রুকনুজ্জামান খান অঞ্জন
গতকাল মঙ্গলবার (৫ মার্চ) পুবাইল গিয়েছিলাম। একটা রিপোর্টের কাজে। আইয়ুব ভাইকে আগের দিন বলে রেখেছিলাম। তিনি আমার প্রথম পত্রিকা দৈনিক সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি। সকাল থেকে পুবাইল বাজারে বসে আছেন। জোর করে বাসায় নিয়ে গেলেন। দেখি হুলস্থুল কাণ্ড। পাকঘরে ভাবী রান্না করছেন। মশলার গন্ধে পেটের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। আইয়ুব ভাই কইলেন, নীল ভাবীকে তো নিয়ে আসলেন না। গতবার আসছিলেন। বৃষ্টির জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারিনি। চলেন, নীল ভাবীর জন্য কিছু লাউশাক দিয়ে দেই। ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে লাউশাক তুললেন। খুজে খুজে বিশাল সাইজ মিষ্টি কমুড়া তুললেন। এবার ক্ষিরার ক্ষেতে গিয়ে বেছে বেছে ক্ষিরা তুললেন প্রায় কেজি দুয়েক। অহন কয়, ভাই কিছু কাঁচামরিচ লইয়া যান ক্ষেতের। আমি কোনমতে থামাইলাম তারে। বাসায় খানাপিনার পর দুইটা ব্যাগে এসব ভরে দিলেন। এর সঙ্গে দিলেন গাছের তেতুল। খানাপিনার পর উঠবো। ভাবী, ভাতিজি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাদের ঢাকায় নিমন্ত্রণ জানিয়ে বাইক স্টার্ট দিলাম।
পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে এই ধরণের নিখাদ ভালোবাসার ঘটনাগুলো ঘটে। এর কোন ব্যাখ্যা নাই। এইখানেই সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে ধরা। তারা হয়তো নিমন্ত্রণ করে আপনাকে ভালোমন্দ খাওয়াবে। কিন্তু বিদায় বেলায় ক্ষেতের শাকটা, মুলাটা, কচুটা আপনার বাড়ির জন্য তুলে দেবে না।
কথা ঠিক কি-না ওসমান গণি ভাই ?
* লেখক :
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
* লেখাটি উনার ফেইসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।