মো. আব্দুল মান্নান : ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আজ হলো রবিবার (১৬ জুন)। ঈদের আছে একদিন। নাড়ির টানে যাত্রীরা ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে ধেয়ে আসছে বাড়ির দিকে। সড়কে যে পরিমাণ গাড়ি আছে, তাদের যে পরিমাণ যাত্রীর প্রয়োজন তার চেয়ে যাত্রী আরও অনেক বেশি আছে।
সাহাপুর গ্রামের আইনুল হক নামে সিএনজিচালিত একজন অটো চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ায়নি। তারপরও ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে চারগুণ পর্যন্ত। এই চালক নিজেই বলেন, ফুলপুর থেকে আগে আমরা ময়মনসিংহ যেতাম জনপ্রতি ৬০ টাকা করে এবং আসতামও এই ভাড়ায় কিন্তু এখন যাওয়ারটা তেমন বাড়েনি তবে ময়মনসিংহ থেকে ফুলপুরে আসার ভাঠা বেড়েছে ২ থেকে ৪ গুণ। বর্তমানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে। অটোচালক আকিকুল বলেন, ফুলপুর থেকে নাগলার ভাড়া আগে ছিল ১৫ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। মোটরসাইকেল ড্রাইভার আজিজুর রহমান বলেন, আমরা যেখানেই যাই না কেন বর্তমানে ভাড়া ডাবল হয়েছে। ডাবল দিতে হবে।
রিপন নামে ঢাকা ফেরত এক যাত্রীর নিকট ভাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়ার কথা আর কয়েন না ভাই। জনপ্রতি ৮০০ টাকা করে নিছে।
নকলাগামী একটি ট্রাক শেরপুর রোড মোড়ে বাবলু ডাক্তারের ৬ তলা বিল্ডিং 'রাজিন প্লাজা'-র সামনে এসে থামলে কোথায় থেকে এসেছেন ও ভাড়া কত দিলেন? জিজ্ঞেস করলে শান্ত নামে একজন যুবক বললেন, আমরা টঙ্গী থেকে নকলা পর্যন্ত ফুরায়ে এসেছি জনপ্রতি ৫৫০ টাকা করে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।
শুধু তাই নয়, বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাড়ি যাওয়ার আগে অনেকেই যাচ্ছেন ফলের দোকানে। মা বাবা বা আত্মীয় স্বজনদের জন্য একটা কিছু নিতে হয়। এটা সুন্নাত। কিন্তু ঈদকে ঘিরে সেখানেও দর বাড়তি। বাসস্ট্যান্ডে পোস্ট অফিসের সামনে মহাসড়কের পাশে বসে ফল বিক্রেতা বৃদ্ধ মুরুব্বি আব্দুল বারেক বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি ফলের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফলের দর তো বাড়ছেই তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে কেরিং খরচও বাড়ছে। এই যে বাড়তি টাকা গুণতে এটা শুধু ঈদের দিন বা এর আগে পিছে ১/২দিন নয় বরং আগে পিছে মিলিয়ে কমপক্ষে ৪-৫ দিন করে ৮-১০ দিন এ বাড়তি ভাড়া গুণতে হবে। ফুলপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান যাত্রী সাধারণকে এ হয়রানি থেকে রক্ষা করতে একটি চমৎকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকা বেশি নেয় তাহলে আমাদেরকে জানাবেন। প্রয়োজনে ৯৯৯ -এ মোবাইল করবেন। কিন্তু ফোন করে পুলিশ এনে বাড়তি ভাড়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মত সাহস বা সময় কয় জনারইবা আছে? সুন্দর হতো, যাত্রী সাধারণের হয়রানি কমতো পুলিশ যদি সিভিলে ডিউটিতে গিয়ে ড্রাইভার ও পেসেঞ্জারের সাথে কথা বলতেন। তাহলে বাড়তি নেনেওয়ালাদেরকে হাতেনাতে ধরা ও জরিমানা করা সহজ হতো। দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতো অসহায় যাত্রী সাধারণ। আশা করছি, আমার লেখা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে যাবে এবং ভুক্তভোগীরা পাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা। ঈদ হোক সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দমুখর।