মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা সাংবাদিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র অন্যতম বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদ পত্রিকার ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি নুরুল আমিন ভাই আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অতীত স্মৃতি বিজড়িত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ”ফুলপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করে আমি তখন ময়মনসিংহের দৈনিক জাহান পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। সে সময় দেশে এত পত্রিকা ছিল না। ফুলপুরে সাংবাদিক ছিল হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন। নতুন করে সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করে কয়েকজনকে পত্রিকার পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে দিয়ে আমি ‘ফুলপুর সাংবাদিক সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সালের ৯ ডিসেম্বর। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। রুদ্রোজ্জ্বল সকাল। আমি

ফুলপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে ফুলপুর সাংবাদিকদের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বঙ্গভবনের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে। সকাল ১০ টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস মহোদয়ের সাথে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাতের প্রোগ্রাম। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যরা আমাদের বললেন, ‘ক্যামেরাসহ সাথে যার যা আছে সব গেইটে জমা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।’ আমরা তাই করলাম। সবাই বললাম, আমাদের সাথে আর কিছু নেই। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বডি চেক করার পর দৈনিক ইনসাফ পত্রিকার সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম মোবারকী, দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, দৈনিক সবুজ পত্রিকার প্রতিনিধি এটিএম রবিউল করিম রবিসহ আমরা ৮ জন বঙ্গভবনের ভেতরে ঢুকে গেলাম। কিন্তু এম এ রাজ্জাক ফারুকী নানাকে দেখা যাচ্ছিল না। বিষয় কি? তিনি কোথায়? খবর নিয়ে দেখি গেটে আটকে গেছেন তিনি। কিন্তু কেন? আসতে দিচ্ছে না কারণ কি? বিষয়টি জানতে আমরা আবার গেইটে গেলাম। গিয়ে জানতে পারলাম, ফারুকী সাহেব বলছেন, ‘আমার কাছে কিছু নেই।’ তবু ঢুকতে দিচ্ছে না তাকে। জানা গেল, মেটাল ডিটেক্টর ফারুকী নানার শরীরের কাছে নিলেই ক্রিং ক্রিং শব্দ করে ওঠে। পাঞ্জাবির সব পকেট চেক করেও কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। সবাই তো হতবাক! কি আছে তার সাথে? সেনা সদস্যরা আমাদেরকেও শব্দ শুনিয়ে বললেন, ‘কি আছে বের করে দিলেই আমরা উনাকে ভেতরে যেতে দিব। জানতে হবে কি লুকিয়ে রেখেছেন তিনি।’ অনেক কথা কাটাকাটির পর এক পর্যায়ে ফারুকী নানার বডি চেক করা হলো। বডি চেক করে পাওয়া গেল তার কোমরে সুতো দিয়ে বাঁধা একগুচ্ছ চাবির ছড়া। ফারুকী নানা তখন ফুলপুর ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। কলেজের অফিসের সব চাবি তার কোমরে বাধা ছিল। মেটাল ডিটেক্টর মূলত: এগুলোকেই সনাক্ত করে শব্দ করে উঠেছিল। আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। সেনা সদস্যরাসহ সবাই হেসে দিলাম। অতঃপর নানাকে সাথে নিয়ে সবাই তখন বঙ্গভবনের ভেতরের আঙিনায় গেলাম। একজন সেনা সদস্য ওখান থেকে আমাদেরকে দরবার হলে নিয়ে গেলেন। প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে আমাকে বসানো হলো রাষ্ট্রপতির চেয়ারের পাশের ভিআইপি চেয়ারে। আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে নাস্তা এলো। আমরা নাস্তা খেলাম।

এক পর্যায়ে ঐতিহাসিক বাংলা সিনেমার মতো ভেতর থেকে উচ্চস্বরে আওয়াজ দেওয়া হলো, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আ-সি-তে-ছে-ন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বেধে দেওয়া ছিল ২০ মিনিট। তিনি আমাদের সাথে প্রায় এক ঘন্টা মফস্বল সাংবাদিকতা, ফুলপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন। আমি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ৫ মিনিট বক্তব্য দিয়ে স্মারকলিপি পাঠ করলাম। তারপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস আমাদের প্রত্যেকের সাথে কুশল বিনিময় করলেন। সবশেষে সবার সাথে হ্যান্ডশেক করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভেতরে চলে গেলেন। এরপর আমরা ফিরে আসলাম। দুদিন পর্যন্ত রেডিও টিভিতে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাতের নিউজ প্রচার হয়েছিল। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এ খবর ছাপা হয়েছিল। ওই স্মৃতি আজও আমাদের মনে মাঝেমধ্যেই জেগে উঠে। আজ সেই স্মৃতির কিছুটা লিখলাম। যে সকল সাংবাদিক বন্ধু সেদিন আমার সাথে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন মনে থাকলে তারা কমেন্টে কিছু স্মৃতি লিখতে পারেন।”