ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আমরা একত্রে কাজ করার স্মৃতিকে লালন করি’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরাম, ফুলপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ ইউসুফকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, ফুলপুরে স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ কাজ করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার আন্তরিকতার অভাব ছিল না।
যায়যায়দিনের সাংবাদিক শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ ইউসুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম এবং ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নিউ নেশনের সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর মুকুল, দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, দৈনিক আমার দেশের সাংবাদিক সিদ্দিকুল হাসান, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সাংবাদিক আব্দুল মান্নান, ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাফায়েত জামিল সাজু, ফুলপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ফুলপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক সরকার, ফুলপুর পৌর যুব জামায়াতের সেক্রেটারি জামিল আহমেদ সৌরভ, নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও জুলাই যোদ্ধা সামাদ খান নাঈম, যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরাম ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম হৃদয় প্রমুখ।
বিদায়ী বক্তব্যে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এর আগেও এখানে একটি বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান কামুকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আমার দাওয়াত ছিল কিন্তু আসতে পারিনি। আজ এসে মনে হলো- শত ব্যস্ততার মধ্যেও ওই অনুষ্ঠানটিতে আমার আসা উচিত ছিল। আপনাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ইউএনও হিসেবে ফুলপুর আমার প্রথম স্টেশন। এখানের মানুষের ভালোবাসা আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসির ভুয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া আমার দায়িত্ব পালন এতটা সহজ ও সুন্দর হতো না।
তিনি বলেন, নতুন জায়গায় এসে আমি পুরান কাউকে না পেয়ে অনেক সময় কোন ফাইলটা কোথায় আছে তা বের করতেও কষ্ট হয়েছে। জুন ক্লোজিং, ঈদের ছুটি ও পারিবারিক সমস্যাসহ ওই সময়টাতে নানা চাপ সামলাতে হয়েছে। নতুন যোগদান করায় সবাইকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারায় অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার কোনো কথা বা কাজে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তিনি বলেন, ফুলপুরের উন্নয়নের ব্যাপারে সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। এসিল্যান্ড ও ওসি তারাও খুব পুরান নয় এখানে। বলতে গেলে তারাও নতুন। তারপরও তাদেরকে নিয়ে আমি বিশেষভাবে বৈঠক করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যে, কিভাবে ফুলপুরবাসীকে আরও সেবা দেওয়া যায়। তিনি বলেন, আমার সহধর্মিণী ঢাকায় চাকরি করেন। এছাড়া আমার বাবা অসুস্থ। এজন্য ডিসি স্যারকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে, আমার পোস্টিংটা ঢাকার সাইডে হলে ভালো হতো। পরে স্যার সেভাবেই ব্যবস্থা করেছেন। যাক, সর্বোপরি কথা হলো- এখানের মানুষের ভালোবাসা ও এখানকার অসংখ্য স্মৃতি আমি আজীবন হৃদয়ে লালন করব।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ ইউসুফের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু কামনা করে নতুন কর্মস্থলে (ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গফরগাঁও দক্ষিণে) যাতে আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন সেজন্য উনাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানসহ উনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।