অনলাইন ডেস্ক :
আরবী নতুন বছর শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাদরাসা খোলা হয়ে গেছে। শিক্ষকরা তাদের ক্লাসে ঢুকবেন। ক্লাস হলো রাজত্ব আর শিক্ষক হলেন ওই রাজত্বের রাজা। ছাত্ররা হলেন প্রজাস্বরূপ। রাজা যত ভাল তার রাজত্ব তত সুন্দর হয়ে চলে। এজন্য মাদরাসাগুলোকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য দরকার আমলদার দীনদার আল্লাহওয়ালা উন্নত চরিত্রের ও উন্নত মানের শিক্ষক।
শিক্ষক উন্নত হলে ছাত্রও উন্নত হয়ে গড়ে উঠবে। শিক্ষকদের চিন্তা চেতনা আমল আখলাক ছাত্রদের মাঝে গড়ায়। তাই যে কোন মূল্যে শিক্ষক নিতে হবে উন্নত। তাহলে উন্নত শিক্ষক কাকে বলে? তাদের কি কি করতে হয় বা কি কি বর্জন করে চলা উচিৎ? আসুন, কিছু জেনে নেই :

১। ক্লাসে মোবাইল চালানো পরিহার করুন।
২। ক্লাস রুমে ঘুমানো পরিত্যাগ করুন।
৩। অযথা বাহিরে, অফিসে,কিংবা কাহারো সাথে গল্প করে ক্লাসের সময় নষ্ট করবেন না।
৪। কোন ছাত্রকে অতিরিক্ত ভালবাসা দেখাবেন না। সকলকে সমান চোখে দেখবেন।
৫। ছাত্রদের সাথে মার্জিত ভাষায় কথা বলবেন। কর্কশ ভাষা ও গালাগালি করবেন না।
৬। অন্য শিক্ষককের দোষ খুঁজবেন না এবং ছাত্রদের সামনে মাদ্রাসার কিংবা কোন শিক্ষকের বদনাম করবেন না।
৭। মৃদু প্রহার জায়েজ থাকলেও কোন ছাত্রকে কান, গাড়, মাথা ইত্যাদিতে প্রহার করবেন না এবং হাত দিয়েও প্রহার করবেন না। ছাত্রের চেহারা, কান, মাথা ও স্পর্শকাতর কোন অঙ্গে বেত্রাঘাত করবেন না।
৮। ছাত্রদের ভালো কাজের প্রশংসা করবেন। খারাপ কাজের নিন্দা না করে বুঝিয়ে দিবেন।
৯। ছাত্রদের লেখার প্রতি বিশেষভাবে নজর দিন। ক্লাসে চক দিয়ে লেখানোর সময় প্রত্যেকটা ছাত্রের প্রতি নজর রাখুন।
১০। নিয়মিত খাতায় লেখা দিন। মাঝে মধ্যে ক্লাসে দুই থেকে তিন লাইন খাতায় লেখান।

১১। সামনে পড়ানোর আগে পিছনের পড়াগুলো জপিয়ে নিন। নতুন পড়াগুলো বারবার নিজে বলে দেন।
১২। ছাত্রদের থেকে একজন করে পড়া শুনবেন। পড়া ভুল হলে ভুল ধরে শুধরে দিবেন।
১৩। রাগান্বিত অবস্থায় শাস্তি দিবেন না। ছাত্রকে শাস্তির উপযুক্ত হতে দিবেন না। বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
১৪। ছাত্র দ্বারা কোন ধরনের শারীরিক খেদমত নিবেন না।
১৫। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের মোবাইল থেকে কোন ছাত্রকে ফোন করার সুযোগ দিবেন না।
১৬। ছাত্রের অভিভাবকের সাথে আচার ব্যবহার ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুশিয়ার থাকবেন। ব্যক্তিগত আদান প্রদান থেকে বিরত থাকবেন।
১৭। সুন্নতের পাবন্দি করবেন। ক্লাসের উপযুক্ত পোশাক পরিধান করবেন। ছাত্রদের তরবিয়তের প্রতি বিশেষ নজরদারী করবেন।
১৭। ঘুম, গোসল, খাবার, নামাজের সময় ও আছরের পরের সময় ছাত্রদেরকে শিক্ষকের বিশেষ তত্বাবধানে রাখবেন।
১৮। প্রাতিষ্ঠানিক আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
১৯। সব ধরনের লেনদেন পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
২০। ছাত্রদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করবেন।
মনে রাখবেন, আল্লাহ পাক আপনাকে ছাত্র গড়ার কারিগরের স্থানে বসিয়েছেন। তাদের হক আদায় করা আমাদের কর্তব্য।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে প্রত্যেকটা সেক্টরের হক আদায় করার তৌফিক দান করুক।
* মুফতী সাইম খানের ফেইসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।