন্তু দলান্ধরা তা পারেন না। যারা শুধু বিএনপির পক্ষে নিউজ করেন, শুধু আওয়ামী লীগের পক্ষে নিউজ করেন বা সুনির্দিষ্ট দলের পক্ষে নিউজ করেন পাঠক তাদের চায় না। আমরাও তাদের নিয়ে আর প্রেসক্লাব করতে চাই না। আমরা এমন সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেসক্লাব করতে চাই যারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন। এমন সাংবাদিক হয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাবে না; তবে যোগ্য কেহ যদি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে আমরা তাদের স্বাগত: জানাবো। তাদের সাথে নিয়ে কাজ করবো। যেসকল সাংবাদিকরা বিগত দিনে শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যপৃত রয়েছেন, নিজেই সব সুবিধা গ্রাস করতে চেয়েছেন, পাশের সাংবাদিকরা প্রতিবারই বঞ্চিত হচ্ছেন অথচ তাদের দিকে চোখ তুলে তাকাননি, আগামী দিনে এরকম নিষ্ঠুর নীতিতে কেউ প্রেসক্লাব চালাক আমরা তা চাই না। আমাদের নিজেদের অনৈক্যকে পাথেয় করে প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও আমাদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিজ্ঞাপন নিয়ে আমাদের সাথে ছিনিমিনি খেলেছেন, আমাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন। আমরা যাদের সাথে প্রেসক্লাব করেছি তাদের কিছু সংখ্যক ওই নিষ্ঠুর কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদেরকে ঘায়েল ও হেনস্থা করার অপচেষ্টা করেছেন। প্রয়োজনে একা থাকবো তবু ওইসব নীতিভ্রষ্ট লোকদের সাথে আর প্রেসক্লাব করবো না, ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ, যদি কেহ এ ধরনের আর হবে না মর্মে আশ্বস্ত করেন তবে তা বিবেচনা করা হবে। দেখা গেছে, একই ব্যক্তি বা মুষ্টিমেয় কিছু সাংবাদিককে বার বার বিজ্ঞাপনসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কোন একটি কর্মশালার আয়োজন হলে যা থেকে টাকা, ব্যাগ বা এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় ওইগুলো বরাবরই সুনির্দিষ্ট কয়েকজন পেয়েছেন। আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সুষম বণ্টন করা হয়নি। পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিল করা থেকে নিয়ে যেসব অনুষ্ঠান করা হয়েছে এবং ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে এর কাঙ্ক্ষিত কোন হিসাবও কিন্তু পরিস্কার করে দেওয়া হয়নি। সকল বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রেসক্লাব করতে চাই। আমার কথায় কেহ কোন কষ্ট পেয়ে থাকলে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এরকম প্রেসক্লাবের স্বপ্ন দেখেন, আসুন তারা একসাথে বসি। রূপরেখা তৈরি করি। আমি সিনিয়র জুনিয়র সকল সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আসুন ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব করি। নিজেদের মধ্যে ও সাথীদের মধ্যে সংস্কার আনি। যোগ্যদের মূল্যায়ন করি। যিনি যে জায়গার উপযুক্ত তাকে সেখানে বসাই। তাহলে কাজ হবে। সঠিক কাজটি হলে দেশ জাতি ও আমাদের সবারই উন্নতি হবে। আমার কথায় কেহ কোন কষ্ট পেয়ে থাকলে আবারও আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা প্রার্থনা করে একটি গ্রহণযোগ্য আদর্শ প্রেসক্লাব গঠনে সহযোগিতা চাচ্ছি । পোস্টটিতে আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরা হয়েছে। এটাই করতে হবে বিষয়টি এমন নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে যেটা ফায়সালা হয় সেটাই হবে, ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে শেরপুর রোডে রাজিন প্লাজার ৫ম তলায় সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রাথমিক আলোচনার জন্য আপনাদের সকলের উপস্থিতি কামনা করছি।
লেখক :
সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ.কম
ও ফুলপুর প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.