মো. আব্দুল মান্নান
১৪৬, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক সায়েম আওয়ামী লীগের অসৎ নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, একটা কার্ড বিক্রি করেছেন গরিবের ৫ হাজার টাকায়। আমার নেত্রীকে বেইজ্জতি করেছেন। শিশু ভাতার কার্ড বিক্রি করেছেন আমার প্রধানমন্ত্রীকে বেইজ্জতি করেছেন। ১০ টাকা কেজির চাল, টাকার বিনিময়ে কার্ড দিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বেইজ্জতি করেছেন। এসব করেছেন বলেই মানুষ আপনাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। মানুষ আমাদের পক্ষে এসেছেন। ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের কুমুরিয়া নড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা যদি শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রকল্প হতে টাকা চুরি করি তাহলে আমাদেরকেও বাদ দিয়ে দিবেন। এসময় ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করে এমপি সায়েম বলেন, এমন কোন পরিবারের সন্তান নয় সে যে তাকে নিয়ে অনেক গল্প করা যাবে। আমি দয়া করেছিলাম, সে চেয়ারম্যান হয়েছে। দয়া করবো না, আর পারবে না। সব পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম।
এরপর তিনি বলেন, সকল সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে বাদ দিয়ে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। উদ্দেশ্য একটাই, আপনাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নত করা। আপনাদেরকে আরেকটু সহজ জীবনের পথ দেখানো। রাস্তাঘাটগুলোকে পাকা করা। ব্রিজ কালভার্টগুলো করে দেওয়া।
হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ার ১৭০০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে বিগত ৩৩ বছরে মাত্র সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করেছে। আরও সাড়ে ১৩০০ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করতে হবে।
এসময় তিনি তার জনপ্রিয়তার চিত্র তুলে ধরে বলেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের নির্বাচনে আমি পেয়েছি ৯৮ ভোট আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিল ২২ ভোট। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সময় আমি পেয়েছি ৪৯ হাজার ভোট আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিল মাত্র ১১ হাজার ভোট। এমপি নির্বাচনে আমি ভোট পেয়েছি লক্ষাধিক। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সত্যিকারের ভোট ৪০ হাজারের উপরে নয়। এই কেন্দ্রেও আমাকে ২২০০ ভোট দেওয়া হয়নি। এই যে বোকামিটা হলো, এর জন্য আপনারা এখন হীনমন্যতায় ভুগছেন। আমার কাছে আসতে পারেন না। মনে মনে মনে হয় হায়রে সায়েমরে ভোটটা দিলাম না কেয়া! যাক, যা হয়েছে, হয়েছে। ওইগুলো ভুলে যান। আমি মানুষের এত ভালবাসা পেয়েছি যেটা রাখার জায়গা আমার নেই। পুরা উপজেলায় কেউ আপনাদের ছেলেকে খারাপ বলে না। তবে হ্যাঁ, একটা পক্ষ খারাপ বলেছে। যারা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারাও আওয়ামী লীগ করে! কম্বল চুরির আওয়ামী লীগ! কিন্তু জেনে রাখবেন, কম্বল চুরির দিন শেষ। টিআর কাবিখা চুরির দিন শেষ। কার্ড বিক্রির দিন শেষ। যারা এগুলো করেছেন তারা প্রধানমন্ত্রীকে বেইজ্জতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কষ্ট দিয়েছেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, গত কদিন আগে এলজিইডি ভবনে গিয়েছিলাম। ভাষা শহীদ ঘাটে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি ব্রিজের জন্য ৭ কোটি টাকা, ৭৫ মিটার বাতাঘাটা ব্রিজের জন্য ৫ কোটি ও ৬০ মিটার নাগধরা ব্রিজের জন্য সাড়ে ৪ কোটিসহ এই নড়াইল ইউনিয়নের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ নিয়ে এসেছি। এছাড়া বিকেকে উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি ৫তলা, কুমুরিয়া নড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি ৪ তলা ও পূর্ব নড়াইল দাখিল মাদরাসার জন্য একটি এক তলা ভবন করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন এমপি সায়েম।
প্রায় ২০ মিনিটের বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, আমরা যে ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছি তাদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, এরা হলো আমার হীরার টুকরা! সবশেষে তিনি বলেন, আমরা একে অপরের বন্ধু। আমাদের মাঝে কাউকে দূরত্ব সৃষ্টি করতে দিয়েন না। সামনে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আসতেছে। সবাই সতর্ক থাকবেন।
এসময় হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবির বেগ, শাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, ৮নং নড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।