ময়মনসিংহের ফুলপুরে জুমার নামাজ পড়ানোর সময় এক ইমামকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইত্তেফাকুল উলামা ফুলপুর উপজেলা শাখা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইমামের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন আলেম-উলামারা।
জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার ভাইটকান্দি পূর্বপাড়ার সোরহাব চেয়ারম্যানের বাড়ির মসজিদে জুমার নামাজ পড়ানোর সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইমাম হাফেজ মাওলানা আল আমিনকে আবু কাউসার নামে এক ব্যক্তি শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও বা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ইত্তেফাকুল উলামা ফুলপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ নির্যাতিত ইমাম হাফেজ মাওলানা আল আমিনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খোঁজখবর নেন। পরে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের নিচতলায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমাম আল আমিন ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আলেম-উলামাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

পরে ইত্তেফাকুল উলামার নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সভাপতি আমজাদ হুসাইনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা বলেন, একজন ইমামকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা শুধু ওই ইমামের ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়; এটি আলেম-উলামাদের সম্মান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। জবাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি উলামায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে সুরাহার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী ইমাম হাফেজ মাওলানা আল আমিন জানান, এ ঘটনায় তিনি ফুলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অগ্রগতি জানতে ইত্তেফাকুল উলামার নেতৃবৃন্দ পরে ফুলপুর থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন।
এ সময় ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন উলামায়ে কেরামের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে তিনবার গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাকুল উলামার নেতৃবৃন্দ বলেন, মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তিকে হেনস্তা বা অপমান করার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন, শায়খে বালিয়ার খলিফা মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, ইত্তেফাকুল উলামা ফুলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ, কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, গোদারিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আওলাদ হোসেন, ইত্তেফাক নেতা হাফেজ মাওলানা মাহমুদুর রহমান মানিক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুক, হাফেজ মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা আনিছুর রহমান, মুফতী ইখলাছ উদ্দীন, মুফতী উবায়দুল্লাহ, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ, মাওলানা ফারুক, মাওলানা ইবরাহীম, হাফেজ মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।