মোঃ আব্দুল মান্নান :
গত কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। দুই দিন ধরে বৃষ্টি কমলেও জলাবদ্ধতায় আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। ফুলপুর সরকারি কলেজ, আমুয়াকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও

বালিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, খাদ্য গুদাম, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাজারো মানুষের থাকার ঘর প্লাবিত হয়েছে। শাক সবজি ও নানা জাতের ফসলাদি বিনষ্ট হচ্ছে। নিজেদের খাবার কষ্ট তো আছেই কৃষকরা সবচেয়ে চিন্তিত গবাদি পশু ও তাদের থাকা খাওয়া নিয়ে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ও বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অপরিকল্পিত ফিশারিজ, নতুন নতুন বাড়ি ঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে উঠায় এবং কিছু কিছু জায়গায় পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব কলহের জেরে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে রাখায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় সব জায়গাতেই পানি জমে। পরে নেমে যাওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, বৃহস্পতিবার আমি সিংহেশ্বর মাঠখলা মাদরাসা এলাকা পরিদর্শন করেছি। ওখানে ৮-১০টি পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছিলেন। পারিবারিক রেষারেষিতে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে রাখায় ওই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরে আলোচনা করে উহা নিরসন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক, জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান ও ফুলপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকালে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। এসময় তাদের সাথে সিংহেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, আমি এখনো স্পটে আছি। দেখছি। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এ পরিস্থিতি হতো না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।