• শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

আমরাও যে খুব ভালা আছি এইডা বলা যাবে না, তবে চেষ্টা করবো আপনাদেরকে কিভাবে ভাল রাখা যায় — এমপি সায়েম

Reporter Name / ২১১ Time View
Update : শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান :

১৪৬, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের এমপি মাহমুদুল হক সায়েম বলেছেন, আমাদের বেশভূষা কাপড় চোপড় হয়তো একটু ভাল। এইটা সঙ্গত কারণেই করতে হয়। নাইলে পরে আবার সাইবরা আমরারে পাত্তা দেয় না। নাইলে লঙ্গি পইরা রাজনীতিটা করতে পছন্দ লাগে বেশি। ওই কারণেই হয়তো বেশভূষাটা একটু ভালা দেহাই। নাইলে আমরাও যে খুব ভালা আছি এইডা বলা যাবে না। তবে চেষ্টা করবো  আপনাদেরকে কিভাবে ভাল রাখা যায়।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) হালুয়াঘাটের নড়াইল গ্রামে উনার নিজ বাড়িতে গ্রাম পুলিশদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জানা যায়, হালুয়াঘাটের গ্রাম পুলিশরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাসে মাত্র সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বেতন পান। তাও নিয়মিত পান না। তিন মাস পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। তখন বাকিতে তাদের বাজার করতে হয়। বাকিতে বাজার করতে গিয়ে ১০০ টাকার জিনিস তাদের কমপক্ষে ১২০ টাকায় কিনতে হয়। ওই বাজারটা নগদ কিনলে কখনো কখনো কয়েক দোকান যাচাই বাছাই করে ১০০ টাকার জিনিস ৮০-৯০ টাকায় কেনা যায়। কিন্তু বাকিতে তা কেনা যায় না। যে টাকা পায় সে জিনিসের দাম বেশি ধরলেও তার কাছ থেকেই কিনতে হয়। একে তো দাম বেশি ধরে, আবার কোন কোন সময় ভুলক্রমে দোকানদার একই জিনিসের দাম বকেয়া খাতায় দুইবার উঠিয়ে রাখেন। এছাড়াও বাকি বাজারের রয়েছে হাজারো বিড়ম্বনা। তিন মাস পর্যন্ত বেতন আটকে রাখার কারণে গ্রাম পুলিশদের প্রতিনিয়ত ফেইস করতে হয় এসব বিড়ম্বনা। শুধু কি তাই?

মোবারক নামে একজন গ্রাম পুলিশ এমপি মাহমুদুল হক সায়েমের সামনে যেভাবে তার কষ্টের কথা তুলে ধরলেন তা  শুনলে যে কোন হৃদয়বান মানুষের চোখের জল ছলছল করে উঠবে। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমার নাম মোবারক আলী। হালুয়াঘাটের ৫নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আমি। আমার বাবা সৈয়দ আলী চৌকিদার ছিল। আমি তার ছেলে। বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় এবং বয়সের কারণে চাকরিটা বাতিল হয়ে গেছিল।  পরে বিভিন্ন জনের সুপারিশে চাকরিটা আমারে দিয়া গেছিন।

দেহা গেছে এই চাকরি কইরা আমার বাবা ভিক্ষা করছে। আমার মা ভিক্ষা করছে। এহন আমি যে গ্রাম পুলিশ, আমিও স্যার ভিক্ষা কইরাই খাই। মাসে সাড়ে ৬ হাজার টেহা মাত্র বেতন। বাড়বে বাড়বে করতে করতে আমার জীবনডাই শেষ। দুইডা ছেলে আমার দুইডা মেয়ে। কিন্তু আমি এইদেশে তাদের বিয়া দিতে পারি নাই। কেলাইগ্যা? কারণ, চৌকিদারের ছেলে। ভাঙা ঘর। বাতার বেড়া। অর্ধেকটা জোড়া দেওয়া। ছালা দিয়া জোড়া দিছি। পোলাপানরে এইদেশে বিয়া করাইতে না পাইরা করাইছি অন্য দেশে। একটারে কুড়িগ্রাম আরেকটারে ফুলবাড়িয়ায় করাইছি।

