আব্দুল্লাহ আল মামুন :
দিনার দিরহাম বনাম খাদ্য দ্রব্য বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে দিনার দিরহাম থাকা সত্ত্বেও কেন খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে বলেছেন?
আমরা দৈনন্দিন অনেক মাসায়েলই সুবিধার জন্য চেঞ্জ করেছি। সেগুলো মেনে নিতেও সমস্যা হয় না।
অন্যান্য অনেক বিষয় থাকলেও এখানে শুধু আমরা
ফিতরার কথাই বলবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা আদায় করতে বলেছেন, রমজান শেষ হলে। ঈদের রাত থেকে ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা শুধু খেজুর বা যব দিয়ে আদায় করেছেন।
কিন্তু সুবিধার জন্য আমরা চাল দিলাম সমস্যা নেই। সুবিধার জন্য ফিতরা ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ রমজানেই আদায় করতেছি, অনেকে এরও আগে। সেটাও কোন সমস্যা নয়।
কিন্তু সুবিধার জন্য টাকা দিলে সমস্যা বা আদায় হবে না কারণ কি?
এখন আসি আসল কথায়:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে উপযুক্ত ও বেশি উপকার বয়ে আনে এমন কথা বলতেন এবং তাই তিনি বলতেন যা সময় ও মানুষের জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট বা উপযুক্ত।
আল্লাহ তায়ালাও চান মানুষের সব কিছু সহজ করে দেওয়ার জন্য আর এই কারণেই আল্লাহ তায়ালা বলেন:
يريد الله بكم اليسر ولا يريد بكم العسر
ঠিক তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের সব কিছুই পর্যবেক্ষণ করে গরীবদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ও উপকারী খাদ্য দ্রব্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর আমরা জানি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈদের রাত থেকে ঈদের নামাজ আদায় করার পূর্বে ফিতরা আদায় করতে বলেছেন।
যাতে গরিব মানুষদের ঈদের দিন খাবারের জন্য কাজ করতে না হয় বরং সকলেই আনন্দে থাকে এবং খাবার খেয়ে থাকে।
এই কারণেই হাদীসে এসেছে :
طعمة للمساكين
মিসকিনদের জন্য খাবার হয়।
এখন যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থ নির্ধারণ করতেন তাহলে কি কি অসুবিধা হতো? আসুন, একটু পর্যবেক্ষণ করি।
১। মিসকিনদের খাদ্য কিনতে হতো কিন্তু অন্যান্য মানুষ ঈদের আনন্দে ওইদিন তথা ঈদের দিন হাটে যাওয়ার কল্পনাও করতো না। বেচাকেনা হতো না। ফলে গরিবদের না খেয়েই থাকতে হতো।
২। যদি ধরেই নেই সেই দিন বাজার বসতো। তাহলেও মানুষ অন্তত ঈদের নামাজের অনেক পর বাজারে যেতো এবং গরীবদের সেখানে গিয়ে খাবার ক্রয় করে এনে রান্না করে খেতে খেতে তাদের অনেক কষ্ট হতো।
৩। আমরা সকলেই অবগত আছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে খাবারের অনেক সংকট ছিল।
এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেও অনেক দিন না খেয়ে পার করেছেন এবং তার ঘরের চুলায় অনেক দিন পর্যন্ত আগুন জ্বালানো হতো না। (সবই সহীহ হাদীস, বুখারী মুসলিমে রয়েছে)
এই বিবেচনায়,
যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থ নির্ধারণ করতেন তাহলে অর্থের বিনিময়ে খাদ্য দ্রব্য পাওয়াও ওই সময়ের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল।
আরো অনেক দিক বিবেচনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সময়ের জন্য যা গরীবদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে উপযুক্ত ও উপকারি তাই নির্ধারণ করেছেন।
যেন গরীবদের অনাহারে থাকতে না হয়।
আর এখন আমরা সবাই দুই তিন দিন আগেই ফিতরা আদায় করি এবং বাজার ও খাদ্য দ্রব্যও হাতের নাগালে।
পাশাপাশি খাদ্যের তুলনায় বর্তমান সময়ে টাকা বেশি উপকারী। কারণ এতে তার মনের ইচ্ছা মতো খাদ্য ক্রয় করে খেতে পারবে। যা আমরা ঈদের দিন খাই।
এবং লাভবানের দিক থেকেও বেশি লাভবান হবে। কেননা, তাদের অধিকাংশই সেই চাল কম টাকায় বিক্রি করে সেমাই চিনি ক্রয় করে।
এছাড়াও আরও অনেক উপকারের কথা বলা যাবে। যা আপনি বাস্তবতার নিরিখে তাকালেই দেখতে পাবেন।
আশা করি পাঠকরা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন।
তারপরও আমি বলি খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা উত্তম। তবে টাকা দিয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করলেও হয়ে যাবে।
আল্লাহ অধিক জানেন।
আল্লাহ আমাদের জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।
আমীন।
লেখক :
সাবেক শিক্ষার্থী,
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।