মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরি পেলেন ১২৮ জন। আজ রবিবার (২৪ মার্চ) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ ও নির্বাচিতদের ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে যেন খুশির বন্যায় ভাসছে তাদের পরিবার।

পরিবর্তিত সময় ও অগ্রসরমান আধুনিক সমাজের চাহিদা পূরণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে সক্ষম সৎ, যোগ্য, সাহসী ও ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সেবার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীদের খুঁজে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে চলতি বছর ১৮ জানুয়ারী বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অনলাইন আবেদন ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ময়মনসিংহ জেলায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন প্রার্থীর আবেদন গৃহীত হয়। পরে তাদের মধ্য হতে ১ হাজার ৪০৭ জন প্রার্থী শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও ফিজিক্যাল এনডুরেন্স টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৬ মার্চ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৬১ জন প্রার্থী ২৩ মার্চ মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে ১০৯ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী প্রার্থী ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে বাংলাদেশ পুলিশের নবীন সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিম্নরূপ :
ক. পোষ্য কোটা: পুরুষ-১১ জন, নারী-০১ জন।
খ. মুক্তিযোদ্ধা কোটা: পুরুষ-২২ জন, নারী-৩ জন।
গ. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা: পুরুষ-৩ জন, নারী-১ জন। ও
ঘ. সাধারণ কোটা: পুরুষ-৭৩ জন, নারী-১৪ জন।সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থী এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ-২০২৪ -এ লিখিত পরীক্ষায় ৪৫ নম্বরের মধ্যে ৩৮ নম্বর পেয়ে ময়মনসিংহ জেলায় ১ম স্থান অধিকার করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার রাজগঞ্জ গ্রামের হারুন অর রশিদ ও কল্পনা বেগমের পুত্র শিমুল হাসান রিফাত।
সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও নানান পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা প্রার্থীরা প্রতিযোগিতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মেধা, যোগ্যতা ও সাহসিকতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাওয়ায় পুলিশ পরিবারের ১২৮ জন এই নবীন সদস্যদেরকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হয়ে দেশ সেবার স্বপ্নে বিভোর তারুণ্যদীপ্ত চাকুরি প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদেরকে খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী সকল কর্মকর্তাগণ পুলিশ সদর দপ্তরের প্রবর্তিত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের নবীন সদস্যদের আনন্দ জোয়ারে অংশীদার হতে পেরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ গর্বিত ও আনন্দিত।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা, বিপিএম, পিপিএম সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছ্বতা, নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করেন এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।