মো. আব্দুল মান্নান
আলোকিত হালুয়াঘাট গড়তে চান আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান (কামরুল)। কিন্তু কে এই কামরুল?
জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামরুজ্জামান (কামরুল) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১০ নং ধুরাইল ইউনিয়নের ধরাবন্নী গ্রামের কৃতি সন্তান। ইতোমধ্যে নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে তিনি কিন্তু অনেকটাই নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন এবং তুলে ধরেছেন। এখন তিনি আর অপরিচিত কেউ নন। তিনি ধরাবন্নী গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ আরমান আলী সরকার ও মোছাঃ শামসুন্নাহারের ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ ৮ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান। ১৯৮৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি সম্ভ্রান্ত ও খান্দানী মুসলিম পরিবারে তার জন্ম হয়। তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে তিনজনই পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ও মানবিক মানুষ।
পাবিয়াজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কামরুলের হাতে খড়ি। সেখান থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর পাবিয়াজুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণীর পাঠ সমাপ্ত করে পরবর্তীতে ময়মনসিংহের মাসকান্দায় অবস্থিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) -তে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০০ সালে গৌরবের সাথে তিনি এসএসসি (ভোকেশনাল) পাশ করেন। এরপর ২০০৪ সালে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন।
২০০৫ সালে বাংলাদেশের সনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ‘ইসলাম গ্রুপ’-এর হেড অফিস ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ -এর ইউটিলিটি ডিপার্টমেন্টে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ -এর ‘সহকারী জেনারেল ম্যানেজার’ হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি ২০১০ সালে অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং -এ বিএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।এছাড়া চাকুরিরত অবস্থায় ‘বন্ধন কনস্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তিনি একটি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করেন।
২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল ‘বন্ধন কনস্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ’- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম.ডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ৫০ শতাংশ টাকা তিনি তার নিজ এলাকার দুঃস্থ, অসহায় ও গরিব মানুষের সেবায় ব্যয় করে আসছেন। হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিকভাবে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন।
মানবসেবায় ব্রতী হয়ে বৃহৎ পরিসরে গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে সামাজিক ‘বন্ধন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে শীত বস্ত্র বিতরণ, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণসহ আর্থিক সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করে চলেছেন কামরুল। ২০২০ সালে সারাদেশব্যাপী যখন করোনা মহামারি শুরু হয় তখন হালুয়াঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, নগদ অর্থ, করোনা সুরক্ষা সামগ্রী ও বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছেন তিনি। প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনযাপনকে সহজতর করতে হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় ২০২৩ সালে হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তিনি বৃক্ষ রোপন করে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। তার বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে সাধারণের কাছে পরিচিত করে তুলছেন। তার স্লোগান হলো- ভুপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানের চরণ ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’।
তিনি দৃঢ় চিত্তে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে যাচ্ছেন, ‘টাকা নিয়ে যেহেতু কবরে যাওয়া যাবে না তাই সমস্ত টাকা মানুষের জন্য মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিবো।’
বিভিন্ন সময় নিজ অর্থায়নে তিনি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। মানবিক এ মানুষটি নিজ এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে কাজ করেন বাহিরেও। কুড়িগ্রামে ভয়াল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝেও তিনি খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন আর্তপীড়িত মানুষের কাছে। নিজে ঘুরে ঘুরে বন্যা পীড়িত মানুষের মাঝে পানিতে ভিজে পৌছে দিয়েছেন জরুরি খাদ্য সামগ্রী।
এছাড়া বিভিন্ন সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝেও তিনি আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তাদের সুখে দুখে পাশে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল। হালুয়াঘাট উপজেলার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তিনি প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র সংগঠনে ইফতার মাহফিল ও নানান আয়োজনে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছেন ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল। বলা যায় তিনি একজন কর্মবীর মানবিক মানুষ। তাকে কেউ কেউ ‘দানবীর কামরুল’ বলেও অভিহিত করে থাকেন। তিনি বর্তমানে ঢাকাস্থ হালুয়াঘাট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০০ সাল থেকে ছাত্র থাকাকালীন পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ১৪৭, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি ও তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে তিনি নিরলস দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে একজন প্রকৌশলী হিসেবে তিনি নিজেকে নানাবিধ কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়োজিত রেখেছেন। মানবিকতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরন্তর ছুটে চলেছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। হালুয়াঘাটকে গড়তে চান স্বপ্নের স্মার্ট হালুয়াঘাট তথা আলোকিত হালুয়াঘাট হিসেবে। যে কারণে তিনি উপজেলার প্রতিটি কোণায় কোণায় যাচ্ছেন। কাজ করছেন নিবেদিত প্রাণ হয়ে। তার এ ইচ্ছা যাতে সঠিকভাবে তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন এজন্য হালুয়াঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান হতে চান এবং এ ব্যাপারে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান কামরুল।