• সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুখলেছুর রহমান ছিলেন একজন সৎ দানবীর ও ভালো মনের মানুষ ফুলপুরে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ পৃথক অভিযানে আটক ২ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের তারাকান্দা ও ধোবাউড়া সফর সাংবাদিক ইমনের বাবার জানাজা সম্পন্ন : দোয়ার দরখাস্ত ‘একই বুথে দুইজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না’- ইউএনও, ফুলপুর মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেলেন ফুলপুরের দুই মুরুব্বি ময়মনসিংহে নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহ-২ আসনে কারাগারে আটক পিতার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন কন্যা কাশফী ময়মনসিংহ-২ আসনে হাতপাখার পক্ষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোট প্রার্থী মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর রিকশা প্রতীকের পক্ষে বিশাল মিছিল

ফুলপুর উপজেলা হাসপাতাল মসজিদের ইমামকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধনা

Reporter Name / ৪৭৮ Time View
Update : রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুফতী ইলিয়াস আহমাদকে মসজিদ কমিটি ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে ওই বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন,

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ হাসপাতালের স্টাফ লুৎফর রহমান, খায়রুল আলম, রুবেল, আনিছুর রহমান, হাফিজ, বাবুল, মুয়াজ্জিন হাফেজ মাওলানা আমানুল্লাহ, সাইদুর রহমান, দারুল ইহসান (এক্সিলেন্ট) মাদরাসার পরিচালক শেরপুর রোডের বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান, ডা. মাহমুদুল হাসান মাসূম, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন সরকার প্রমুখ। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আলম মাসূমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


সভাপতির বক্তব্যে ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, আমার আগে যারা বক্তব্য রেখেছেন সবাই তাদের ভেতর থেকে কথা বলছিলেন। কারো প্রতি আন্তরিক মহব্বত ও ভালবাসা না থাকলে এ রকম বক্তব্য আসতো না। আসলে কাউকে বিদায়ের সময় বুঝা যায় যে, সে কেমন কর্মকর্তা ছিল। আমার আগে অনেকেই বলে গেছেন ‘উনার পেছনে নামাজ পড়তে আমাদের ভাল লাগে।’ এটা উনার এক বিশাল অর্জন। এ অর্জনের চেয়ে আর ভালো কিছু হতে পারে না।

আমি যতটুকু অনুভব করেছি, মাওলানা ইলিয়াস হুজুরের একটা সম্মোহনী ক্ষমতা রয়েছে যা দ্বারা তিনি মানুষকে কাছে টানতে পারেন। আল্লাহ পাক সবাইকে এ গুণ দেন না। বিগত দিনে তিনি আমাদের নামাজ পড়িয়েছেন, দোয়া মুনাজাতে সবসময় আমাদের মঙ্গল কামনা করেছেন। আমরাও তার মঙ্গল কামনা করি। ইমাম সাহেবের তেলাওয়াত, উচ্চারণ ও ব্যক্তিত্বে সারাক্ষণ আমরা মোহিত থাকতাম। আল্লাহ তার মঙ্গল দান করুক।


তিনি আরও বলেন, আসলে ইমাম মাওলানা ইলিয়াস ছিলেন আমাদের সকলের হৃদয়ের মানুষ। মনমত একজন ইমাম। তাকে আমরা ছাড়তে চাইনি। কিন্তু উনার যে বেতনে বর্তমানে চাকরি হয়েছে সেই টার্গেট ফিলআপ করা আমাদের সাধ্যের বাহিরে। যে কারণে তাকে আজ আমাদের বিদায় দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সম্ভব হলে আমরা আবারও তাকে এ মসজিদে নিয়ে আসবো। এসময় তিনি মাওলানা ইলিয়াস আহমাদকে লক্ষ্য করে বলেন, আমাদের দোয়া আপনার সাথে রয়ে গেলো। আপনি ভাল থাকবেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।


এর আগে সভাপতি তার বক্তব্যে এ হাসপাতালের সাবেক পিএইচও ডা. রাশেদুজ্জামানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ডা. রাশেদুজ্জামান স্যার মসজিদের জন্য পৃথক বাউন্ডারিসহ যে উন্নয়ন করে গেছেন তা আমরা কেউ কোনদিন ভুলতে পারবো না। তিনি কাজের মত একটা কাজ করে গেছেন।
ডা. হুমায়ুন আরও বলেন, সমাজে অনেকে ভাল মানুষ কিন্তু পরিবারে নয়। পরিবারে যিনি ভাল মানুষ তিনিই ভাল মানুষ। হুজুর আমাদের পরিবারে অত্যন্ত ভাল একজন মানুষ ছিলেন।

