মো. আব্দুল মান্নান
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনে আওয়ামী নেতাকর্মীদের গায়ে যেন আগুন লেগেছে কিন্তু বাজারে দ্রব্যের অগ্নিমূল্যের তাপ তাদের গায়ে লাগে না।’ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে তৃণমূলের নেতাকর্মীদর সাথে মুন্সিরহাট বাজারে এক মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে ইফতারপূর্ব সময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘তারা প্রভূ তুষ্টি নিয়ে ব্যস্ত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তাদের পদক্ষেপ লিপ সার্ভিসে সীমাবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। স্বাধীনতার একক দাবীদার সেজে মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ -কোটি মানুষের অবদানকে তারা অস্বীকার করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কর্তৃত্ববাদী চরম দুঃশাসন কায়েম করেছে। বাংলাদেশে এখন স্বাধীনভাবে রাজনীতি করা ও কথা বলার স্বাধীনতা নাই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবির আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ গণদাবি উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতায় প্রহসনের সাজানো পাঁতানো নির্বাচন করেছে।

গণভবন থেকে আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঠিক করে নির্বাচিত ঘোষণার তালিকাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কোনো প্রার্থী নিজেকে ভারতের মনোনীত প্রার্থী দাবি করে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্বাচনের খরচ নিয়ে বিরোধও হয়েছে। এখন ডামি এমপিরা নির্বাচনের খরচ ওঠানোর জন্য প্রকাশ্যে দুর্নীতির ঘোষণাও দিচ্ছে।’ তিনি বলেন ‘আওয়ামী লীগ ৭ জানুয়ারী ডামি নির্বাচন করে গণ শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, ভারত। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকার নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের অপ-প্রচারে কেউ কান দেবেন না। শত চেষ্টা করেও তারা বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারে নাই, পারবেও না।’

এসময় বাঘবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ রাব্বানী সুমনের সভাপতিত্বে ও সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় মুন্সিরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম কাজল, আনিসুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম বাবুল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ,
ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী, নেতা আবুল কালাম, ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রিপন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক বিজয় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে কারা নির্যাতিত নেতাদের গলায় মালা পরিয়ে তিনি তাদের সম্মানিত করেন।

এসময় বিএনপি নেতা আবদুল কুদ্দুস, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম ডলার, যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ আল রাজি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, জেলা ছাত্র দলের যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য রাজু খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসাইন, সদস্য সচিব কামরুল হাসান সুমন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মানিক, সদস্য সচিব শামীম হাসান, উপজেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব হাসান শাহ, ওলামা দলের মওলানা হাবিবুর রহমান, মওলানা ওবায়দুল্লাহ, আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।