• সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নদী-নালা খাল জলাধার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাস-সিএনজি সংঘর্ষ : ঈদে বাড়ি ফেরা হলো না পুলিশ পুত্রের ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক প্রিন্স, বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন আসুন, শবে কদরে বেশি বেশি ইবাদত করি ও মানবকল্যাণে কাজ করি — প্রধানমন্ত্রী “বেগম খালেদা জিয়া রাহ্.-কে যেমন দেখেছি (পর্ব -১) বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা পত্রিকা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ আজ দেশের সর্বাধিক প্রচারিত জাতীয় দৈনিক চারিত্রিক সার্টিফিকেট ইমামদের নিকট থেকে নেওয়ার আইন দাবি করলেন চরমোনাইর পীর প্রত্যেকটা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি দায়িত্ব পালন করেন তাহলে সমস্যা থাকার কথা না — এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ : যা বললেন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ যদি কেউ রোজার মাসেও ধান্ধা করতে চায়, জানাবেন আমরা তা বন্ধ করব — এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ

দাঁড়ি কাকে বলে, কতটুকু রাখতে হবে

Reporter Name / ১৪৮ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪

ওয়াকিল আহমেদ

দাড়ি কাকে বলে এবং কতটুকু রাখতে হবে?
প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, দাড়ি কাকে বলে ও কতটুকু রাখতে হবে এবং ল কোন কোন জায়গার লোম কাটা যাবে? গালের উপর লোম কেটে থুতনির উপর দাড়ি রাখলে কি দাড়ি রাখার হক আদায় হবে? এমন ব্যক্তির পিছনে নামাজের বিধান কি? দলিলসহ জানতে বাসনা।

উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আরবি ভাষায় দাড়িকে বলা হয় لِحْيَةٌ লিহইয়া। এর শাব্দিক অর্থ হলো, থুতনিসহ মুখের দুই পাশের ওই হাড়, যার ওপর দাঁতগুলো অবস্থিত। প্রাপ্ত বয়সে ওই হাড়ের ওপর যে লোম, পশম বা কেশ গজায়, সেগুলোকেই হাড়ের নামকরণে لِحْيَةٌ লিহইয়া বাংলায় দাড়ি বলা হয়।

পুরুষদের জন্য এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা ওয়াজিব। এক মুষ্টির কমে দাড়ি কাটা বা ছেঁটে ফেলা জায়েয নয়।

এক মুষ্টির বাহিরে অতিরিক্ত অংশগুলো কেটেছেঁটে পরিষ্কার করতে পারবে।

بَاب تَقْلِيمِ الأَظْفَارِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ، وَفِّرُوا اللِّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ‏”‏‏.‏ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ‏.‏

ইবনু ‘উমার রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে। দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।

ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন।

—সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২

তবে গালের ওপরে বা গলার হাড্ডির নিচে গলায় গজানো চুল দাড়ির অন্তর্ভূক্ত নয়। তাই তা কাটা বা মুণ্ডানোতে কোন সমস্যা নেই।

ولا يلحق شعر حلقه، وعن أبى يوسف لا بأس بذلك، ولا بأس بأخذ الحاجبين، وشعر وجهه مالم يتشبه بالمخنث، كذا فى الينابيع (الفتاوى الهندية، كتاب الكراهية، الباب التاسع-5/358، جديد-5/414، رد المحتار-9/583)

لا يحلق شعر حلقه ولا بأس بأن يأخذ شعر الحاجبين وشعر وجهه ما لم يتشبه بالمخنثين (حاشية الطحطاوى على مراقى ا

শরীয়তের দৃষ্টিতে দাড়ি রাখা ওয়াজিব আমল। এক মুষ্টির কমে দাড়ি মুণ্ডানো বা কাট-ছাট করা হারাম। এটা একটা দীর্ঘস্থায়ী কবীরা গুনাহ।

দাড়ি মুণ্ডানো হারাম এবং একমুষ্টি থেকে কম দাড়ি রেখে অবশিষ্ট দাড়ি ছাঁটাই করাও হারাম। এতে কবীরা গুনাহ হবে।

