মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ২নং রামভদ্রপুর ইউনিয়নের টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. রোকনুজ্জামান রোকনের ভাতিজি তামান্না বিনতে আলহাজ্ব মো. এস্রাকুজ্জামান ও একমাত্র পুত্র মো. তারেকুজ্জামান সরকারের শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি হেলিকপ্টার দিয়ে তারেক নববধূ আফিফাহ্ আক্তারকে উঠিয়ে আনেন। আফিফাহ্ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জগৎগঞ্জের নাওগাঁও গ্রামের বিশিষ্ট ধনাঢ্য ব্যক্তি মো. আব্দুল হাই ও মোছা: ছালমা খাতুনের একমাত্র কন্যা।

আর রোকনের ভাতিজি আলহাজ্ব মো. এস্রাকুজ্জামান ও হাবিবা জামানের কন্যা তামান্নাকে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাকেও হেলিকপ্টারে উঠিয়ে নেন বর আলিফ আহাম্মেদ হৃদয়। হৃদয় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা গ্রামের বিশিষ্ট ধনাঢ্য ব্যক্তি আলহাজ্ব মো. সাইফুদ্দিন আহাম্মেদ বকুল ও জাহানারা বকুলের পুত্র।

জানা যায়, তারেকের নববধূকে উঠিয়ে আনার সময় ২৬টি হায়েস গাড়িতে করে বরযাত্রীরা যান। এছাড়া মোটরসাইকেলে করে কতজন গিয়েছেন তা জানা যায়নি। এ উপলক্ষে শুক্রবার তাদের বাড়িতে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ১৫ হাজার দাওয়াতি মেহমান অংশ নেন। এর মধ্যে চীনের ১ জন ও কুয়েতের রয়েছেন ৪ জন বিশেষ মেহমান। বিদেশি এসব মেহমানের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ অনুষ্ঠানটি অনেক আনন্দমুখর হয়েছে। তাদের সাথে নারী পুরুষ ছাত্র শিক্ষক অনেককে সেলফি তুলতে দেখা গেছে।

রোকন চেয়ারম্যানের পুরাতন ডাকবাংলার ৫ তলা ভবনের কেয়ার টেকার আব্দুল হাকিম জানান, এ উপলক্ষে মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য ৮টি গরু ও ২৭টি খাসি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া মুরগী ও অন্যান্য আসবাবের হিসাব জানা যায়নি।
বড় বড় ৩-৪টি গেট করা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের সড়ক থেকে যেসব পথ তাদের বাড়িতে যুক্ত হয়েছে বাড়ি তো বটেই প্রতিটি পথও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। উন্নত বাবুর্চি ও মেসিয়ার দিয়ে খানা পরিবেশন করানো হয়েছে। প্রতিরি আইটেম অত্যন্ত সুস্বাদু ও মজার হয়েছে বলে মেহমানরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারাকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রমুখ আপ্যায়নে অংশ নেন।
অভ্যর্থনায় ছিলেন, মাহিয়া, আয়েশা, তাজবীহ ও দোয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন দাওয়াতি মেহমান ছাড়াও কয়েক হাজার অতিরিক্ত লোক খানায় অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়েছে বলে মেহমানরা জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, বড় আয়োজন ছিল।

অনিচ্ছাকৃত অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে থাকতে পারে। ভীড় দেখে হয়তো কেউ না খেয়েও চলে যেতে পারেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ত্রুটিগুলো সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমার একমাত্র পুত্র ও ভাতিজির দাম্পত্য জীবন যাতে সুখময় হয় এজন্য সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।