মোঃ সহিদুল ইসলাম
ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশী। ঈদ মানে শান্তি। সম্প্রীতি। অংশগ্রহণমুলক প্রাতিষ্ঠানিকতা আর সামাজিকতার এক অপার মেলবন্ধন। পেশাদারীত্ব আর দায়িত্বের প্রয়োজনে আমার প্রিয় ইউনিফর্মধারী সদস্যগুলো বরাবরই উৎসব, পার্বন, আত্বীয়তা আর প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য বঞ্চিত।তবুও নেই কোন অভিমান, অভিযোগ আর অনুযোগ। দেশ জাতি যখন দুর্যোগ, দুর্ভোগ, মহামারী, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি,
অতিবন্যা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিধ্বস, সড়ক দূর্ঘটনা, জলজযান ডুবি এবং চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে তখন সকলেই যার যার ঘর আর প্রিয় মানুষগুলোকে সামলাতে ব্যস্ত।অপরদিকে, পুলিশ নামক শব্দটিকে ধারণ করে থাকা অনুভূতিহীন প্রাণীগুলো দেশ জাতির নিরাপত্তা আর জানমাল হেফাজতে ব্যস্ত। উৎসবে পার্বনে যখন মানুষ নাড়ীর টানে ঘরে ফিরতে ব্যস্ত তখন আমাদের সময় কাটে মহাসড়কে আর বিপণী বিতানে। আমাদের জন্য পথ চেয়ে অপেক্ষা করে চিরচেনা আপনজনেরা। কিন্ত দিনশেষে আর ঘরে ফেরা সম্ভব হয় না। তবে দীর্ঘ কর্মজীবনে কষ্ট এতটুকুই পুলিশ নামক প্রাণীগুলোকে আজো সকল মহল মানুষ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। যে কারণেই দূর্যোগে দুর্বিপাকে পুলিশ মারা গেলে এ জাতির সোনার সন্তানেরা আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া প্রকাশ করে। চাকরি বিধি আর বেতন কাঠামো অনুযায়ী আমাদের সকলেরই অবস্থান পূর্ব নির্ধারিত। আমরা প্রতিটি কর্মস্থলেই একজন আরেকজনের পরিপুরক। আমাদের কারো ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকলেও দিনশেষে আমরা সকলে মিলে একই পরিবারের সদস্য। আমাদের সুখ, দুঃখ আর আবেগ অনুভূতি আমাদেরকেই ভাগাভাগি করে নিতে হয়। ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা মুসলমানদের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব। ঈদ এলেই আমরা প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানো আর আত্মীয়তা রক্ষার এক অঘোষিত যুদ্ধে নেমে পড়ি। দিনশেষে নিজে কতটুকু পেলাম এটার হিসেব বরাবরই গুরুত্বহীন।

৩১ বছরের চাকরি জীবনে ৬২টি ঈদে সাকুল্যে ১০টি ঈদ পরিবারের সাথে কাটানোর মত সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আমার মত অনেকেই। ছুটি নামক সোনার হরিণটা বরাবরই অধরাই রয়ে গেছে। তবে এবার একটু ব্যতিক্রম। অফিসার ইনচার্জ ফুলপুর থানা মহোদয়ের বদান্যতায় ঈদের ছুটি তালিকায় অধমের নামটি যুক্ত হয়েছে। এ হিসেবে আমি অবশ্যই ওসি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পরিবার প্রধান হিসেবে সকলেরই চিন্তা থাকে পরিবারের সকলকে ভালো রাখার। এক্ষেত্রে আমাদের টিম ফুলপুরের প্রধান হিসেবে অফিসার ইনচার্জ ফুলপুর থানা, জনাব মাহবুবুর রহমান এক অনন্য নজির গড়লেন। কোন ঢাক ঢোল না পিটিয়ে সারপ্রাইজ দেওয়ার মত গোপনে

ঈদ উপহার হিসেবে পুরুষ সদস্যদের পাঞ্জাবি আর মহিলা সদস্যদের জন্য মান সম্পন্ন থ্রী পিসের ব্যবস্থা করে সবাইকে অবাক করে দিলেন। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। পরিবার প্রধান হিসেবে অধীনস্থদেরকে যথাযথ সম্মান দেখিয়ে নিজে অনন্য উচ্চতায় ভাসছেন। অফিসার ইনচার্জ মহোদয়কে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খাটো করার ধৃষ্টতা আমার নেই। একজন কলামিস্ট হিসেবে খোচা মারার অভ্যাসটা আজো ছাড়তে পারছিনা। খোচা মারার অনধিকার চর্চার জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি। চলতি রোজায় আজ থেকে এক সপ্তাহ আগেও যারা আমাদের মাঝে ছিল কিন্তু পেশাগত কারণে ভিন্ন ঠিকানায় চলে গেছে তাদের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু ব্যবস্থা থাকলে ওসি স্যার কর্তৃক নেয়া মহতী উদ্যোগটা পরিপূর্ণতা পেতো। উদার, প্রাণবন্ত, সদা হাস্যোজ্জ্বল আমাদের সকলের প্রিয় মানুষ ওসি মাহবুব স্যারের নির্দেশনায় পুলিশী জীবনের উদ্দাম দুরন্ত দিনগুলোতে একসাথে থাকা প্রিয় মুখ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব আনোয়ার স্যার, বহু বিনিদ্র রজনী একসাথে কাটানো আর সুখ দুঃখ কষ্টে ছায়ার মত পাশে থেকে শান্তনা দেয়ার মত প্রিয় মানুষ সুমন স্যারের হাত ধরে টিম ফুলপুর এগিয়ে চলুক দুর্বার গতিতে। টিম ফুলপুর হয়ে উঠুক জনবান্ধব মানবিক পুলিশিং -এর এক অনন্য উদাহরণ।
লেখক ঃ
এএসআই (নিঃ)
ফুলপুর থানা, ময়মনসিংহ।