ইমদাদুল্লাহ বাঙালী :
ময়মনসিংহ বড় মসজিদের গেইট দিয়ে একাকি পায়ে হেটে বের হচ্ছেন যিনি, দীর্ঘ ৫০ বছর সহীহ্ বোখারীর দরস দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বড় কাটারা মাদরাসাসহ বালিয়া মাদরাসা ও কাতলাসেন আলিয়া মাদরাসার উস্তাদ ছিলেন এই শায়েখ।
উম্মুল মাদারেস দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফারেগ হওয়া এই প্রখ্যাত আলেমে দীন সরাসরি শায়খুল ইসলাম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. -এর কাছে হাদীস পড়েছেন।
এছাড়াও দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ক্বারী তৈয়ব সাহেব রহ. -এর নিকটও হাদীস পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।
বলছিলাম, মাওলানা নুরুল ইসলাম ক্বাসেমী দা.বা. -এর কথা।
এই মহান মনিষী অতি সাদাসিধা জীবনযাত্রায় নিজেকে বিলেয়ে দিয়েছেন। আমার জীবনে এমন সাদাসিধা আলেম খুব কমই দেখার সুযোগ হয়েছে।
বিভিন্নসময় তাঁকে মোমেনশাহী বড় মসজিদে নামাজ পড়তে দেখি। সাথে একটি লাঠি এবং একটি ব্যাগ ছাড়া কোন খাদেম-খুদ্দাম নেই। আশপাশেও নেই কোন ভক্তদের বহর। এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি একা একাই চলেন। কিতাবাদী মুতালাআ করতেও চশমার প্রয়োজন হয় না।
ময়মনসিংহ বড় মসজিদের ইমাম মুফতী রঈসুল ইসলাম ক্বাসেমী দা. বা. -এর মুখ থেকে শুনেছি তিনি নাকি বৃদ্ধ বয়সেও একাই ২০ রাকাআত তারাবীহ পড়ান।
তিনি যখন বড় মসজিদের পূর্ব দিকের গেইট দিয়ে বের হচ্ছিলেন তখন দীর্ঘ সময় তাঁর দিকে তাকিয়ে এটাই ভাবলাম ! এত বড় মাপের একজন মানুষ হয়েও কত সাদাসিধা জীবনযাপন করছেন। অহংকারের লেশমাত্রও নেই। কোন সাজসজ্জা এবং রাজকীয় জীবনযাপনের কল্পনাও হয়তোবা মাথায় নেই।
আল্লাহ তা’আলা এই প্রবীণ আলেমকে সুস্থতার সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। পরিশেষে পরিপূর্ণ ইমানের উপর অনড় অবিচল থেকে আল্লাহ তা’আলার মেহমান হওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।
* অনলাইন থেকে নেওয়া।