মো. আব্দুল মান্নান :
দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জনবান্ধব সিনিয়র সাংবাদিক তারাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিক বিশ্বাসকে একনজর দেখতে, তার শারীরিক খোঁজ খবর নিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভীড় জমে উঠেছে।
গত ৯ এপ্রিল দুপুরে তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কে ডৌহাতলী নামক স্থানে অটোরিকশার সাথে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগলে ওই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এতে তিনি জানে রক্ষা পেলেও ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। আনুমানিক তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর তার পায়ে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর তিনি বাড়িতে চলে আসলে আবারও তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। পরে পুনরায় তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি মমেক হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় ৭নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) এ প্রতিবেদক সরেজমিন রফিক বিশ্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি শারীরিকভাবে এতটা সুস্থ না থাকলেও মানসিকভাবে তাকে অনেকটাই শক্তিশালী মনে হয়েছে।
তিনি একজন মানবিক সাংবাদিক। তার হাত ধরেই এ প্রতিবেদকের দৈনিক তথ্যধারা পত্রিকায় ফুলপুর প্রতিনিধি হিসেবে লেখালেখি শুরু হয়েছিল। বর্তমানে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। রফিক বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর ফুলপুর-তারাকান্দা এলাকায় সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার নামের সাথে যেরকম বিশ্বাস শব্দটি জুড়ে আছে কাজের সাথেও রয়েছে এর মিল। ফলে তিনি আবাল বৃদ্ধ বণিতা সকলের বিশ্বাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন, ভালবাসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আজ এ অধমের সুযোগ হয়েছিল সরেজমিন গিয়ে তার খোঁজ খবর নেওয়ার। গিয়ে দেখা গেছে, আবু হানিফ নামে একজন তরুণ সমাজসেবক সেখানে উপস্থিত। তাকে দেখতে গিয়েছেন। একটু বসার পরই দেখা গেলো তাকে দেখতে এসেছেন তারাকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকারিয়া আলম তালুকদার। এভাবে একের পর এক আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও তার হিতাকাঙ্ক্ষী শুভাকাঙ্ক্ষীদের যেন ভীড় জমে উঠেছে মমেক হাসপাতালে।
খবর নিয়ে জানা যায়, জনবান্ধব এ সিনিয়র সাংবাদিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে তার প্রতি দরদ ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। তার প্রতি সমবেদনা জানাতে হাসপাতালে ছুটে যান ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. ফজলুল হক, তারাকান্দা ও ফুলপুর থানার সাবেক ওসি আবুল খায়ের সোহেল, দৈনিক স্বাধীন বাংলার সংবাদ অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক মফিজ উদ্দিন তালুকদার, এড. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক শাহীন আনোয়ার, ফুলপুর প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি যুগান্তর পত্রিকার ফুলপুর প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক মাসুদ রানা, রূপচন্দ্রপুর গ্রামের আনিসুল হক, তারাকান্দা থানার এসআই শামীম হোসাইন, তারাকান্দা জাপা নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক ফুলপুর প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক, তারাকান্দা থানার সাবেক সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল মালেক, সাংবাদিক শরীফুল আলম রাসেল, তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার কাকন, কলমাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক সৈয়দ হান্নান, তারাকান্দা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল সরকার, তারাকান্দা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আকিকুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মো. হক মাস্টার, তারাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল আলম শিশিরের ব্যক্তিগত সহকারী আজিজুল হক, ইউপি উদ্যোক্তা মাহবুব, হাবিবুর রহমান মামুন, বালিখা ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান (ওয়াহিদ মন্ডল), সাংবাদিক মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান রনি, সাগর তালুকদার, রফিক বিশ্বাসের মামাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইম উদ্দিন মিল্টন মন্ডল ও হরিয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ তুষারসহ অনেকেই ইতোমধ্যে তাকে দেখতে ও তার প্রতি সমবেদনা জানাতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন।
এ পর্যন্ত যতগুলো মানুষ তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন এটুকু চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, রফিক বিশ্বাসের সাংবাদিকতা সার্থক হয়েছে। তার এ অর্জন থাকুক অম্লান ও অটুট। সে প্রত্যাশা রইলো। আমরা বিদগ্ধ এ সাংবাদিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। সূরা ফাতিহা ও ইখলাস পড়ে তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করবো তিনি যেন তাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে শীঘ্রই আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।