মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে লটকন চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষক আবু নাঈম। প্রায় তিন একর জমিতে এবার তিনি লটকন চাষ করেন। একসময় অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠলেও বর্তমানে সুপরিকল্পিতভাবে চাষ হচ্ছে এই ফল।
পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন লটকন এখন মানুষের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে। লটকনে আছে অ্যামাইনো এসিড ও এনজাইম, যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে। নাঈমের বাগানে প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে ডালপালা পর্যন্ত পাকা লটকনে শোভা পাচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে কথা হয় নাঈমের সাথে। তিনি বলেন, বাবার পৈতৃক জমিতে বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছের সঙ্গে লটকনের মাতৃগাছ রয়েছে প্রায় ৯৫০টি এবং পুরুষ গাছ রয়েছে ৫০ টি । এ বছর প্রায় ৪৫০ টি গাছে লটকন ধরেছে। শুধু লটকন থেকেই তিনি এ মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ ২০ টাকা আয় করেছেন। যদিও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতবছরের তুলনায় এবছর ফলন কম হয়েছে।
নাঈমের লটকন বাগানটি ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রূপসী বাজার সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। লটকনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছও রয়েছে তার বাগানে। কৃষক নাঈম বলেন, ২০১৩ সাল থেকে তিন একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের গাছের মাঝে অল্প পরিসরে লটকন চাষ শুরু করি। আস্তে আস্তে বাগানের গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ফলন পাওয়া শুরু হয়। এ কয়েক বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছি এবং ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ লাখ টাকা। আগামীতে সবগুলো গাছে ফল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। ধরলে বছরে ১০ লাখ টাকা অনায়সে আয় করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ফুলপুরে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হচ্ছে। এসব চাষিদেরকে কৃষি অফিস থেকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরেজমিনে গিয়ে তাদের বাগান পরিদর্শন করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক আহাম্মেদ।
তিনি বলেন, লটকন গাছ ছায়াময় জায়গায় ভালো জন্মে। অন্যান্য ফলদ বৃক্ষের সাথে এটি খুব সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান কামু বলেন, ফুলপুর উপজেলা লটকনের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি এলাকা। কৃষকরা সঠিকভাবে এর পরিচর্যা করলে লটকন চাষেও এ এলাকায় ঘটতে পারে উন্নয়ন বিপ্লব।