মো. আব্দুল মান্নান
কারা নির্যাতিত সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার খোঁজ খবর নিলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাংবাদিক নেতা ফুলপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক সংবাদের ফুলপুর প্রতিনিধি নুরুল আমিন। আজ বুধবার (১৩ মার্চ) পার্শ্ববর্তী উপজেলা শেরপুরের নকলায় সাংবাদিক রানার বাসায় গিয়ে তার খোঁজ খবর নেন তিনি।
জানা যায়, দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ৫ মার্চ নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে তথ্য চাইতে গেলে সেখানে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৬ মাসের জেল দেওয়া হয়। নকলার ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন নিজে ওই অভিযানের অনুমোদন দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। অবশেষে গতকাল ১২ মার্চ শুনানিশেষে শেরপুরের অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার তার জামিন মঞ্জুর করেন। সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আধার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এপিপি আরিফুর রহমান সুমন।
সম্পাদক পরিষদের এক বিবৃতিতে ‘অবাধ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নষ্ট ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর এ আইনের ব্যবহার এ মুহূর্তে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ও ব্যক্তিস্বার্থে যারা এ আইনের চরম অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে মুক্তি পাওয়ার পর সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শফিউজ্জামান রানা। তার সাজার ঘটনায় তথ্য কমিশন দ্রুত অনুসন্ধানের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেজন্য কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া উম্মুল বানিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিহাবুল আরিফকে প্রত্যাহার করা হতে পারে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, যে প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক রানাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার অন্যতম শর্ত, অভিযুক্ত নিজে তার দোষ স্বীকার করতে হবে। অথচ এক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, তাকে আটকের পর জোর করে চাপ প্রয়োগ করে অপরাধ স্বীকার করানো হয়। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। এ ঘটনায় ইউএনও-এসিল্যান্ড দুজনকে শিগগিরই প্রত্যাহার করে সেখানে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হতে পারে।