মো. আব্দুল মান্নান :
নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কেটে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে কৃষক। শত কষ্টের পর এবার মাথায় ধানের বোঝা নয় যেন আনন্দের বোঝা।
এ বোঝা মাথায় উঠার আগে কৃষককে জমি চষতে হয়েছে। চারা বা বীজের জন্য মাঠ তৈরি করতে হয়েছে। জমি চষার পর মই দিতে হয়েছে। ধান বুনতে হয়েছে। এরপর বীজ হয়েছে। সেই বীজ উঠিয়ে পুনরায় ক্ষেতে রোপণ করতে হয়েছে। এর জন্য প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে। আগাছা পরিষ্কার করতে হয়েছে। ক্ষেতে পানি দিতে হয়েছে। সার বুনতে হয়েছে। গরু ছাগলের উপদ্রব হতে রক্ষা পেতে ধান ক্ষেত চোখে চোখে রাখতে হয়েছে। ধান পাকা শুরু হওয়ার পর থেকে রাত্রি জাগরণ করে ক্ষেত পাহারা দিতে হয়েছে। এছাড়া আরও নানা পেরেশানির পর আজ মাথায় আনন্দের বোঝা উঠেছে। এতেই কি শেষ? এ বোঝা বাড়িতে নেওয়ার পর আরও রয়েছে কয়েক ধাপের কষ্ট। শত কষ্টের পরই আসে সুখের ছোঁয়া। আসলে যে জিনিস কষ্টে অর্জিত হয় সেটারই দাম বেশি। আনন্দ মূলতঃ ওখানেই।

ছবিটি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে আমাদের ভাই সুরুজ্জামান সুরুজ পাঠিয়েছেন। এটা শুধু নালিতাবাড়ীর আনন্দ নয় বরং এ আনন্দ যেন সমগ্র বাংলাদেশের আনন্দ। কেননা, আমাদের বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এখানের এমপি মন্ত্রী বা অফিসারসহ প্রায় সবাই কৃষক অথবা কৃষকের পুত্র। কোনো না কোনোভাবে কৃষির জড়িত। সে হিসেবে সবাই এ দৃশ্যের সাথে সুপরিচিত। এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক দেশ হতে দেশ দেশান্তরে। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে। প্রত্যেকের চোখেমুখে।