• সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুখলেছুর রহমান ছিলেন একজন সৎ দানবীর ও ভালো মনের মানুষ ফুলপুরে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ পৃথক অভিযানে আটক ২ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের তারাকান্দা ও ধোবাউড়া সফর সাংবাদিক ইমনের বাবার জানাজা সম্পন্ন : দোয়ার দরখাস্ত ‘একই বুথে দুইজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না’- ইউএনও, ফুলপুর মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেলেন ফুলপুরের দুই মুরুব্বি ময়মনসিংহে নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহ-২ আসনে কারাগারে আটক পিতার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন কন্যা কাশফী ময়মনসিংহ-২ আসনে হাতপাখার পক্ষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোট প্রার্থী মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর রিকশা প্রতীকের পক্ষে বিশাল মিছিল

ডাঃ সোহরাব আলীর জীবন বৃত্তান্ত ও অর্জন

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান

ডাঃ সোহরাব আলী বলেন, ১৯৫৮ সালে ক্লাস নাইনে ভর্তি হলাম পিয়ার পুর হাইস্কুলে। তার আগে নারায়ন খোলা জুনিয়র মাদ্রাসায় (বর্তমান নারায়ন খোলা হাই স্কুল ) ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করে আসি। ওখানে অবশ্য ইংরেজী,বাংলা, অংক, আরবী, উর্দু সব বিষয়েই সমান গুরুত্ব দেয়া হতো। ক্লাস ফাইভ থেকেই আমি ওখানে নিয়মিত ফার্স্ট বয় ছিলাম। অত্র স্কুলের নামকরা নিবেদিত শিক্ষক তাঁর নারায়নখোলা বাজারের বাসায় আমাকে নিয়মিত ক্লাসের সময়ের বাইরে ফ্রি কোচিং করাতেন। তিনি আর কেউ নন, জনাব জহির উদ্দিন স্যার। তিনিই আমাকে ইংরেজী ও অংক শিখিয়েছেন। Tenseসহ ইংরেজী গ্রামার স্যার যা শিখিয়েছিলেন পরবর্তী জীবনে আমার উত্থান। এখন পর্যন্ত জহির স্যারের সেই ছবক আমার জীবনের পাথেয় হয়ে আছে । সন্তানের মত করে আদর আর শাসন দিয়ে আমাকে সাইজ করে দিয়েছেন। আজ তিনি বেচে নেই। তবে আমার জীবনে উন্নতির শিখরে পৌছাটা যেন আল্লাহ তায়ালার পর কেবল তারই অবদান। জান্নাতের উচ্চতম স্থানে যেন আমার সৃষ্টিকর্তা তাঁকে স্থান করে দেন । আমিন। মফস্বল ছেড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে পিয়ারপুর রেলস্টেশনে পৌছলেই তখন হয়ে যেত আমাদের জন্য শহুরে পরিবেশ। তেমনি একটি সন্ধিক্ষণে আমি পিয়ারপুর হাইস্কুলের ক্লাস নাইনের একজন মফস্বলী ছাত্র ! প্রত্যহ নদী পাড় হয়ে আমি ওপাড় থেকে নারায়ন খোলা বাজারের উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত এক অজ পাড়াগাঁ –চক পাঠাকাটা গ্রাম। নাইনে তখনকার রোল-১। আব্দুল হাই, রীতিমত স্মার্ট এক ছাত্র। শহুরে ভাব। ফট ফট করে বেশ কিছু ইংরেজীও বলে। ক্লাসেও স্যারদের কাছে তাঁর একটা দারুন আধিপত্য ও গ্রহনযোগ্যতা আছে। প্রথম প্রথম নিজেকে আমার বেশ অসহায় মনে হতো। তারপর আস্তে আস্তে মানিয়ে নিবার চেষ্টা আমাকে সফলতা এনে দিল। মাঝে মাঝেই আমি লা-  ইলাহা ইল্লা আন্তা বলে বুকে ফুঁ দিতাম। তদুপরি আমার খুব স্নেহময় আপন চাচা – রহমান চাচা ছোট বেলা থেকেই আমাকে দীক্ষা দিতেন। যে কোন কঠিন পরিবেশেও কাউকে ভয় পাবিনা, সাহস নিয়ে চলবি। সারা জীবন ওই দীক্ষা আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। নারায়নখোলা স্কুলের চেয়ে অনেক বেশী সংখ্যক ছাত্রকে ডিঙ্গিয়ে ১ম স্থান অধিকার করে ক্লাস  টেনে (দশম শ্রেণীতে) উঠলাম। আমাকে নতুনভাবে আবিস্কার করলেন পিয়ারপুর হাইস্কুলের স্বনামধন্য বি এস সি শিক্ষক শ্রীকৃষ্ণ দাশ স্যার। আমাদের যাত্রা শুরু হল। ১৯৬০ সালে অনুষ্ঠিতব্য Matriculation পরীক্ষা আমাদের Target . স্কুলের হেড মাস্টার অবনী মোহন বাবু অত্যন্ত রাশভারী লোক।  তাঁর কাছে সচরাচর আমার যাওয়া আসা ছিলনা, তবে তিনি আমাকে খুব পছন্দ করতেন ।

এতো সংগ্রামের পর ১৯৬০ সালে মেট্রিক পরীক্ষা দিলাম। সিট পড়েছিল ময়মনসিংহ শহরের জিলা স্কুলে। তখন কিন্তু সমগ্র ময়মনসিংহ জুড়ে একটি মাত্র জিলা শহর। অনেক প্রতীক্ষার পর ফল বের হলো। পরদিন পরিশ্রম করে ঠেলাঠেলি করে পত্রিকার পাতায় ফল খুঁজে পেলাম। প্রথম বিভাগ অংকে লেটার ! মারহাবা ! দশ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল খবর! পুলাডা কেমন দেখার জন্য অসংখ্য লোকের ভিড় হলো আমার বাড়ীতে ও পিয়ারপুর স্কুলে। শ্রীকৃষ্ণ স্যার পরবর্তীতে পরখ করে দেখলেন – অংকে ৮৬ নম্বরের Answer করেছিলাম।  ঠিক তাই পেয়েছি। জ্যামিতির Extra পারিনি বলে ওটা চেষ্টা করিনি। ১৪ নম্বরের উত্তর ছিল ওটা।
সেক্রেটারী জসিম সাবের দায়িত্ব তখনও শেষ করেননি। স্বয়ং নিজে আমাকে ঢাকা নিয়ে গিয়ে ঢাকা কলেজে I.Sc ক্লাসে  ভর্তি করে দিলেন। হোস্টেলে সিট জোগাড় করে দিয়ে বাড়ী ফিরলেন ! এই মহান ব্যক্তিত্বকে আমি কি করে ভুলবো, বলুন ? তাঁর ছোট ছেলে খোকা আমার ক্লাসমেইট ছিল।
আল্লাহ জসিম স্যারকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। এই দোয়াই সারাক্ষণ করি। আমার পরম শ্রদ্ধা শ্রীকৃষ্ণ স্যারের প্রতি। যিনি আমার Mentor এবং পারিবারিক গার্জিয়ান।  অসংখ্য সালাম পিয়ারপুর হাইস্কুলের সকল শিক্ষকবৃন্দের প্রতি ও মৌলভী আহম্মদ স্যারের প্রতি।

রাইসুল ইসলাম রিফাত নামে নকলা উপজেলার এক সাংবাদিক লিখেন, এক জরিপে বিশ্বের “একশত শিক্ষকের একজন” নকলার কৃতি সন্তান ডাঃ সোহরাব আলীর নাম।

ডাঃ সোহরাব আলী বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র বায়োকেমিস্ট্রিতে ডিএসসি ডিগ্রি অর্জনকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের সনদ পুড়িয়ে ফেলা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চক পাঠাকাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন ঃ

১৯৬০ সালে তৎকালীন সময়ের নামকরা পিয়ারপুর হাইস্কুল থেকে তিনি অঙ্কে লেটারসহ প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান এস এস সি) পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই এস সি (বর্তমান এইচএসসি) পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯৭৩ সালে আই পি জি এম আর (পিজি) থেকে বায়োক্যামিস্ট্রিতে এম.ফিল (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রী অর্জন করেন।  ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে এফ.সি.পি.এস ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে শ্রীলংকার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Lead Poisoning নিয়ে কাজ করে সর্বোচ্চ ডিগ্রী Doctor of Science (D. Sc) অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মেডিকেল সাইন্সে D.Sc ডিগ্রী অর্জনকারী ব্যক্তি।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ইলিশ মাছের চর্বি খাওয়ায়ে মানুষের উপর গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন যে, এটা রক্তের কোলেস্টেরল কমানোসহ বিভিন্নভাবে  হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। পেশাগত জীবনে তিনি লিপিড মেটাবলিজম ও পুষ্টি বিষয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

তিনি ৫০ বছর যাবৎ বায়োকেমিস্ট্রিতে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অনেক দেশি, বিদেশি মেডিকেল গবেষণা ইন্সটিটিউট এবং প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৯৫টি গবেষণা প্রতিবেদন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের এবং পরবর্তীতে বিএসএমএমইউ -এর ছাত্র-ছাত্রীদের ২০ বছর যাবৎ এম.ফিল, এম.ডি, এমএস এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রির থিসিস তত্বাবধান করেছেন।

এক জরিপে তিনি বিশ্বের “একশত শিক্ষকের একজন” নির্বাচিত হন।

২০০৬ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইন্সটিটিউটে তিনি বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিবন্ধিত হন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টারে (ক্যামব্রিজ, ইংল্যান্ড) ম্যান অব দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি ১৯৭৭-৭৮ সালে বি.এম.এ. এর সভাপতি ছিলেন। (১৯৯৫-৯৯) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসা অনুষদের ডীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ১৯৯৯-২০০৪ সাল পর্যন্ত (পিএসসি) বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।

