• বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত ১ প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা আর নেই ‘আয়ুব আলী খোকন একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন, যতগুলো গুণ থাকা দরকার তার মধ্যে সবই ছিল’ ময়মনসিংহ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের নির্বাচনি পথসভা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দাঁড়ি ধরে হেনস্তার অভিযোগ : প্রশাসনিক তদন্ত দাবি মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল ফুলপুর পয়ারী গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী খোকন স্যার আর নেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মুখলেছুর রহমান ছিলেন একজন সৎ দানবীর ও ভালো মনের মানুষ ফুলপুরে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ পৃথক অভিযানে আটক ২ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের তারাকান্দা ও ধোবাউড়া সফর

ফুলপুরে যৌতুকের জন্য সাদিয়া হত্যা নাকি আত্মহত্যা

Reporter Name / ১৩০ Time View
Update : বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
বিবাহের পর দুই মাস যেতে না যেতেই যৌতুকের বলি হয়েছেন সাদিয়া আক্তার (১৯) নামে এক নববধূ। তার হাতের মেহেদির রঙ আজও শুকায়নি। এরই মাঝে সোমবারে জামাই বাড়ি থেকে যৌতুকের দাবি নিয়ে ঘটক আসে। যৌতুক দিতে না পারায় মঙ্গলবারে সাদিয়ার মৃত্যুর খবর আসে। ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু পরিবারের দাবি হত্যা। ময়মনসিংহের ফুলপুরে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রমজান মাসের ৪-৫ দিন আগে ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে ফুলপুর আঞ্জুমান সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড’ নামক বোরকার দোকানের কর্মচারী হানিফের সাথে বিবাহ হয় সাদিয়ার। সাদিয়া হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কয়রাহাটি গ্রামের মুকসেদুল ও সখিনা খাতুনের কন্যা এবং কয়রাহাটি খাদিজাতুল কুবরা (রা.) মহিলা মাদরাসার মিশকাত জামাতের ছাত্রী ছিলেন।
বিবাহের সময় যৌতুকের কোন কথা না থাকলেও হানিফ হঠাৎ সোমবার (১৩ মে) তার জেঠাত ভাই এ বিয়ের ঘটক হারুনকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠায় যৌতুকের জন্য। হারুন সাদিয়ার দাদা মিরাজ আলীর নিকট গিয়ে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সে বলে, আপনাদের জামাইয়ে আমারে পাডাইছে। লাখ দুয়েক টাকা লাগবে। জামাইয়ের ভাতিজা খোকন বিদেশ যাবে। তার দাদা বললেন, এখন টাকা হাতে নাই। গরুডি বেইচ্যা ২ চাইরের মধ্যেই পাডাইয়াম। এরই মাঝে জামাই হানিফও মোবাইলে টাকা দাবি করে। পরে সাদিয়ার দাদী নূরুন্নাহার বললেন, ভাতিজা বিদেশে যাইবো হেইনো আমরার টেহা দেওন লাগে কেয়া? তুমি নিজে ব্যবসা কর। লাগলে ২ লাখ নেও। কিন্তু অইন্য কেউরে টেহা দেওন যাইতো না। তবে সাদিয়ার দাদা বলেছেন যে, আমি গরুডি বেইচ্যা ২ চাইরের মধ্যেই টেহা লইয়া আইয়াম। এসব কথা বার্তার পর চলে যায় ঘটক হারুন। বাড়িতে গিয়ে জামাই হানিফকে সে কি রিপোর্ট দিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরের আগেই খবর আসে সাদিয়া আর নেই। সাদিয়াকে মেরে তাদের ঘরে ফ্যানের সাথে টানিয়ে রেখে ফাঁসি নিয়ে মরার নাটক সাজায় হানিফ। সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটালেও জামাই বাড়ির কেউ সাদিয়ার বাড়িতে খবর দেয়নি; দিয়েছে সাদিয়া নামে সাদিয়ার এক বান্ধবী। ওরও ওই এলাকায় বিয়ে হওয়ার সুবাদে ঘটনাটি জানতে পেরে মোবাইলে জানায় সে। পরে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে সাদিয়ার বাবার বাড়ি থেকে অর্ধ শতাধিক লোক ফুলপুরে আসেন।
এদিকে, তারা আসার আগেই ফুলপুর থানার এসআই জিয়া ও এসআই তরিকুলসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর থানায় মামলা নেওয়ার জন্য ও ঘাতক স্বামী হানিফ, ঘটক হারুন ও সাদিয়ার শ্বাশুরিসহ বেশ কয়েকজনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে থানা এলাকায় মিছিল করে তারা। পরে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুমন মিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এ ব্যাপারে ফুলপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাদিয়ার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে। জানা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এছাড়া এ ব্যাপারে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা