
মোঃ আব্দুল মান্নান :
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। ফুলপুর সরকারি কলেজ গেট থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা পিছু হটলে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় তারা শেরপুর রোড মোড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়, থানা রোডে ও গ্রীণ রোডে উপজেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়, সাইন বোর্ড, এলইডি, আসবাবপত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বাসভবনে, উনার শ্বশুরের বাসা (ফুলপুর চক্ষু হাসপাতাল), পুলিশ বক্স ও চা স্টলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল, কোম্পানির একটি গাড়ি, ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক চত্বরের রেলিং ও ঢাকা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ডিভাইডার ভাঙচুর করে। এসময় চেয়ার, টায়ার ও পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তাদের সাথে মিশ্রিত জনতা।
সকাল ১১টায় পুলিশের বাধাকে উপেক্ষা করে ফুলপুর সরকারি কলেজ গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে ফুলপুর সরকারি কলেজ, ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কলেজ থেকে সরাসরি উপজেলা প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত যায় মিছিলটি। সেখান থেকে ফিরে বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনী এলাকায় জমায়েত হয় এবং বেশ কয়েকজন বক্তব্য দেন। দুপুর ১২টার দিকে আমুয়াকান্দা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে উপজেলা ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একদল নেতাকর্মী বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘ভূয়া ভূয়া’ বলে শ্লোগান দিতে থাকলে ক্ষেপে যান ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। এরপরই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটের ঢিল ছুড়াছুড়ি হয়। এতে ফুলপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রবিন, ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি, রূপসীর আবু কাউছার ও আমুয়াকান্দার রাতুলসহ উভয়পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক। ফুলপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান এবং তার টিম শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। তারা বুঝিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে দমাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা যেন কারো কথাই শুনছিল না। তারা তখন ‘ তুমি কে? আমি কে?, রাজাকার রাজাকার। কে বলেছে? কে বলেছে?, সরকার সরকার। চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার। ঢাবির বুকে রক্ত কেন? জবাব চাই, জবাব চাই। আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না, দেব না।’ ইত্যাদি শ্লোগান দিচ্ছিল। অবশেষে ৩টার দিকে সড়ক ত্যাগ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।