(জাওয়াহিরুল ফিকহ-৭/১৬০)

عن ابن عمر : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( خالفوا المشركين وفروا اللحى وأحفوا الشوارب . وكان ابن عمر إذا حج أو اعتمر قبض على لحيته فما فضل أخذه

হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইরশাদ করেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর। আর গোঁফকে খাট কর।

আর ইবনে ওমর রাঃ যখন হজ্ব বা ওমরা করতেন, তখন তিনি তার দাড়িকে মুঠ করে ধরতেন, তারপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৩}

যদি কোনো ব্যক্তি দাড়ি কেটে-ছেটে কিংবা মুণ্ডিয়ে এক মুষ্টির কম রাখে, তাহলে এমন ব্যক্তি শরীয়তের দৃষ্টিতে ফাসিক বলে গণ্য। আর শরীয়তের বিধান হলো, ফাসিক ব্যক্তির ইমামতি করা মাকরূহে তাহরিমী এবং তার পিছনে নামায পড়াও মাকরূহে তাহরিমী।

অতএব, যদি একটি নামাযের জামাতে সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে এমন দাড়িওয়ালা ব্যক্তি বিদ্যমান থাকেন, তাহলে দাড়ি বিহীন বা দাড়ি কাটা ব্যক্তির জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে ইমামতি করার অধিকার নেই। যদিও তিনি সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

হ্যাঁ, ওই নামাযের জামাতে যদি কুরআন সহিহ-শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার কেউ না থাকে, তাহলে প্রয়োজনের তাগিদে বর্ণিত ব্যক্তির ইমামতি ও তার পিছনে নামায পড়া জায়েয হবে। তবে, দাড়ি না রাখার কারণে ওই ব্যক্তির গুণাহ হতেই থাকবে।

(কিতাবুন নাওয়াজেল ৪/২০৩, ইমদাদুল মুফতীন-৩২১, আযীযুল ফাতাওয়া-১৪৫, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া-১/২৪৬।)

,

وأما الأخذ منہا وہي دون ذٰلک دون القبضۃ کما یفعلہ بعض المغاربۃ ومخنثۃ الرجال، فلم یبحہ أحد۔ (شامي، الصوم / مطلب في الأخذ من اللحیۃ ۲؍۲۱۸ کراچی، شامي ۳؍۳۹۸ زکریا، فتح القدیر، الصوم / ما یوجب القتاء والکفارۃ ۲؍۴۱۸ دار الفکر بیروت)

সারমর্মঃ এক মুষ্ঠি থেকে কম দাড়ি রাখা হায়েজ নয়, যেমন কিছু পশ্চিমারা রাখে। সেটা কেহই বৈধ বলেননি।

ویحرم علی الرجل قطع لحیتہ۔ (درمختار مع الشامي ۶؍۴۰۷ کراچی، شامي ۹؍۵۸۳ زکریا)

পুরুষের জন্য দাড়ি কাটা হারাম।

ویکرہ إمامۃ … فاسق۔ (درمختار ۲؍۲۹۸ زکریا)

ফাসেকের ইমামতি মাকরুহ।

,

قولہ وفاسق: من الفسق: وہو الخروج عن الاستقامۃ، ولعل المراد من یرتکب الکبائر کشارب الخمر والزاني وآکل الربا ونحو ذلک۔ (شامي ۲؍۲۹۸ زکریا، ۱؍۵۶۰ کراچی، ہدایۃ ۱؍۱۲۲، مجمع الأنہر ۱؍۱۰۸، قاضی خاں ۱؍۹۱)

সারমর্মঃ ফাসেক বলা হয় যে কবীরা গুনাহে লিপ্ত থাকে।

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছে

لأنہ فاسق وکراہۃ تقدیمہ کراہۃ تحریم کما في الغنیۃ ورد المحتار۔ (حلبي کبیر / إمامۃ الفاسق مکروہۃ تحریماً ۵۱۳، طحطاوي ۳۰۳، شامي ۲؍۲۹۹ زکریا)

সারমর্মঃ তাকে ইমাম বানানো মাকরুহে তাহরিমী ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা