মো. আব্দুল মান্নান :
ওসি, ইউএনও, ডিসি, এসপি পদগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সচিব এগুলো খুবই দামি পদ। এসব পদ যেমন দামি এসব পদে যারা আছেন তারাও তেমন দামি; তাদের একেকটা কথাও সেরকম দামি।
এসব পদে থেকে ইচ্ছা করলে মানুষের অনেক বড় বড় উপকার করা যায়। আবার বিপরীতে চাইলে মানুষের বড় বড় ক্ষতিও কিন্তু করা যায়। তবে সরকার তাদেরকে উপকার করার জন্যই এসব পদ দান করেছেন; ক্ষতি করার জন্য নয়।
মাশাআল্লাহ, যারা তাদের এ পদের যথাযথ কদর করবেন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আরও উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। আর যারা এরকম উপকার করার সুযোগ পেয়েও করলো না বরং ঘুষের বিনিময়ে বা বিশেষ রাগ অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ক্ষতি করলো তারা তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টাই বরবাদ করে দিলো।
কাজেই বুদ্ধিমান তারাই যারা দুনিয়ায় বসে তার আখেরাতকে বানিয়ে নিয়ে গেলো।
আজ বুধবার (২৯ মে) ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার ওসি ওয়াজেদ আলী তেমনই একটি প্রশংসনীয় বা পরকালে নাজাতের উসীলা হতে পারে এমন একটি কাজ করেছেন। একটু মান অভিমান করে স্বামী স্ত্রী দুজনই প্রায় পৃথক হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। উনার বুঝানোতে ফিরে আসে ওই দম্পতি তাদের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে। ওসি বলেন, তারা এমন একটা পর্যায়ে যাচ্ছিল যে, বাবা-মা জীবিত থাকলেও তাদের সন্তানটি এতিম হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। যাক, আলহামদুলিল্লাহ, সে ভয়াবহ কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে তারা অবশেষে ফিরে এসেছেন। তাদের মাঝে পুনর্মিলন হয়েছে।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ওসি ওয়াজেদ আলী বলেন,
‘জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র নাতনীকে সন্তান সহ স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দিলাম। এতো সুন্দর একটা ফুটফুটে ছেলে সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী কিভাবে তালাক এর মতো হত্যাসম সিদ্ধান্ত বেছে নেয় জানি না। শুধুমাত্র মান অভিমান আর সংসারে অভাব অনটন কে উপলক্ষ করে এই পরিবার এই সন্তানকে বাবা-মা জীবিত থাকতেও এতিম করতে চেয়েছিল। জাস্ট ঘন্টা খানেক বুঝানোর পরে খুব সুন্দর ভাবে তাদের পূণর্মিলন হয়। সবাই সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক আর আজকের শিশুরা ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক এর চেয়ে আর ভালো প্রত্যাশা কি হতে পারে!!’