ড. মাহমূদ বিন সাঈদ
চরমোনাই, ছারছীনা, মিল্লাত ও ঢাকা আলিয়ার মত চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার ইলমী জীবনের সব চেয়ে উর্বর সময় কেটেছে। চার জায়গায় আমি উস্তাদদের নেক নজরের ছাত্র ছিলাম। তাদের প্রিয় ছাত্রকে নিয়ে তারা গর্ব করতেন। জীবিতরা এখনো করেন। তাদের সাথে মাঝে মাঝে কথাও হয়। খোঁজ খবর আদান প্রদান করি। প্রতিষ্ঠান গুলোর ইলম চর্চার ক্ষেত্রে ছারছীনার অবস্থান শীর্ষে।

ঢাবিসহ অনেক ইউনির পাশাপাশি মিল্লাতে অনেকে ভর্তি হতেন। আমিও তাই করেছি। তবে চরমোনাই ছেড়ে ছারছীনায় ভর্তি হয়ে নিজেকে খালে সাঁতার শিখে নদীতে সাঁতার প্রতিযোগী মনে হয়েছে। মিল্লাতে কামিল হাদীসে পড়েও অনেকটা ছারছীনার ফাযিল পড়ার মত মনে হয়েছে।

ঘুমের ঘুরে এখনো আমি দেখি এই তিন/চার জায়গায় বন্ধুদের সাথে ক্লাসে কিংবা কোন প্রোগ্রামে। উস্তাদদের কথা মনে হলে আর ভালো লাগে না। অধিকাংশ উস্তাদ আখিরাতের অনন্ত কালের যাত্রী হয়েছেন।
ছারছীনার উস্তাদদের মাঝে সর্বশেষ চাকুরীরত উস্তাদ ড. সাইয়্যেদ শারাফাত হোসাইন (অধ্যক্ষ হুযূর ) গত মাসে অবসরে চলে গেছেন। আমার প্রিয় উসতায মাওলানা রফীকুল্লাহ নেছারী হুজুর এখন অনেক অসুস্থ। আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করুন। আরো জীবিত আছেন আমার আরবী সাহিত্যের উসতায ড. কাফিলুদ্দীন সালেহী হুজুর। শুনেছি ছারছীনার বাংলা স্যার (হারুন-অর-রশীদ) এখনো জীবিত আছেন।

মিল্লাতের উস্তাদদের মাঝে জীবিত আছেন ড. ইউসুফ উস্তাদ, ড. শাহজাহান উস্তাদ। চরমোনাইর উস্তাদদের মাঝে সম্ভবত: মাওলানা আহমাদুল্লাহ হুজুর জীবিত আছেন।
আল্লাহর কাছে রমাদানের পূর্বে বিশেষ ফরিয়াদ, আল্লাহ! আমার সকল উস্তাদদেরকে রহমাত, মাগফিরাত, জান্নাত দান করুন। সব কটি প্রতিষ্ঠানকে দ্বীনী মেধাবী আলিম তৈরির তৌফিক দিন। আমীন।
লেখক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক
বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী।
ছবি : ছারছীনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদরাসার শিক্ষা ভবন।