মোঃ আব্দুল মান্নান :
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফুলপুর উপজেলা শাখার মামুন মিয়া নামে এক সমন্বয়ক বলেছেন, জুলুমবাজ হাসিনা সরকারের পতনে ঘরে ঘরে আনন্দ বিরাজ করছে। তাদের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় এক আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে গোল চত্বর এলাকায় এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জগদ্দল পাথরের ন্যায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চেপে বসা আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ আগস্ট চলমান ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গদি থেকে সরিয়ে দেশছাড়া করায় ওইদিন বিকালেই হাজারো জনতার অংশগ্রহণে অনানুষ্ঠানিকভাবে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নেতা রামভদ্রপুর ইউনিয়নের টানা তিন বারের চেয়ারম্যান রুকনুজ্জামান রুকনের নেতৃত্বে বিশাল আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আরও বিভিন্নজনের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতন যেন বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন উল্লেখ করে আজ মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আবারো আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার গোল চত্বরে তারা জমায়েত হয়। এরপর গোল চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে ফুলপুর সরকারি কলেজ মাঠে যায়। সেখান থেকে ফিরে বালিয়া মোড়, আমুয়াকান্দা ব্রিজ ও উপজেলা পরিষদ গেট হয়ে পুনরায় গোল চত্বরে এসে এক পথসভায় যোগ দেয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফুলপুর উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মামুন মিয়া। তিনি বলেন, আমার ভাইয়েরা যখন অধিকার চাইল তখন তারা গুলি চালালো। আমরা বুক পেতে দিয়েছি তবু পিছপা হইনি। জুলুমবাজ এ সরকারের পতনে আজ ঘরে ঘরে আনন্দ বিরাজ করছে। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিগত দিনে আপনাদেরকে দৌড়ের উপর রেখেছিল কিন্তু আপনারা কিছুই করতে পারেননি। এখন যারাই চেয়ারে বসুক আর যাতে এ জুলুমের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মামুন বলেন, টাকার বিনিময়ে প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশন গড়তে পারছেন না তারা। ফুলপুর সরকারি কলেজে ক্লাস করতে গেলে চক থাকলে ডাস্টার থাকে না। ডাস্টার থাকলে চক থাকে না। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। আমরা আর এসব দেখতে চাই না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, নাদিম হাসান, নাঈম শেখ, লাবিব নাহাদি রাহাত, রিয়াদ আহমেদ, ইসমাইল, মিশকাত, মুস্তাকীম, জুনাইদ, সাইম, আবু সাঈদ, সুকান্ত, জাকিরুল, ফাহিম প্রমুখ।
এরপর বিএনপি ও জামাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বে দফায় দফায় আনন্দ ও বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।