মো. আব্দুল মান্নান
উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযানে যোগদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি মেধাবী ছাত্র কৌশিক আহমেদ (২২)। তিনি ফুলপুর পৌরসভার গ্রীন রোডের বাসিন্দা ফেরদৌস আহমেদ খান স্বপন ও মমতাজ নাসরিনের ছেলে এবং রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রীপল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের গ্রামের বাড়ি উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের খালসাইদকোণায়।
জানা যায়, বিশ্ব যুব উৎসব উপলক্ষে রাশিয়ার জাতীয় পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’ কর্তৃক রাশিয়ার সোচি শহরে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ওই অভিযানে যোগদানের জন্য নির্বাচিত হন কৌশিক। এ অভিযানের জন্য বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, ক্যামেরুন, তিউনিসিয়া, বেলারুশ ও রাশিয়াসহ ৮টি দেশের ১৪ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কৌশিক তৃতীয়।

কৌশিকের হাতে খড়ি ফুলপুর কেজি স্কুলে। এরপর ৩য় থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে। এরপর ফুলপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি ও আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। প্রতি ক্লাসেই তিনি বৃত্তি পেয়েছেন। তারপর কৌশিক আহমেদ রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০২৩ সনে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সারাদেশে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। পরে ওখান থেকে ওয়ার্ল্ড ইয়থ ফেস্টিভ্যাল বা বিশ্ব যুব উৎসব ২০২৪-এ ডাক পান তিনি। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫ মার্চ রোসাটম কর্তৃক ঘোষিত ফলাফলে উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযানে যোগদানের জন্য নির্বাচিত হন কৌশিক আহমেদ।

তিনি বর্তমানে রাশিয়ায় রয়েছেন। রাশিয়া থেকে এমফিল করার সুযোগও তাকে দেওয়া হবে বলে জানা যায়।
কৌশিকের বাবা একজন ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। তার বড়বোন ফাবিহা উলফাত সুপ্তি একজন ইঞ্জিনিয়ার। তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। তার চাচা ফরহাদ আহম্মদ খান যুগ্ম সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২)।

জানা যায়, উত্তর মেরুর উরাল ও আর্কটিক অঞ্চলে অভিযান তো দূরের কথা শুধু পরিদর্শন করাই এক রকম আকাশ কুসুম কল্পনার মতো। রাশিয়ার সোচি শহরে আয়োজিত বিশ্ব যুব উৎসবে বাংলাদেশ থেকে ৯৫ জন যুব অংশ নেন। এর মধ্যে তিনি একাই উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২ হাজার প্রতিযোগী আবেদন জমা দেন। কয়েক ধাপে তাদের যোগ্যতা যাচাই বাছাইয়ের পর ৮ দেশের ১৪ জনকে উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযানে যোগদানের জন্য নির্বাচিত করে রোসাটম কর্তৃপক্ষ। কৌশিক বলেন, রোসাটমের পারমাণবিক আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরুতে অভিযানে যাওয়া স্বপ্নের মতো। এটা আমার অর্জন নয় বরং এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন। এটা বাংলাদেশের অর্জন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমি দেশের জন্য কিছু করতে চাই। বিশ্ব যুব উৎসবে যোগদান করে তিনি যা শিখেছেন তা সকলের উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দিবেন বলেও কৌশিক জানান।

কৌশিক আহমেদের পিতা ফেরদৌস আহমেদ খান স্বপন বলেন, ছেলের সফলতার কথা শুনে মনটা ভরে গেছে। রাশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে তাকে সনদ দিয়েছেন। সেখানে তাকে এমফিল করার জন্য অফার দেওয়া হয়েছে। আমি এতে খুশি। আল্লাহ তায়ালা তাকে সুস্থ রাখুক। ভাল রাখুক। ঈমানের সাথে রাখুক।
বিশ্ব যুব উৎসবে যোগদানকারী বাংলাদেশ টিমের প্রধান তারেক মাহমুদ ফারহান বলেন, কৌশিক বাংলাদেশের অহংকার। তার এ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব যুব উৎসবের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সাথে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। এটা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি আরও বলেন, উত্তর মেরুর এ অভিযান থেকে অংশগ্রহণকারীরা যে জ্ঞান ও ধারণা পাবেন তা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হতে পারে।