তিনি জীবনের দীর্ঘতম সময় (৩০ বছর) একই প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ আইপিজিএমআর (পিজি হাসপাতাল) এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। অত্র বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনশেষে ২০০৫ সালে জুন মাসে অবসর গ্রহন করেন।

এক বছরে (১৯৭৯-১৯৮০) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ডব্লিউ.এইচ. ও ফেলোশিপ ইন ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, বার্মা,  ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া অন ক্লিনিক্যাল বায়োক্যামিস্ট্রি, মেডিকেল এডুকেশন এন্ড নিউট্রিশনে। ১৯৮৪ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল বার্সারী ইন রয়েল ইনফার্মারী, গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য অন প্যাথলজিক্যাল বায়োক্যামিস্ট্রিতে।

১৯৯৭ সালে সিয়েম কনফারেন্স স্পনসরড বাই ডব্লিউএইচও ইন পাতায়া সেন্টার, থাইল্যান্ড অন টিচিং ম্যাথডোলজি, ক্লিনিক্যাল বায়োক্যামিস্ট্রি কনফারেন্স, কলকাতা, ইন্ডিয়া অন কনসেপ্ট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন এ। ১৯৯৮ সালে ল্যাবরেটরি ইকুয়ুপমেন্ট অপারেশনাল ট্রেনিং স্পনসরড বাই টেকনিকন সিঙ্গাপুর অন অটো এনালাইজার টেকনিক, ১৯৯৮-১৯৯৯ এক্সটারনাল এক্সামিনার ইন ক্যামিক্যাল প্যাথলজি ফর এফসিপিএস এক্সামিনেশন, পাকিস্তান কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স এন্ড সার্জনস এট করাচি এন্ড লাহোর।
২০০০ -এ চাইনিজ কনগ্রেস অব ক্লিনিক্যাল ক্যামিস্ট্রি এন্ড ল্যাবরেটরি মেডিসিন, হংকং কনভেনশন সেন্টার, হংকং অন Arsenic Poisoning এ।
২০০১ সালে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিস্টস কনফারেন্স, সাইন্স সিটি, কলকাতা, ইন্ডিয়াতে। মোট ৯৫ টি রাষ্ট্রে তিনি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ডাঃ সোহরাব আলী ঃ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ডাক্তারদের নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা-কমান্ডার ডাঃ কলিমুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় বিভিন্ন স্পটে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন ডাঃ সোহরাব আলী। সেই সময়ে বেশ কয়জন ডাক্তারকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ডাঃ সোহরাব আলী সনদ পান। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের ভোররাতে শাহাবাগের পাশে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে খন্ডযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয়ীবেশে তখনকার রেডিও পাকিস্তান ভবনের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আসেন ডাঃ সোহরাব আলী।  ইতোমধ্যে ওইদিন সকালেই বেতারে আমাদের বিজয়ের ঘোষণা আসে পাক সেনাবাহিনীর আত্নসমর্পনের খবরের মাধ্যমে।

স্বাধীনতার পর তিনি দেখেন তৎকালীন জনৈক আওয়ামী লীগ নেতা বেশ কয়জনের মাঝে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বিতরণ করেন।যাদের কিছুসংখ্যক ছিল Sixteenth Division মুক্তিযোদ্ধা অর্থাৎ তারা ছিল মূলত রাজাকার। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর তারিখে 303 Rifle জমা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে যায়। ওই সনদ নিয়েই তাদের দুজন ’৭৩ ব্যাচের ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পায়। ওরা ডাঃ সোহরাব আলীর বাসার কাছাকাছি এলাকায় থাকতো। তখন ডাঃ সোহরাব আলী ক্ষোভে দু:খে বলেন, “হায় কপাল! আমরা যুদ্ধ করে সনদ পেলাম অন্যরা যুদ্ধ ছাড়াই সনদ নিয়ে এলো।” তখন তিনি রাগে মুক্তিযুদ্ধের সনদ পুড়ে ফেলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন আমি যোদ্ধা হিসেবে বেঁচে থাকতে চাইনা। চাই ডাঃ সোহরাব আলী হিসেবে বাঁচতে। তিনি বলেন,” মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে যেহেতু নকল ঢুকেছে সেহেতু আসল সার্টিফিকেট নিয়েই লাভ কী? তাই, আজীবন আমি শুধু ডাঃ সোহরাব আলী হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। মুঠোফোনে সাক্ষাৎকারে “তিনি বলেন, দোয়া করবেন আমি যেন সেবা দিয়ে মানুষের পাশে থেকে মৃত্যুবরণ করতে পারি।”

সর্বোপরি ডাঃ সোহরাব নানান ত্যাগ ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সারাদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাকে নিয়ে গর্ব ও প্রশংসায় মেতে উঠেছেন নকলার সুশীল সমাজ।

* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা