মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের আলালপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জনসহ ৭ জন নিহতের ঘটনায় ফুলপুরের চর আশাবট গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

এক আত্মীয়ের লাশ দেখতে গিয়ে নিজেই লাশ হয়ে ফিরলেন আবুল খায়ের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান সরকার বাবলু (৫১)। স্ত্রী সুমাইয়া জাহান শিলা (৩৭) ও ৪ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সন্তান সাদমান সাকিব (৭)সহ মর্মান্তিকভাবে সড়কে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন বাবলু।
জানা যায়, শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার সময় ফুলপুর হতে ময়মনসিংহগামী সিএনজির সাথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শেরপুরগামী আদিল সরকার নামীয় একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ফুলপুর উপজেলার চর আশাবট গ্রামের করিম মাস্টার ও নূরুন্নাহার বিবির বড় ছেলে নুরুজ্জামান বাবলু, বাবলুর স্ত্রী শিলা ও ছোট ছেলে সন্তান সাদমান (৭)সহ ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হয়। তারা ময়মনসিংহের চর খরিচায় এক আত্মীয়ের জানাযায় অংশগ্রহণ করতে রওনা হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা সারা দেশের গণমাধ্যম প্রচার করে। বাবলুর নিজ গ্রাম চর আশাবটসহ পুরা ফুলপুরে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে রাত ৯টার দিকে তাদের লাশ বাড়িতে আনা হয়। ২টি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের তিনজনের লাশ বাড়িতে আনা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে চর আশাবট ও এর আশপাশ এলাকার লোকজন তাদের বাড়িতে ভীড় করে। লাশের গাড়ি বাড়িতে এসে পৌঁছলে বুকফাটা কান্নায় আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠে। তিনটি খাটকির উপর তাদের লাশ সাজিয়ে রাখা হয়। লাশ দেখে বাবলুর এতিম সন্তানাদি, বৃদ্ধ মা বাবা, ভাই বোন ও আত্মীয় স্বজনরা চিৎকার করে কান্না শুরু করেন। তাদের কান্নাকাটিতে উপস্থিত কেউ তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। সবার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু।
বাবলুর ছোট সন্তান মা-বাবার সাথে মারা যায় আর বাড়িতে আছে নুসরাত (১০ম), নুসাইবা (৮ম) ও হিফজখানায় অধ্যয়নরত আবু সিনানসহ তিন সন্তান।
নুসরাত ও নুসাইবা কেঁদে কেঁদে বলে আব্বু সকাল বেলায় যাওয়ার সময় আমাকে বলেছে যে, মা, আমার কাপড়গুলো ইস্ত্রি করে দাও। আমি জানাজায় যাবো। পরে আমি আব্বুর কাপড় ইস্ত্রি করে দিছি। আব্বু কইছে জানাজা পইড়া আয়া পড়বো। কই আব্বু তো আর আইলো না! অহন আমরারে আর কেডা দেখবো? কেডা মা বলে ডাক দিবো? কেডা আদর করবো?
একইভাবে বাবলুর বৃদ্ধ বাবা আব্দুল করিম মাস্টার ও তার মা নূরুন্নাহার বিবিসহ আত্মীয়রা সবাই কাঁদতে কাঁদতে মুচড়ে যাচ্ছিলেন।
অবশেষে রাত সাড়ে ১০টায় তাদেরকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদেরকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন।