অনলাইন ডেস্ক :
রমাযানের রোযা ১ মাসের জন্য। কিন্তু তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সারা বছরের জন্য। মোবাইলে চার্জিং যেমন ৩ ঘন্টার হয় কিন্তু চলে ৩দিন। তেমনি একমাসের আধ্যাত্মিক চার্জ এক বছরের জন্য ধরে রাখতে হবে।
রমাযান আমাদেরকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের অভ্যাস করিয়েছে। সেগুলো সারাবছর ধরে রাখতে পারলে একটি সুন্দর জীবন উদযাপন করা সম্ভব।
১. তাকওয়া ও খোদাভীতি : (التقوى)
এ মাসে আল্লাহর ভয়ে গুনাহ বর্জনের যে প্রচেষ্টা চর্চিত ছিল, তা শক্তভাবে ধরে রাখতে হবে। এটাই রমাযানের প্রধান শিক্ষা।
২. তানাফুস বা প্রতিযোগিতা : (التنافس)
পরস্পর নেককাজে এগিয়ে থাকার একটি প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতা লক্ষণীয় ছিল, তা ধরে রাখতে হবে। এতে আপনি অন্যদের ছাড়িয়ে যেতে পারবেন।
৩. তাআউন বা সহযোগিতা : (التعاون)
সংসার বা অন্যদেরকে সহযোগিতার যে মনোভাব তৈরি হয়েছে, তাও ধরে রাখুন।
৪. তাহাজ্জুদ : (التهجد)
রমাযানে কমবেশ তাহাজ্জুদ পড়েছেন। ইচ্ছা করলে সারা বছরই তাহাজ্জুদ পড়তে পারেন। একটু সচেষ্ট হলেই হলো।
৫. তাসাহহুর বা প্রত্যূষজাগরণ : (التسحر)
অনেক রাতে ঘুমানোর পরেও খুব প্রত্যূষেই আপনি সাহরীর জন্য জেগে গেছেন। সদিচ্ছা থাকলে সারা বছরই আপনি এভাবে জাগতে পারেন এবং ফজর জামাআতে ও যথাসময়ে পড়তে পারেন। নিশ্চয় আপনি জানেন সাহরী খাওয়ার চাইতেও ফজর পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৬. তাসাদ্দুক : (التصدق)
রমাযানে কমবেশ দান করতে চেষ্টা করেছেন। এভাবে সারাবছরই করতে থাকুন এবং রমাযানের বরকত পেতে থাকুন।
৭. তানবীহ ও সতর্ক করণ : (التنبيه)
রমাযানে কোনো মন্দাচার দেখলে অন্যকে তানবীহ করেছেন, যা নাহী আনিল মুনকারের একটি রূপ। এটাকে সারাবছর ধরে রাখুন।
৮. তারগীব ও উৎসাহিত করণ : (الترغيب)
আসতে যাইতে রমাযানে ঘরের লোকজন ও কাছের মানুষদের ভালো ভালো কাজে উৎসাহিত করেছেন। কুরআন পড়, নামায পড়, জামাআত ধর ইত্যাদি। এ জরুরি কাজটিও সারাবছর ধরে রাখুন।
৯. সবর ও সহনশীলতা : (الصبر)
রমাযানে সহশীলতার বেশ পরিচয় দিয়েছেন। “আমি রোযাদার” বলে বহু ঝগড়া এড়িয়ে গেছেন। সারাবছরও এগুণটি ধরে রাখুন, শান্তিতে থাকবেন।
১০. মুআসাত বা সমবেদনা : (المواساة)
রমাযান ছিল সহমর্মিতার মাস। ভুখা নাঙ্গা মানুষগুলোর দুঃখবেদনা কিছুটা হলেও অনুমান করেছেন। সারাবছরই এগুণটির চর্চা আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তুলবে।
১১. ইশতিয়াক বা আগ্রহবোধ : (الاشتياق)
রমাযানে নেককাজে আগ্রহবোধ বেশ সক্রিয় ছিল। এটা সচল রাখুন সারাবছর।
১২. ইসতিবাক বা অগ্রগামিতা : (الاستباق)
রমাযানে ভালো কাজে নিজেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। জামাআতে আগে যাওয়া, আগের সফধরা, আগে আগে মসজিদে যাওয়া ইত্যাদি গুণগুলো ধরে রাখুন।
১৩. ইতআম ও ইকরাম : (الاطعام)
মানুষ রমাযানে যে পরিমাণ অন্যকে খাওয়ায় ও মেহমানদারী করে, অন্যসময় কখনো এরূপ করে না। অথচ এটি সারাবছরের গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহর পছন্দনীয় আমল।
১৪. ইহতিয়াত ও সাবধানতা : (الإحتياط)
রমাযানে খুব সতর্ক জীবনযাপন করেছেন। রোযা ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কুলি করার সময় গরগরা করেননি। নাকে পানি দিতে বেশ সতর্ক ছিলেন। সারাবছর এ শিক্ষা ধরে রাখুন, যেন গলার নিচে হারাম না ঢুকে।
১৫. ইলতিযামে বাইত বা নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রাখা : (الالتزام)
রমাযানে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। নিজের ঘরে বা মসজিদেই বেশি সময় কাটিয়েছেন। ফিতনার সময় এঅভ্যাসটি গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সারাবছরই এটির চর্চা করুন।
এভাবে যদি আমরা জীবনকে রমাযানময় করে তুলতে পারি, তা হলে জীবন অনেক সুন্দর হবে এবং মৃত্যু অনেক উৎসবমুখর হবে ইনশাআল্লাহ। গুরুজি আলী মিয়া নদভী রহ. বলেছেন : জীবন যার রমাযানের মত কাটবে, মৃত্যু তার ঈদের মত হবে।
আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন।
* ছবি : ‘ঈমান সবার আগে’ আইডির পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম।