অনলাইন ডেস্ক :
৫০ বছর আগে জন্মাইলে বড় বাচন বাইচ্যা যাইতাম। গ্রামে থাকতাম। পুকুরে নাইম্যা ডুব দিয়া গোফের উপর কাদার লেয়ার ফেলতাম। স্কুলে যাওয়ার বদলে নারকেল চুরি করতাম। কলাগাছের কলা চুরি করতাম। কাদার ভেতর লুটোপুটি খেলতাম। পরের দিন স্কুলে গিয়ে স্কুলে না আসার কারণে স্যারের ঠেংগানী খাইতাম। এরপর স্কুলে যাওয়াই বন্ধ কইরা দিতাম। বাপের সাথে মাঠে যাইতাম। ধান লাগাইতাম। পাট লাগাইতাম। জাল দিয়ে মাছ ধরতাম। নদীতে নাইম্যা আচ্ছা মত ডুবাইতাম। ২০-২২ বছর বয়সে বিয়া করতাম। ঘর অইত মাডির। বৃষ্টি অইলে খেড়ের চাল দিয়া চুইয়া চুইয়া পানি পড়তো। চালে উইট্যা সেটা ঠিক করতাম। সকাল অইলে পান্তা ভাত দেইখ্যা বউরে খানিক্ষণ ঝাড়তাম। এরপর না খাইয়াই মাঠে যাইতাম। কাদায় নাইম্যা কাম করতাম।
পাশের বাড়ির ভাবি আইস্যা বউকে বুদ্ধি দিতো। তোমার জামাইডা ভালো না। খালি চিল্লায়। বউ উত্তর দিতো, ব্যাডা মানুষ এক্টু এমুনই অয়। এমনে মানুষটা বালা আছে।
নারকেলের মত বাইরে শক্ত ভেতরে টলটলা পানি। এরপর দুপুরে বাড়িত আইস্যা দেখতাম ঠিকই খাওন রেডি। প্লেইট ভর্তি ভাত আর খেতের সব্জি। সাথে নিজের ধইরা আনা মাছ। আর মুরগীর ডিম। সপ্তাহে এক দিন মুরগীর ডিম। সাপ্তাহিক আডে গিয়া আট করতাম। দুই আনা দাম কমাইবার লাইগ্যা হেব্বি মুলামুলি করতাম। বউয়ের জন্য লাল ফিতা আর প্লাস্টিকের লাল চুরি আইন্যা দিতাম। সেই রাতে বউ খুশিতে বাক বাকুম করতো।
টেনশান নাই। রোগ বালাই হইলে কবিরাজের ওষুধ খাইতাম। মাডে কাম কইরা পায়ে ইনফেকশান অইয়া গেলে শিশি থাইক্যা তুইত্যা লাগাইতাম। লাইফ ক্যারিয়ার সাক্সেস, পিজ্জা বার্গার, আইফোন, ম্যাকবুক, ফেসবুক, ড্রোন, মাসের বাসা ভাড়া, গাড়ি, বাইক, পশু লাইফ, কিচ্ছু নিয়া কোন চিন্তা নাই। গার্ল ফ্রেন্ডের বাপ এস্টাব্লিশড না অইলে বিয়া দিতনা সেই চিন্তা নাই। গাড়ি বাড়ির চিন্তা নাই।
কোথাও বুশ গিয়া কই বুম ফুডাইছে? কে কারে অ্যাটাক দিছে? দুনিয়া নিয়া চিন্তা নাই। কে ভাইরাল অইলো নাকি কারেন্ট ইস্যু কি? এসব ভাববার টাইম নাই। সন্ধ্যার পরই ঘুম। বাসা ভাড়া দেওয়ার প্যারা নাই। বাবা মা ছেড়ে দুরে একলা থাকা নাই। চিন্তা নাই। কাজ করো। খাও। ঘুমাও আর বছর বছর বাচ্চা পয়দা করো। হার্ট অ্যাটাক, হার্টে ব্লক, অফিসের প্যারা, বসের ঝাড়ি এসব নাই। আহা! Life was there and I’m a little bit, late in this planned.
* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।