মো. আব্দুল মান্নান :
মো. শরীফুল ইসলাম সুরুজ (৮০) আর নেই। আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) ভোরে ঢাকার সিএম এইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন।

মরহুম সুরুজ আলী আমার বড় জামাতা হাফেজ হাফিজুল্লাহ শিবলীর চাচা। তার পিতা মরহুম রিয়াজ উদ্দিন মেম্বার ছিলেন স্থানীয় বিশিষ্ট মুরুব্বি। তিনি বিএসসি পাস করে একটি সম্মানজনক পদে চাকরি করতেন। ফুলপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারের সদস্য ছিলেন তিনি। ভাল মানুষ ছিলেন। মিশুক মানুষ ছিলেন। কিছু দিন আগে ফুলপুর উপজেলা গেটে উনার সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। সালাম বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত কথাবার্তার পর বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি আমাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
এর আগে আমার পুত্রা হাফেজ মুজাদ্দিদের বিবাহ উপলক্ষে গোদারিয়া মাদরাসা রোডে উনার বাসায় যাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি খুব প্রানবন্ত আলাপ আলোচনা করেছিলেন। আপ্যায়ন করেছিলেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। গোদারিয়া মাদরাসা রোডে অনেক বড় ও সুন্দর বাসা করেছেন। এসব বর্ণনা দিলেন। ছেলে মেয়েরা চাকরি করেন। তাদের পারফরম্যান্সে খুশি তিনি। মাঝে মাঝে তারা বেড়াতে আসেন এ বাসায়। আর অধিকাংশ সময় উনাকে একাই থাকতে হতো ওই বিশাল বাসায়। আমি বাসা করেছি কি না এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিলেন।
তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বড় ছেলে নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কায়সার মাহমুদ রিজভী। তিনি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার। ছোট ছেলে রায়হান সাজ্জাদ নঈম সাবেক এশিয়ান ব্যাংক কর্মকর্তা।

আর মেয়েটি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে কর্মরত আছেন। উনার নাম ফারজানা আক্তার রিপা। উনার স্বামী বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার। এসব আলাপ করেছিলেন তিনি। ছেলেমেয়েদের প্রতি খুব খুশি ছিলেন।
ভাতিজা ওয়াকিল আহমেদ উনার খোঁজ খবর রাখতেন। উনাকে সময় দিতেন। ভাতিজাদের প্রতিও ছিল তার দরদ স্নেহ। তাদেরকেও অনেক আদর করতেন তিনি।
যতটুকু সময় ছিলাম উনার কথাবার্তা ও ব্যবহারে মুগ্ধ ছিলাম। উনার ভাতিজা ওয়াকিল আহমেদ জানালেন আজ বাদ আসর গোদারিয়া মাদরাসা মাঠে উনার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে ছোট কুঁড়েরপাড় জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। জানাজায় শরীক হওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করুক।