গরিব আমি। চৌকিদারের ছেলের কাছে বিয়া দিবে না। যাক, এহন ছেলেরা স্কয়ার মাস্টার বাড়িতে চাকরি করে। মাইনষের গরুটরু পাইল্যা আরও ঋণ কইরা আমার বাচ্চার মা ঘর দিছে। এ অবস্থায় আমার দিনযাপন অইতাছে। অহন মেয়েডি ঢাহা শহরে থাহে। ঘর দিছি কিছু ঋণটিন কইরা। নাইলে তো বউ থাকতে পারবে না। অহন দুইজনে যে আমরা ভাত খাব এইটুকু আমরা খাইতে পারতেছি না। মাস গেলেই চালের দাম বাড়তি। চাল কিনতেই অনেক টাকা লাগে।

এসময় এমপি সায়েম বলেন, যাতায়াত ভাড়াটা কে দিতো? জওয়াবে গ্রাম পুলিশরা বলেন, ইউএনও স্যার দিতো। এরপর এমপি বলেন, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, যাতায়াতটা বন্ধ হলো কেন? যাতায়াতের টাকা একেকজনে অনেক টাকা পাবেন।

যাহোক, আমাদের ইউএনও মহোদয় (আবিদুর রহমান) এসেছেন, তিনি নতুন। ৩ মাস হলো মাত্র তিনি জয়েন করেছেন। উনার সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলি। হতাশ হওয়ার কিছু দেখি না। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা যারা তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি আমরাও চেষ্টা করতেছি যে, আপনাদেরকে কেমনে ভাল রাখা যায়।

এই অভিযোগটা আমি নতুন শুনলাম। আমার কাছে আগে আসে নাই। আগে তো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি আমার রাজস্ব তহবিল থেকে ৮ লক্ষ টাকা দিয়েছি। বেতন নিয়ে ঝামেলা ছিল। তখন পাইছিলেন আপনারা। আমার কাছে গতকাল রাতেও আপনারা আইছিলেন। আমি ছিলাম না। তবে এর একটা আশু ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা আমরা করবো। দেখতেছি। দোয়া করবেন। হতাশ হওয়ার কিছু নাই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদ করাইতে পারবো কি না জানি না। তবে এর একটা স্থায়ী ব্যবস্থা আমরা করবো, ইনশাআল্লাহ। প্রতি মাসের বেতনটা প্রতি মাসে কিভাবে পাওয়া যায় সেটা আমরা দেখতাছি।

আপনারা অধৈর্য্য হয়েন না। কেননা, কষ্ট আমরা সবাই করতেছি। আমরা যারা মানুষের জন্য কাজ করি, আমি এমপি, আমি করি, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সে করে। ‘আমাদের বেশভূষা কাপড় চোপড় হয়তো একটু ভাল, এইটা সঙ্গত কারণেই করতে হয়। নাইলে পরে আবার সাইবরা আমরারে পাত্তা দেয় না। নাইলে লুঙ্গি পইরা রাজনীতিটা করতে পছন্দ লাগে বেশি। ওই কারণেই হয়তো বেশভূষাটা আমরা একটু ভালা দেহাই। নাইলে আমরাও যে খুব ভালা আছি এইডা বলা যাবে না।

যাক, এইখানে অনেকগুলা মানুষের কষ্টের কারণ আমি শুনলাম আজকে। আমি চেষ্টা করবো। আজকের মধ্যেই ইউএনওর সাথে কথা বলে দেখবো কি করা যায়। আমাদের ইউএনও সাহেবও ভাল মানুষ। খারাপ মানুষ না। উনি কাজ করেন। মানুষের জন্য কাজ করেন। উনি নতুন হওয়ায় এই সমস্যাটা হয়তো উনার নলেজ পর্যন্ত যায় নাই। আমি চেষ্টা করবো উনার সাথে আজকেই কথা বলার জন্য।

এখানে আসার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। রোজার দিন আর আপ্যায়ন করলাম না।  সবাই ভাল থাকবেন। আমরা আছি। সবকিছুর পরেও আমরা সবাই হালুয়াঘাটের মানুষ। আমি আপনে আমরা সবাই একখানের মানুষ। আপনাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত শক্ত। এই যে বাড়িত দাঁড়িয়ে আছেন, এখন থেকে তিন পুরুষ তারা চেয়ারম্যানি করছে। সুতরাং এই গ্রাম পুলিশের সাথে সম্পর্ক আমাদের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক। গত ৭০-৮০ এমনকি ১০০ বছরের সম্পর্ক। আপনাদের সাথে সেই সম্পর্ক অটুট থাকুক। কেউ অধৈর্য্য হয়েন না। আমি যেহেতু ঘটনাটা শুনলাম, কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এটা সমাধান করতে চেষ্টা করবো।

এসময় ৮নং নড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা