মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে চলতি ২০২৪ সনের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মাদরাসায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এ+ -এর পরিমাণ তুলনামূলক অনেক কমেছে। উপজেলার একটি স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেল ৭০ জন আর ২০ মাদরাসায় মাত্র ৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। আজ (১২ মে) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল শীট থেকে এ তথ্য জানা যায়। উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৩২টি বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিলেন ২৪৬১ জন, ৬টি এসএসসি (ভোক) বিদ্যালয় থেকে ২৩৫ জন ও ২০টি দাখিল মাদরাসা থেকে ৬০১ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন এসএসসি ১৯৮৩ জন, এসএসসি (ভোক) ১৯৬ জন ও দাখিলে ৩৮৯ জন। ফুলপুরে এসএসসির গড় পাসের হার ৮০.৮২% আর দাখিলে গড় পাসের হার ৬৪.৭৩%।

পাসের হার বিবেচনায় ফুলপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম হয়েছে আবেদুজ্জামান খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এতে পাসের হার ১০০%। ২০ জন শিক্ষার্থীর সব কজনই পাস করেছেন। দ্বিতীয় হাটপাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। এর পাসের হার ৯৮%। ৮১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭৮ জন। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এতে পাসের হার ৯৫.৯১%। ৩১৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩০৫ জন। আর এসএসসি (ভোক) প্রথম ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পাসের হার ১০০%। ২০ জন থেকে ২০ জনই পাস করেছেন। দ্বিতীয় ঠাকুর বাখাই ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। পাসের হার ৯১.৩০%। ৪৬ জন থেকে পাস করেছেন ৪২ জন। আর তৃতীয় ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। পাসের হার ৮৬.৭৩%। ১১৩ জন থেকে পাস করেছেন ৯৮ জন। মাদরাসার ফলাফলে পাসের হার বিবেচনায় প্রথম সঞ্চুর বালিকা দাখিল মাদরাসা। পাসের হার ৮০.৯%। ২১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন। দ্বিতীয় হরিণাদী এমদাদিয়া ফাজিল মাদরাসা। পাসের হার ৮০.৮%। ২৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২১ জন আর তৃতীয় চরগোয়াডাংগা ফাজিল মাদরাসা। পাসের হার ৭৭.৩%। ৬৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ জন। এবার উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ৪৭৮ জন, এসএসসি (ভোক) ৩৯ জন ও দাখিল পরীক্ষায় ২১২ জন। তবে সার্বিক বিবেচনায় উপজেলায় ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবারও সেরা বলে দাবি করেছেন অনেকে। এ বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের টান অনেক বেশি। এই একটি বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৩১৮ জন। পাস করেছেন ৩০৫ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৭০ জন। এই একটি বিদ্যালয়ের সমান ফলাফল করতে পারেনি উপজেলার ২০টি মাদরাসা। ২০ মাদরাসা থেকে কাতুলী এমদাদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ২ জন ও ফুলপুর মহিলা কামিল মাদরাসা থেকে ১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হরিণাদী ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আতাউল্লাহ ফকির বলেছেন, বর্তমানে ছাত্ররা লেখাপড়া করে কম। মেধাবীরা আমাদের মাদরাসায় আসে কম। ওরা ঢাকায় চলে যায়।
এ ব্যাপারে শিক্ষকদের কোন কমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আছে। শিক্ষকদের মধ্যে কিছু আছে দুর্বল। কমিটি টাকা খেয়ে তাদের নিয়োগ দিয়েছে। এসব দুর্বল শিক্ষকদের পাঠদান সমস্যার কারণেও ফলাফলে এ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ থেকে উত্তরণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লাসে সময় আরও বাড়াতে হবে। অধিক ক্লাস করার দ্বারা অনেক সময় দুর্বলতা কেটে যায়, ছাত্র গঠিত হয়।
মনে করেন আলিয়া মাদরাসাগুলোতে লেখাপড়া ও আমলের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। ৩২টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২৬৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আর ২০টি মাদরাসা থেকে অংশ নিয়েছেন মাত্র ৬০১ জন। কিন্তু মাদরাসায় শিক্ষার্থী এত কম কেন? অভিভাবকরা মাদরাসামুখি হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে আরও জানতে কাতুলী এমদাদিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমানকে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।