আমরা উনার সাথে যেভাবে আচরণ করেছি নতুন যিনি আসতেছেন (মুফতী রফিকুল ইসলাম) তার সাথেও সেই রকম ব্যবহার করা হবে। তাকেও সেভাবে সাপোর্ট দেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা মাওলানা ইলিয়াস আহমাদ হুজুরসহ সবাইকে ভাল রাখুক। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো। এর আগে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, নামাজটা পড়ে বের হতেই অনেকে বলতেন, ‘একজন ইমাম নিয়েছেন ভাই। মনের মত একজন ইমাম। এতে মনটা জুড়ায়ে যেতো। তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালের সাবেক পিএইচও ডা. রাশেদুজ্জামান স্যার যেভাবে আমাদেরকে আজও স্মরণ করেন আশা করি আপনিও সেভাবে স্মরণ করবেন। পারলে এ মসজিদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। এ মসজিদকে নিয়ে আপনি আগে যেভাবে চিন্তা ফিকির করতেন আশা করি এখনো ভুলবেন না। আপনার জন্য দোয়া রইলো। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ডা. জাকির হোসেন অত্যন্ত চমৎকার করে সবার বক্তব্যের মূল শিক্ষণীয় অংশ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর যাবৎ এ হাসপাতালে আছি। উনার মত এত ভাল ইমাম আর পাইনি। লেখাপড়ার প্রতি ছিল উনার প্রচুর আগ্রহ। মসজিদের উন্নয়নে তিনি সবসময় ফিকির করতেন। তিনি সবসময় আমাদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করতেন। উনার কথায় ও কাজে বিশেষ সৌন্দর্য ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাকে আরও উন্নতি দান করুক।


বিদায়ী অতিথি হিসেবে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব (বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণখানের বাইতুর রহমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব) হাফেজ মাওলানা মুফতী ইলিয়াস আহমাদ বলেন, হাটহাজারী মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়ার পর ফুলপুর হাসপাতাল জামে মসজিদে আমার প্রথম কর্মজীবন শুরু হয়। এখান থেকে যা পেয়েছি তা ভুলার নয়। এ হাসপাতাল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি হাসপাতালের কাছে এবং হাসপাতাল মসজিদ কমিটির কাছে কৃতজ্ঞ। এ মসজিদের উন্নয়নে আগে যেমন ফিকির করতাম ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ মনে রাখবো। গতকালও এ ব্যাপারে আমি ডাক্তার রাইসুল হুদা স্যারের সাথে আলাপ করেছি। আমরা তো আসলে এ দুনিয়ায় কেউ থাকবো না। এরকম মসজিদ মাদরাসার জন্য যদি সদক্বায়ে জারিয়া হিসেবে কিছু করে যেতে পারি তাহলে এগুলোই হতে পারে আমাদের নাজাতের জরিয়া। আমার কথা শুনে স্যার খুশি হয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন। ইনশাআল্লাহ তিনিও এ মসজিদের জন্য ভাল একটা ভূমিকা রাখবেন। আমি এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করি। সবশেষে মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। এর আগে মসজিদ কমিটি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইমামকে কাপড়চোপড়, তাসবীহ, জায়নামাজ ও পাগড়িসহ বিভিন্ন হাদিয়া প্রদান করা হয়।


জানা যায়, হাফেজ মাওলানা মুফতী ইলিয়াস আহমদ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাঁচ কাহনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ওই গ্রামের ক্বারী মো. গোলাম মোস্তফা ও সুলতানা বেগম দম্পত্তির তিন ছেলের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি ছোট বেলায় ২০০৭ সনে দিউ সাইয়্যেদেনা উমর (রা.) আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা ধানমন্ডিতে একটি মাদরাসায় পুনরায় হিফজ শোনান। তারপর মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়াতে কিতাবখানায় ভর্তি হন। সেখানে ইবতেদায়ী জামাত থেকে শুরু করে কাফিয়া পর্যন্ত পড়েন। এরপর চলে যান মেখলে। সেখানে শরহে জামি থেকে হেদায়া জামাত পর্যন্ত পড়েন। এরপর দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে মিশকাত দাওরা ও তাফসীর বিভাগ সম্পন্ন করেন।
তারপর ২০১৮ সনে হাসপাতাল জামে মসজিদে ইমাম পদে খেদমত শুরু করেন। এসময় একই সাথে তিনি ফুলপুর সরকারি কলেজ রোডে (তৎকালীন সময়ে) অবস্থিত দারুল ইহসান (এক্সিলেন্ট) মাদরাসায় নাজিমে তালীমাতের দায়িত্ব পালন করেন। এ খেদমত করা অবস্থায় তিনি জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়া থেকে ক্বেরাত ও ইফতা বিভাগ সম্পন্ন করেন। ক্বেরাতে সারাদেশে তিনি ৩য় ও ইফতা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ মাওলানা মুফতী ইলিয়াস আহমদ ব্যক্তিজীবনে এক পুত্র সন্তানের জনক। তার আরেকজন পুত্র সন্তান ছিল যিনি এ হাসপাতালে খেদমত করাকালীন মৃত্যুবরণ করেছেন। সবমিলিয়ে তিনি অত্যন্ত ভাল মনের একজন মানুষ। তার সুন্দর ও অমায়িক ব্যবহার দিয়ে নতুন জায়গার সবাইকেও তিনি জয় করতে পারবেন বলে সবারই বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার তাওফীক দান করুক।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা