মো. আব্দুল মান্নান :
অজ্ঞাত এক যুবক (৩৫)-কে হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ১১ মার্চ সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আল আমিন নগর এলাকার এসএস রহমান ডক ইয়ার্ড ঘাট সংলগ্ন নদীর পশ্চিম পাড় থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লোমহর্ষক ক্লুলেস ওই মার্ডারের মূল সন্দেহভাজন আসামি শামসুল ইসলাম খোকা (৩৫)-কে ১ মাস ২৫ দিন পর সোমবার (৬ মে) রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সাকুয়াই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ।
জানা যায়, অজ্ঞাত ওই মরদেহটি উদ্ধার করার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় ও ময়না তদন্তের জন্য উহা নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশক্রমে ময়মনসিংহ সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ময়মনসিংহের মাইজবাগ ও হালুয়াঘাটের সাকুয়াই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। আসামি শামসুল ইসলাম খোকা সাকুয়াই গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের পুত্র। উল্লেখ্য, মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাকে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ করপোরেশন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
এদিকে, আসামিকে গ্রেফতারের পর নারায়ণগঞ্জের সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ-এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়। তিনি আরও জানান যে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান বিগত দিনে যেভাবে চলমান ছিল ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।