মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের চর খরিচায় ফুফু শ্বাশুড়ির লাশ দেখতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো আবুল খায়ের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান সরকার বাবলুর পরিবার। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি (৫১) নিজে, তার স্ত্রী সুমাইয়া জাহান শিলা (৩৭) ও তার ছোট ছেলে নূরানী ক্লাসের ছাত্র সাদমান (৭) সবাই ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আজ শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের আলালপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিএনজি চালক ফুলপুর পৌরসভার দিউ গ্রামের আল আমিন (৪০), সিংহেশ্বরের আলহাজ্ব আব্দুল বারেক মন্ডল (৫৫), কুটুরাকান্দার ফয়েজ উদ্দিন (৫২) ও ধোবাউড়ার উত্তরকান্দা গ্রামের গোলাম মোস্তফাও (৫০) মারা গেছেন। জানা যায়, ঢাকা থেকে শেরপুরগামী আদিল সরকার নামীয় একটি পরিবহন ময়মনসিংহগামী তাদের সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে ওই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। বাবলু ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চর আশাবট গ্রামের বড়বাড়ির সন্তান। তার বাবার নাম আলহাজ্ব আব্দুল করিম মাস্টার।
বাবলু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার সুবিধার্থে ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই রোডে অবস্থিত জামিয়া সাদিয়া মহিলা মাদ্রাসা, গোদারিয়ার মুহতামিম মাওলানা মতিউর রহমান শেখ বলেন, সকালেও বাবলু ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে। তিনি আমাদের পাশের বাসায় থাকতেন। আসলে মৃত্যু মানুষের এতই নিকটে যে তা কল্পনা করা যায় না।
বর্তমানে তার লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে আছে।
এসব লাশ উদ্ধারে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী হাসপাতালে তাদের দেখতে যান এবং প্রত্যেক লাশ দাফন বাবদ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেন।
এর আগে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারাকান্দায় বটতলা নামক স্থানে অজ্ঞাত বাসের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী আলফাজ উদ্দিন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সে মযমনসিংহ সদর উপজেলার চুরখাই বাজারের আলম মিয়ার পুত্র।