মো. আব্দুল মান্নান :
প্রিয় পাঠক, শুনে অবাক হবেন। আল্লাহর ওলী এখনো আছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এই ক্বারী আব্দুল জব্বার একজন আল্লাহর ওলী। উনার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আউটিয়া গ্রামে।
তিনি একজন ভালো ক্বারী।

ছোট বেলায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিংবদন্তি নিগুরকান্দার ক্বারী জাকারিয়া (রহ.)-এর নিকট পড়েছেন তিনি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেছেন। উনার জন্ম ১৯৩৭ সনের ২০ ডিসেম্বরে। উনার আব্বার নাম মৃত সদর উদ্দিন আর মা ছিলেন কয়েদবান নেছা। তারা আজ আর কেউ নেই। উনার দুজন সন্তান রয়েছেন। ছেলে আসাদুল ইসলাম ইটালিতে থাকেন। আর মেয়ে জুবেদা খাতুনের বিয়ে হয়েছে ঢাকায়। মীরপুর-১-এ শাহ আলী মার্কেট সংলগ্ন বাসা।

মেয়ের জামাইয়ের নাম আব্দুল করিম। তিনি একজন সাব-কন্ট্রাক্টর। ক্বারী আব্দুল জব্বারের ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চল হালুয়াঘাটের কালিয়ানিকান্দা এলাকায় অনেক আত্মীয় স্বজন আছেন।
কালিয়ানিকান্দা গ্রামের সিরাজ মেম্বার উনার চাচাতো ভাই। এ সুবাদে এদিকে উনার যাতায়াত রয়েছে। বয়সের ভারে তিনি কুঁজো হয়ে হাঁটেন। জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে তিনি ফুলপুরে এসেছিলেন। পরে উনার পথখরচা কম পড়লে শেরপুর রোডে ইলেকট্রিক পার্টস ব্যবসায়ী সাবেক সেনাসদস্য শাহজাহানের নিকট থেকে ১০০ টাকা নিয়েছিলেন ক্বারী আব্দুল জব্বার। ওই কর্জ পরিশোধ করতে উনি পেরেশান হয়ে ঈদের দিনই চলে আসেন ফুলপুরে। কিন্তু ঘটনাক্রমে উনার আসতে দেরি হয়ে যায়। হয়তো গাড়ি পেতে কষ্ট হয়েছে। অবশেষে তিনি রাত দেড়টার দিকে এসে পৌঁছেন ফুলপুরে। আর্মি শাহজাহানকে না পেয়ে তিনি শেরপুর রোডের বাইতুন নূর জামে মসজিদে যান কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় ও মুয়াজ্জিন ছুটিতে থাকায় তিনি জায়গা পেলেন না মসজিদেও। অবশেষে রাত কাটান মসজিদের অজুখানায় বসে। এ প্রতিবেদক ফজরের সময় মসজিদে গেলে কথা হয় উনার সাথে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বুঝতে পেরেছি, তিনি একজন আল্লাহর ওলী। পরে শেরপুর রোড মোড় পর্যন্ত উনাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি। আল্লাহ তায়ালা উনাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুক।